× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বলধার খোঁজে ওয়ারী টু গাজীপুর

মৃত্যুঞ্জয় রায়

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১২:৩১ পিএম

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪ ১৪:০৭ পিএম

পাখির চোখে বলধা গার্ডেন	 ছবি : আরিফুল আমিন প্লাবন

পাখির চোখে বলধা গার্ডেন ছবি : আরিফুল আমিন প্লাবন

‘বাংলাদেশে অনেক রাজ্য, জমিদার ও অভিজাতদের প্রাসাদেই তো ঘুরলাম, কিন্তু গাছপালা নিয়ে এমনভাবে সাজানো বাড়ি তো কোথাও দেখিনি। নরেন, কালি কলম দিয়ে আমি সারাজীবন যা করেছি, তুমি গাছপালা দিয়ে তাই করে চলেছ।’ কে ছিলেন সেই নরেন? কোন বাড়ি ও বাগানের কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ? রবীন্দ্রনাথ যাকে নরেন বলে ডেকেছিলেন, তিনি ছিলেন বলধার জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী। সেকালে ওয়ারী ছিল অভিজাত ধনিক শ্রেণির আবাসিক এলাকা। তিনি ঢাকার ওয়ারীতে তাঁর বাড়ি কেন্দ্র করে পৃথিবীর প্রায় ৫২টি দেশ থেকে বিচিত্র সব গাছপালা এনে যে বাগান গড়ে তুলেছিলেন সে বাগানটিই কালক্রমে পরিচিত হয় বলধা গার্ডেন নামে। সেকালে বলধা গার্ডেনের মতো উদ্ভিদবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধিশালী পরিকল্পিত বাগান এ দেশে আর ছিল না। প্রায় একশ বছর আগে ১৯২৮ সালে বলধা গার্ডেনের তরুসজ্জা ও তরুসম্পদ মুগ্ধ করেছিল স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। 

গাজীপুরের বলধা গাঁয়ের জমিদারবাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছবি : রেজাউল করিম

বলধা নামের উৎস খুঁজতে

বলধা গার্ডেন যেখানে সেখানে বলধা নামে কোনো স্থান ও লোক নেই, প্রতিষ্ঠাতার নামও বলধা না। কিন্তু গার্ডেনের নামটা ‘বলধা গার্ডেন’ হলো কেন? নামের সেই উৎস সন্ধানে গিয়ে পেলাম ‘বলধা’ নামে একটি গ্রামের অস্তিত্ব। সেই বলধা গ্রামের জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী গিয়েছিলেন ঢাকার ওয়ারীতে, গড়ে তুলেছিলেন একটা ‘কালচার হাউজ’। ধীরে ধীরে তাকে ঘিরে উদ্যান। বলধার জমিদার উদ্যানটা গড়েছিলেন বলেই ওটা পরিচিত হয়ে ওঠে ‘বলধা গার্ডেন’ নামে। কিন্তু সেই ‘বলধা’ কোথায়? যেখানে জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর বাড়ি? অবশেষে বলধা গ্রাম খুঁজে পাওয়া গেল গাজীপুরে।

গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর বাজার মোড়। সেখান থেকে ৩ কিলোমিটার পর তিতারকুল। চিলাই নদীর ব্রিজ পেরিয়ে রিকশা গড়িয়ে চলল উঁচুনিচু আঁকাবাঁকা পাকা পথ মাড়িয়ে বলধা গাঁয়ের দিকে। ল্যান্ডস্কেপ খানিকটা রাঙামাটির মতো। গড় এলাকা। মাঝে মাঝে ঢিবি বা টিলার মতো নাতি উচ্চ টেক আর তার আশপাশে নিচু জলাবসা বাইদ জমিন। ঘন গাছগাছালির মধ্য দিয়ে একটা পথ তিতারকুল থেকে চলে গেছে বারিয়া বাজার। সে পথে এক-দেড় কিলোমিটার যেতেই থামতে হলো বলধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠের সামনে। লোকজনকে জিজ্ঞেস করতেই জেনে গেলাম, এটাই জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর বলধা গ্রাম। বলধা গার্ডেনের বদৌলতে যে নাম আজ বিখ্যাত হয়ে আছে। কিন্তু কোথায় ছিল জমিদারবাবুদের বাড়ি?

