অনিশ্চিত গন্তব্যে যন্ত্রণার দিন
রিপন আকন্দ, গাইবান্ধা
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫৮ এএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ১২:০২ পিএম
গুলিবিদ্ধ ডান হাতে এখনও কোনো কাজ করতে পারেন না সাংবাদিক জাভেদ হোসেন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন তারা। রংপুরের মমদেল হারিয়েছেন পা, কিশোরগঞ্জের শুভর দুই পা এখনও ভালো হয়নি, গাইবান্ধার জাভেদ ডান হাতে যন্ত্রণায় দিন পার করছেন। তারা জানেন না ভবিষ্যতে তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে।
শরীরে ১৬টি রাবার বুলেটের ক্ষত সেরে উঠলেও ডান হাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা ছররা গুলির ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তিন সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধা শহরের এসকেএস হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি সেন্টারে নিয়মিত হাতের চিকিৎসা নিচ্ছেন স্থানীয় সাংবাদিক জাভেদ হোসেন। চিকিৎসা শেষে ডান হাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করতে পারবেন কি না, তা-ও অনিশ্চিত এখনও।
গত ৪ আগস্ট গাইবান্ধায় অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। তারা মিছিল নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় তিন সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক ছাত্র-জনতা আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে তিন সাংবাদিককে ভর্তি করা হয় গাইবান্ধা শহরের এসকেএস হাসপাতালে। সেখানে ঢাকা টাইমসের জেলা প্রতিনিধি জাভেদ হোসেনের শরীর থেকে ১৫টি ছররা গুলি বের করা হয়।
সহযোগিতা দূরের কথা, এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে আসেনি। তবে জেলা তথ্য অফিস গুলিবিদ্ধ সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ পর্যন্ত কারও কোনো সহযোগিতা পাইনি
পরবর্তী সময়ে এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায় জাভেদ হোসেনের ডান হাতে আরও দুটি গুলি রয়েছে। এর সপ্তাহখানেক পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জাভেদের ডান হাতের কবজি থেকে দুটি ছররা গুলি বের করা হয়। অপারেশনে গুলি অপসারণ হলেও এখন পর্যন্ত তীব্র ব্যথায় জর্জরিত তার ডান হাত। ভারী কিছু তোলা দূরের কথা, মোটরসাইকেল চালাতেও কষ্ট হয়।
গুলিবিদ্ধ আহত সাংবাদিক জাভেদ হোসেন বলেন, ‘৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ডাকা অসহযোগ আন্দোলনে মারাত্মক আহত হই। সেদিন আমার শরীরে ১৬টি ছররা গুলি বিদ্ধ হয়। তার পর থেকে আমার ডান হাতের অবস্থা এতটাই খারাপ যে এখনও সেরে উঠতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, আমার হাতের ক্ষত সারানোর জন্য ইতোমধ্যে গাইবান্ধা এসকেএস হাসপাতালে দুই দফায় অপারেশন করা হয়েছে এবং রংপুরের একাধিক ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাতেও তেমন কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে এসকেএস হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি সেন্টারে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছি। ডান হাত দিয়ে ভারী কোনো কাজ করতে পারি না। দিনের বেলা কোনোমতে কেটে গেলেও রাতে শুরু হয় কষ্ট। তীব্র ব্যথায় ঘুমাতে ঘুমাতে ভোর হয়ে যায়।’
সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কি নাÑ এ প্রশ্নের জবাবে জাভেদ বলেন, ‘সহযোগিতা দূরের কথা, এখন পর্যন্ত কেউ দেখতে আসেনি। তবে জেলা তথ্য অফিস গুলিবিদ্ধ সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ পর্যন্ত কারও কোনো সহযোগিতা পাইনি।’
গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন বলেন, ‘জাভেদ হোসেন একজন পেশাদার সাংবাদিক। ছাত্র আন্দোলনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জাভেদসহ গাইবান্ধার তিনজন সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাকিরা সুস্থ হলেও জাভেদের ডান হাত এখনও পুরোপুরি সেরে ওঠেনি। সরকারিভাবে আহত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। জাভেদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তায় প্রয়োজন বলে মনে করি।’