চয়ন বিকাশ ভদ্র
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ১২:২৩ পিএম
আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ১২:২৯ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
ছোটন ছুটিতে তার বাবা, মা ও ছোট বোনের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গেল। বাড়ির পাশেই একটি বড় পুকুর আর সে পুকুরের পারে অনেক গাছ। গাছগুলো লম্বা আর ছায়াঘেরা, সেখানে নানা রঙের ফুল ফুটে ছিল। ছোটন একদিন সকালে পুকুরপারে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একদল ফড়িং দেখতে পেল। ফড়িংগুলো রঙিন ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছিল। ছোটন খুব মুগ্ধ হয়ে ফড়িংগুলো দেখছিল। সে ফড়িং ধরার চেষ্টা করল কিন্তু তারা এত দ্রুত উড়ে গেল যে ছোটন ধরতে পারল না। ছোটন যখন ফড়িং ধরার চেষ্টা করছিল, তখন তার চোখে পড়ল পুকুরের পানিতে কিছু হাঁস সাঁতরাচ্ছে। হাঁসগুলো মনের আনন্দে পানিতে ডুব দিচ্ছিল আর ডানা ঝাপটাচ্ছিল। ছোটন পুকুরের পারে বসে হাঁসদের সাঁতার কাটা দেখল অনেকক্ষণ। একসময় দাদুর ডাকে ছোটন ফিরে তাকাল। দাদু এসে ছোটনের পাশে পুকুরপারে সবুজ ঘাসের ওপর বসলেন।
দাদু বলতে লাগলেন, ‘একসময় এ পুকুরপারে একটা বিশাল গাছ ছিল। এত বড় ছিল যে তার শাখাগুলো পুকুরের পানিতে ঝুলে পড়ত। সেই গাছের নিচে একটা ছোট্ট ফড়িং থাকত। ফড়িংটা সব সময় উড়তে চাইত কিন্তু তার ডানা তখনও শক্ত হয়নি। সে গাছের পাতা থেকে পানিতে পড়ত আর হাঁসেরা তাকে দেখে হাসত। ফড়িংটা খুব কষ্ট পেত, সে ভাবত সে হয়তো কখনও উড়তে পারবে না।
একদিন এক বড় ফড়িং এসে তাকে বলল, তুমি যদি প্রতিদিন একটু একটু করে ওড়ার চেষ্টা করো, তবে একদিন তোমার ডানা শক্ত হবে এবং তুমি উড়তে পারবে। ছোট ফড়িংটা বড় ফড়িংয়ের কথা বিশ্বাস করে প্রতিদিন ওড়ার চেষ্টা করত। কিছুদিন পর তার ডানা শক্ত হলো এবং সে উড়তে শিখল। এখন সে তার বন্ধুদের সঙ্গে মিলে আকাশে উড়ে বেড়ায়।’
এ গল্প শুনে কি তুমি কিছু শিখতে পারলে ছোটন? দাদু জিজ্ঞাসা করলেন।
ছোটন হাসিমুখে বলল, ‘হ্যাঁ দাদু, যদি আমরা মন দিয়ে চেষ্টা করি তবে আমরা যেকোনো কিছু করতে পারি।’
দাদু খুশি হয়ে ছোটনকে বললেন, ‘ঠিক বলেছো ছোটন। কখনও হার মানবে না। সব সময় চেষ্টা করতে থাকবে।’
এরপর দাদু আর ছোটন হাতে হাত ধরে বাড়ির দিকে রওনা দিলেন।