ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৫:২০ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৫:২০ পিএম
মতিগঞ্জের অলিপুরে মরা বিলাস নদ দখল করে চাষ করছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রসিদ্ধ বিলাস নদে একসময় বড় বড় জাহাজ চলাচল করত। কালের বিবর্তনে খরস্রোত নদটি এখন ছোট্ট খাল। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে শ্রীমঙ্গলের ৭ নম্বর রাজঘাট ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিলাস নদ বিস্তৃত হাইল হাওরে গিয়ে গোপলা নদীতে মিলিত হয়েছে। ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের মতিগঞ্জ ব্রিজের কাছে এসে নদটি অনেকটা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। মূল নদের পশ্চিমাংশে স্রোতধারা প্রবাহিত হলেও পূর্বাংশ মরা নদ নামে পরিচিত। বিলাস নদের মরা অংশে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না বললেই চলে। এ অংশের মতিগঞ্জের অলিপুরে মরা নদ জবরদখল করে চাষাবাদ করছেন স্থানীয় আবদুল হান্নান। শুধু চাষাবাদ নয়, মরা নদের পারের মাটি কেটে বিক্রি, সড়কের পাশের গাছ কাটা, স্থানীয় ফিশারিগুলো থেকে মাছ চুরিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে হান্নান ও তার ছেলে মাসুম মিয়ার বিরুদ্ধে।
সরেজমিন উপজেলার ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের অলিপুরে (মতিগঞ্জ) গিয়ে দেখা যায়, ব্রিটিশ-বাংলা অ্যাগ্রো লিমিটেডের সামনে মরা বিলাস নদের অংশে ধানের বীজ বপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুই শ্রমিক। ওই স্থানে সরকারি গ্রাম্য সড়কের পাশে রয়েছে একটি কাটা গাছ। স্থানীয়রা জানান, আবদুল হান্নান জোরপূর্বক মরা বিলাস নদের সরকারি জমি দখল করে চাষাবাদ করছেন। আর গাছটি কেটেছেন তার ছেলে মাসুম মিয়া।
মরা বিলাস নদের সরকারি জমিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘আমাদের হান্নান মিয়া লেবার (শ্রমিক) হিসেবে এনেছেন কাজ করার জন্য। জায়গাটি সরকারি গাঙ্গের (নদীর)। আমরা শ্রমিক মানুষ। হান্নানের কথায় এখানে কাজ করতে এসেছি।’
অলিপুরে ব্রিটিশ-বাংলা অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, ‘১৩ বছর যাবৎ আমি ব্রিটিশ-বাংলায় চাকরি করছি। আমার দেখামতে হান্নান মিয়া ও তার ছেলে মাসুম মিয়া পুরো মরা নদের অলিপুর অংশ ভোগদখল করে খাচ্ছেন। আমাদের ফিশারির সামনের অংশ যখন তারা দখল করেছে তখন আমি বাধা দিতে এলে তারা (হান্নান মিয়া ও তার ছেলে) আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন। আমাদের একটি পানির মটর চুরি হয়, তার ছেলে আমাদের ফিশারির মাছ চুরি করেন। আমাদের গার্ড মাসুম একদিন হান্নানের ছেলে মাসুমকে ৯ নম্বর পুকুরে মাছ চুরির সময় দেখে ধরার চেষ্টা করে। সে দৌড়ে পালিয়ে যায়। সেটার কোনো প্রতিবাদ হলো না। আমাকে মারারও কোনো প্রতিবাদ হলো না।’
অভিযোগের ব্যাপারে আবদুল হান্নান বলেন, ‘পতিত জায়গায় আমি বোরো ফসলের জন্য হালির জালা ফালাব। এক থেকে দেড় মাস পরে বোরো ধানের চারা কিছুটা বড় হলে আমি এখান থেকে তুলে অন্যত্র আমার জমিতে নিয়ে রোপণ করব। এরপর এ জায়গা এমনিতেই পড়ে থাকবে। পানির রাস্তা দিয়ে পানি যায়। এখন তো বর্ষাকাল নয়, তাই এ মরা গাঙ্গে পানি নাই। ফলে আমি জালা ফালাইছি। বোরো ধানের জালা ফালানোর জন্য আমি শ্রমিক দিয়ে এ জায়গাটি ঠিকঠাকও করেছি।’ তার ছেলের সরকারি জমির গাছ কাটার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে আবদুল হান্নান বলেন, ‘গাছ যে কাটছে তা আমি জানতাম না। আমার ছেলে গাছ কেটে ভুল করেছে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনা শুনে আমি আমাদের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি সেখানে যাবেন। যদি কেউ বেআইনি কাজ করে থাকে এবং আমাদের তদন্তে আসে তবে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।’