ইমতিয়ার শামীম
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ১২:৩২ পিএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ১২:৪৭ পিএম
আজকের প্রচ্ছদটি এঁকেছে ঘুঙুর বন্ধু আফিয়া তাহসিন। আফিয়া নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী
পীতরাজ গাছটার ওপরের ডাল থেকে লাফ দিয়ে নিচের ডালটায় নেমে আসে চড়ুইছানা। তারপর ওদের খড়কুটো আর চিকনচাকন সব লতাপাতা দিয়ে বানানো বাসাটার মধ্যে গলা বাড়িয়ে দেয়। চড়ুই মায়ের মাথার কাছে ঠোঁট দিয়ে ঠোকর মেরে বলে, ‘যাক, বাঁচা গেল। তুমি তাহলে বাসায় ফিরেছ!’
‘ফিরব না মানে! তোকে এখন খাওয়াতে হবে না? আমি আরও চিন্তা করছি, তুই কোথায় গেলি! আয়, গলা বাড়িয়ে একটু হাঁ কর দেখি।’
‘তা না হয় করলাম। কিন্তু মা, দেখো তো কী এক কাণ্ড! ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম আকাশটা কি সুন্দর টনটন করছে। কিন্তু এখন দেখছি অন্যরকম! ঘটনাটা কী, বলো তো মা।’
চড়ুই মা তিড়িং করে বাসার বাইরে আসে। পায়ের আঙুলগুলো দিয়ে একটা চিকনচাকন পাতা আঁকড়ে ধরে। আকাশটা ভালো করে দেখে নিয়ে বলে, ‘কী দিয়ে কী বলছিস? টনটন করছিল মানে? আর এখন আবার অন্যরকমÑ তার মানে?’
তিড়িংবিড়িং করে লাফায় চড়ুইছানা। লাফাতে লাফাতে বলে, ‘টনটন মানে টনটন। একেবারে টনটন। কোনো হাবিজাবি কিছু নেই। ওই যে কয়েক দিন আগে তুমি আমাদের পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে একটা নীলকান্ত পাখি দেখালে না? ওই রকম। আর এখন দেখছ না, আকাশটা কেমন হাচড়পাচড় করছে? এইখানে এক খাবলা নীল তো ওইখানে আরেক খাবলা। এইখানে খানিকটা সাদা মেঘ, ওইখানে আবার হলুদিয়া। আর লাল রঙটাকে দেখো, মনে হচ্ছে কেমন হাচড়পাচড় করে সাঁতরাচ্ছে! মনে হচ্ছে, নীলকান্ত দাদা আর হলুদিয়া দিদিকে শিকার করার জন্য তাড়া করেছে।’
চড়ুই মা ভারী খেপে ওঠে, ‘হাচড়পাচড়, খাবলা খাবলাÑ এসব কথা তোকে কে শেখাল রে? বাসায় যখন থাকি না, তখন ওই কাকপক্ষীটার সঙ্গে গল্প করিস নাকি?’
‘কী যে বলো না তুমি! আমি কেন এর-ওর সঙ্গে গল্প করতে যাব। তুমি কিন্তু আমার কথার উত্তর দিচ্ছো না! আকাশ কেন লাল হয়েছে, সেটা তুমি বলতে পারবে না?’
‘পারব না কেন? আকাশ লাল হয়েছে সূর্য ডুববে বলে। সূর্য ডোবার সময় আকাশ লাল হয়, সে কথা জানিস না? ওই লাল হওয়া দেখেই তো আমরা বুঝতে পারি, এবার বাসায় ফিরতে হবে।’
‘বললেই হলো? সূর্য ডুবলে লাল রঙের কী? নীল রঙেরই বা কী?’
‘হু-হুÑ ওটাই তো মজার খেলা। শোন, আকাশে নীল রঙও আলো, লাল রঙও আলো, তোর এই ছেয়ে-ছেয়ে রঙও আলো। কিন্তু লাল রঙের যে আলোটা আছে, সেইটা না অনেক অনেক দূর পর্যন্ত দুলতে পারে, দুলে দুলে যেতে পারে। কারণ লাল আলোটা অনেক বড়। কিন্তু নীল, ছেয়ে সব আলোই হলো ছোট। তাই পৃথিবীতে আর আসতে পারে না। আমাদের চোখেও পড়ে না।’
‘আমার না মা এই সময় আকাশটা দেখতে ভারি ভালো লাগে।’ বলে ছোট্ট চড়ুইছানা।
তা দেখ না। আমি কি তোকে না করেছি! তবে সাবধানে থাকবি, দেখিস কোনো শকুন এসে আবার খপ করে তুলে না নেয়।’ বলে চড়ুই মা।
কিন্তু ছোট্ট চড়ুইছানা সে কথা বোধহয় শুনতেই পায় না। একদৃষ্টে সে দেখে চলে দূরের আকাশটা।