নাছির উদ্দিন, কচুয়া
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫২ এএম
২০ বছর ধরে বাঁশের তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন অণিমা রানী সরকার
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামের সরকারবাড়ির পরীক্ষিত সরকারের স্ত্রী অণিমা রানী সরকার (৩৮)। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বাঁশের তৈরি পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। পরীক্ষিত সরকার অসুস্থ থাকায় সংসারের দায়িত্ব অণিমার কাঁধে। চার মেয়ে ও স্বামী নিয়ে তার সংসার।
হস্তশিল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে চলে সংসার। জীবিনজীবিকার তাগিদে অনেকেই নানা ধরনের পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। কিন্তু অণিমা রানী সরকার দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পরিবার ও সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাতে বেছে নিয়েছেন হস্তশিল্পের কাজ। তিনি পণ্যসামগ্রী বিক্রি করে মাসে উপার্জন করেন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা; যা দিয়ে পরিবারের খরচ মেটানো সম্ভব নয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিজ বাড়ির উঠানে বাঁশ দিয়ে তৈরি করছেন নানান সামগ্রী। বিশেষ করে খাঁচা, ডুলা, চাঁই, চালন, কুলা, ধান রাখার ডোলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করেন। অণিমা রানী সরকার ২০টি খাঁচা বিক্রি করেন ২ হাজার, ২০টি ডুলা ১ হাজার, ২০টি চালনি ১ হাজার ৫০০ এবং ২০টি কুলা ২ হাজার ৫০০ টাকায়। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে গেছে এ হস্তশিল্প। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে এ পরিবারটি। সামান্য যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে বড় মেয়েকে বিয়ে দিলেও বাকি তিন মেয়ে এখনও পড়াশোনা করছে। এদিকে মায়ের সঙ্গে বসে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বাঁশ-বেতের সমন্বয়ে জিনিসপত্র তৈরিতে সহযোগিতা করছে মেয়েরাও। তার একটি মেয়ে পূজা সরকার পাশের ভূঁইয়ারা উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। পাশাপাশি মাকে কাজে সহযোগিতা করে।
অণিমা রানী সরকারের বোন অনিতা রানী বলেন, ‘আমার বোন অনেক কষ্ট করে মেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। হাতের তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চলে। আমরাও মাঝে মাঝে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করি।’
অণিমা রানী সরকার বলেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর বাঁশের মাধ্যমে নানা জিনিসপত্র তৈরি করছি। স্বামী কর্মহীন হয়ে পড়ায় সংসারের হাল ধরতে হয়েছে আমাকে। চার কন্যাসন্তান নিয়ে পরিবার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যে টাকা উপার্জন হয় তাতে কোনোরকম সংসার চললেও মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানো সম্ভব নয়।’
ব্যবসা আরও বৃদ্ধি করতে সরকারের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য পরিমল সরকার বলেন, ‘অণিমা রানী একজন গরিব ও অসহায় মানুষ। বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে ছয় সদস্যের পরিবার চালান তিনি। বর্তমানে হস্তশিল্প তেমন একটা না চললেও পরিবারটি টিকিয়ে রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসন আর্থিক সহায়তা দিলে হয়তো তার ব্যবসাটি আরও বৃদ্ধি পাবে।’
উপজেলা তথ্য কর্মকর্তা রুবাইয়ারা খাতুন বলেন, ‘অণিমা রানীকে উদ্যোক্তা হিসেবে চিহ্নিত করে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি তার পণ্যগুলো আমাদের অনলাইনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাজারজাত করা হবে; এতে অনেক পণ্য বিক্রি হলে তিনি স্বাবলম্বী হবেন।’