ডে ট্রিপ
তানজিদ শুভ্র
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১১:২০ এএম
নুহাশ পল্লীÑ ঢাকার অদূরে গাজীপুরে অবস্থিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাগানবাড়ি
নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেই নিজেকে একটু সময় দিতে যেতে পারেন বিভিন্ন অবকাশকেন্দ্রে। কর্মব্যস্ততা কিংবা ছুটির ঝামেলায় দূরে কোথাও যাওয়া যেন কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে চাইলে এক দিনেই ঢাকার অদূরে যেসব জায়গা থেকে ঘুরে আসতে পারেন তার মধ্যে অন্যতম নুহাশ পল্লী।
নুহাশ পল্লী ঢাকার অদূরে গাজীপুরে অবস্থিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাগানবাড়ি। পারিবারিক বিনোদনকেন্দ্র ও শুটিং স্পট হিসেবে এটি বেশ পরিচিত হলেও এখানে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির দুর্লভ ঔষধি, মসলা জাতীয়, ফলদ ও বনজগাছ। গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পিরুজালী গ্রামে ১৯৯৭ সালে হুমায়ূন আহমেদ নুহাশ পল্লী গড়ে তোলেন। ছেলে নুহাশ হুমায়ূনের নামে রাখা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ৪০ বিঘার এ বাগানবাড়িটি হুমায়ূন আহমেদ মনের মতো করে নিজস্ব স্বপ্নজগৎ করে তোলার প্রয়াস রেখেছেন।
পিচঢালা রাস্তা থেকে নেমে রাঙামাটির অমসৃণ পথে গজার বনের ভেতর দিয়ে যেতে হবে নুহাশ পল্লীতে। নুহাশ পল্লীর মূল ফটক পেরোলেই চোখে পড়বে সবুজ ঘাসের গালিচা; যা দেখলে যে কারও চোখ ও মন দুই-ই জুড়িয়ে যাবে। মাঠ ধরে সামনে এগিয়ে হাতের বাঁপাশে শেফালিগাছের নিচে একটি নামাজের ঘর রয়েছে। এর পাশে তিনটি পুরোনো লিচুগাছ নিয়ে একটি ছোট্ট বাগান রয়েছে। লিচু বাগানের উত্তর পাশে জাম বাগান আর দক্ষিণে আম বাগান।
সবুজ মাঠের মাঝখানে একটি বড় গাছের ওপর ছোট ছোট ঘর তৈরি করা হয়েছে। শুটিংয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ঘরগুলো অবাক করবে আপনাকে। মাঠের এক কোণে মাটি থেকে প্রায় ১০ ফুট ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ছোট পাখির খামার। যেখানে বিভিন্ন প্রজাতির কবুতরসহ রয়েছে অসংখ্য পাখি। মাঠের পূর্বদিকে রয়েছে খেজুর বাগান। বাগানের এক পাশে অত্যাধুনিক অবকাঠামোর বাংলো ‘বৃষ্টিবিলাস’।
দুর্লভ সব ভেষজ উদ্ভিদ নিয়ে উদ্যান তৈরি করা হয়েছে। উদ্যানের সবুজ শ্যাওলাযুক্ত মাটি যেন আরও বেশি সবুজ করে তুলেছে এই আঙিনা। অধিকাংশ গাছের গায়ে সেঁটে দেওয়া আছে পরিচিতি ফলক। তবে অযত্ন কিংবা অবহেলায় অনেক গাছেই এখন আর পরিচিতি ফলক চোখে পড়ে না। উদ্যানের পাশেই সরোবরে পাথরের মৎস্যকন্যা আর রাক্ষস। এ ছাড়া এখানে দেখা মিলবে হুমায়ূন আহমেদের আবক্ষ মূর্তি, ডিম্বাকৃতির সুইমিংপুল, পদ্মপুকুর, প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীদের অনুকীর্তি, দাবার গুঁটির প্রতিকৃতিসহ নানা রকম দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপত্য। এ ছাড়া নুহাশ পল্লীর বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বাচ্চাদের খেলাধুলার অসংখ্য সামগ্রী।
নুহাশ পল্লীর অন্যতম আকর্ষণ ‘দীঘি লীলাবতী’। সেখানে নামফলকে খুদাই করে লেখা আছে বিশ্বকবির লেখাÑ ‘নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে রয়েছে নয়নে নয়ন।’ লীলাবতীর চারপাশ জুড়ে নানা রকমের গাছ। পুকুরের মাঝখানে একটি দ্বীপ। সেখানে কতগুলো নারকেলগাছ। একসময় এখানে বাঁশের সাঁকো ছিল দ্বীপসদৃশ জায়গায় যাওয়ার জন্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে আর সাঁকোটি চোখে পড়েনি। যার কারণে পর্যটকরা দূর থেকেই দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করেন।
‘ভূতবিলাস’ বাংলোর অবস্থান শান বাঁধানো ঘাটের পাশেই। দীঘির আরেক পাশে ভেষজ উদ্যানের পর সীমানা প্রাচীরের কাছাকাছি চোখে পড়বে আরেক মাটির ঘর।
নুহাশ পল্লীর মূল ফটকের সামনে স্থানীয়দের উদ্যোগে করা হয়েছে ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা। স্বল্প টাকার বিনিময়ে দর্শনার্থীরা ঘোড়ায় চড়ার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি ছোট ছোট দোকানে বিভিন্ন শৌখিন জিনিসিপত্র সাজিয়ে বসে আছে দোকানিরা। কলা, পেঁপেসহ নিজ বাড়িতে আবাদ করা মৌসুমি ফলমূলও বিক্রি করতে দেখা যায় অনেককে।
কীভাবে যাবেন?
রাজধানী থেকে যেতে চাইলে গাজীপুরগামী যেকোনো বাসে চড়ে বসতে হবে। আর নামবেন গাজীপুরের চৌরাস্তায়। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া বাজার। সেখান থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত নুহাশ পল্লী। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে পেয়ে যাবেন হোতাপাড়া যাওয়ার বাস। এই বাসে করে চলে যাবেন হোতাপাড়া বাজার। তার পর সেখান থেকে রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক বা সিএনজি করে সোজা নুহাশ পল্লী চলে যাবেন। হুডবিহীন অটোরিকশায় একা কিংবা দুজনে ১২০-১৫০ টাকায় যেতে পারবেন নুহাশ পল্লীতে।
খাবেন কোথায়?
নুহাশ পল্লীর ভেতরে খাবারের তেমন সুব্যবস্থা নেই। মূল ফটকের সামনে উন্মুক্ত খাবারের হোটেল থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি। ভেতরে ব্যক্তি উদ্যোগে এক মেনুর খাবার (ভাত+মুরগি+ভর্তা/সবজি) পাওয়া যায়। বাইরে থেকে নেওয়া খাবার নিয়ে প্রবেশে কোনো বাধা নেই।