হেমন্তের পড়ন্ত বেলা। সূর্য হেলে পড়েছে। রাস্তার ধারে সেলুনের সামনে একটা বেঞ্চিতে বসে আছেন একজন বৃদ্ধ, আকবর আলী তার নাম। বলধা গাঁয়ে জন্ম। নিজের চোখে দেখেছেন জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর জমিদারবাড়ি, বলধার জমিদারবাড়ি। দেখেছেন তার ধ্বংসটাও। হদিস করতেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শুধু জানালেন, ‘প্রাইমারি স্কুলের পেছনে ওই যে বড় বড় গাছের বাগানটা দেখছেন, ওখানেই ওই টেকের উপরেই ছিল জমিদারবাড়িটা। দোতলা বাড়িটায় মোট ছত্রিশটা কক্ষ ছিল। এখন মাটি খুঁড়ে ইট বের করা যায়, দালান নেই।’ কোনো চিহ্নই কি নেই সেই জমিদারবাড়ির? অলসভাবে আঙুল উঁচিয়ে একটা জীর্ণ দালান দেখিয়ে দিলেন। পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে পড়েছে দেয়ালের, ছাদ ভেঙে ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ছে চুনসুরকি, ছাদের কার্নিশে জন্মানো গাছপালার শিকড় গেড়ে বসেছে দেয়ালে। বুড়ো ইটগুলো যেন রক্ত চোখে তাকিয়ে আছে। চালার টিন মরচে পড়ে ভেঙে ঝুলে পড়েছে। ঘরটার আশপাশে ভাঁট গাছের জঙ্গল গজিয়ে উঠেছে। পড়ো পড়ো অবস্থা। জানা গেল, জমিদারগিন্নি মৃণালিনী রায়চৌধুরী বলধা গ্রামে একটি স্কুল করার জন্য কিছু জমি দান করেছিলেন; মতান্তরে তার কন্যা দান করেছিলেন। সেখানে ১৯৩৪ সালে যে স্কুলঘরটি নির্মিত হয় সেটিই ‘৯৮ নং বলধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। পুরোনো স্কুলটিকে এখন নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। আগে জয়দেবপুর থেকে এ গাঁয়ের যোগাযোগ ছিল কাঁচা রাস্তা, হেঁটে যাতায়াত করতে হতো। বছর কয়েক হলো রাস্তা পাকা হয়েছে। সাহিত্যিক প্রতিভা বসুর ‘জীবনের জলছবি’ বইয়ে সে জমিদারবড়ির কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, ‘এলহাবাদের ওস্তাদ, নাম ভোলানাথ মহারাজ। ঢাকার সবচেয়ে রহস্যময় পুরী মাইলজোড়া দেয়াল ঘেরা বলধার জমিদার বাড়ির অতিথি তিনি।... জমিদারটি গান পাগল। একই বাড়িতে দুই পত্নী নিয়ে বাস করেন, মহল আলাদা।’ এতেই বোঝা যায় সেকালে বলধা জমিদারবাড়ির জৌলুস ছিল কতটা

নরেন্দ্রনায়ণ রায়চৌধুরী (১৮৮০-১৯৪৩) ছবি গঙ্গাপ্রসাদ রায়চৌধুরীর সৌজন্যে

জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী ।  ছবি : গঙ্গাপ্রসাদ রায়চৌধুরীর সৌজন্যে

প্রকৃতিসখা নরেন্দ্রনারায়ণ

যতদূর জানা যায়, জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর জন্ম ১৮৮০ সালে, গাছার জমিদার মহিম চন্দ্রের ঘরে। তার বয়স যখন মাত্র চৌদ্দ বছর তখন নিঃসন্তান বলধার জমিদার হরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী দৈবচক্রে তাকে দত্তক নেন। পরে তিনিই হন বলধার জমিদার। বলধা গ্রামের বাইরে দার্জিলিং, কলকাতা, লক্ষ্ণৌ, পুরী ও ঢাকার ওয়ারীতে তিনি বাড়ি তৈরি করেন। ঢাকার ওয়ারীর বাড়িটির নাম দিয়েছিলেন ‘কালচার হাউজ’। পরে সেটা পরিচিত হয়ে ওঠে বলধা হাউজ নামে। কালচার হাউজে বলধা লাইব্রেরি ছিল। তিনি সেখানে ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন একটি পারিবারিক জাদুঘর। তার সে জাদুঘরে ছিল মুদ্রা, মূর্তিসহ প্রায় ৪ হাজার নিদর্শন। সেসব সংগ্রহ এখন ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরে রয়েছে। তবে তিনি সেখানে ৩ দশমিক ৩৮ একর জমির ওপর ১৯০৯ সালে শুরু করেন বলধা বোটানিক্যাল গার্ডেনের সাইকী অংশের কাজ। এটি শেষ হয় ১৯৩৬ সালে। ১৯৩৮ সালে শুরু করেন বাগানের উত্তর অংশ সিবিলীর কাজ। সেটি শেষ হয় ১৯৪৩ সালে। দেশবিদেশের নানা প্রজাতির দুর্লভ উদ্ভিদে ধীরে ধীরে পূর্ণ হয়ে ওঠে সাইকী ও সিবিলী অংশ, পূর্ণতা পায় বলধা উদ্যান। সেই পূর্ণতাটুকু দেওয়ার জন্যই যেন প্রকৃতিপ্রেমী জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী সে পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন। সেকালে কালচার হাউজে সবার প্রবেশাধিকার ছিল না, সেটি ছিল দেয়ালঘেরা এক রহস্যপুরী। সেখানে বসত গানের জলসা। লোকলস্কর ও নামিদামি লোকজনের আনাগোনায় মুখরিত থাকত কালচার হাউজ। কালচার হাউজের পাশে এলিট হাউজে একটি ঘর ছিল যেখান থেকে সে সময়ই গোলাপ ফুল বিক্রি হতো। ১৯৪৩ সালের ১৩ আগস্ট তার মৃত্যু হয়। বলধা গর্ডেনের সিবিলী অংশে নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর সমাধিগাত্রে তার লেখা একটি ইংরেজি এপিটাফ রয়েছে, সেই এপিটাফে প্রকৃতির প্রতি তার অগাধ ভালোবাসার সাক্ষ্য পাওয়া যায়, সেখানে লেখা আছে প্রথম পঙ্‌ক্তিতে তার স্বীয় পরিচয় তিনি লিখেছেন, I am a passionate lover of nature. তবে তিনি শুধু প্রকৃতিপ্রেমীই ছিলেন না, সংগীতকলা ও সাহিত্যেও ছিলেন সমান পারদর্শী। লিখেছেন ১৩৮টি বই, যার প্রায় সবই নাটক। কালচার হাউজে বসত নাটকের আসর। আজ আর সেই কালচার হাউজ, এলিট হাউজ, গোলাপবাগানের অস্তিত্ব নেই। সেসব আজ ইতিহাস, সত্য শুধু দুষ্প্রাপ্য ও দুর্লভ উদ্ভিদের মূল্যবান সংগ্রহশালা হিসেবে বলধা গার্ডেনের টিকে থাকা।

প্রকৃতিদেবী সিবিলী ও সুন্দরী দেবী সাইকী ছবি : লেখক

বলধা গার্ডেনটি ওয়ারীতে খ্রিস্টান কবরস্থানের উল্টো দিকে। উদ্যানের দুটি অংশ ভাগ হয়েছে একটি রাস্তা দিয়ে। প্রতিটি অংশই সুউচ্চ দেয়াল দিয়ে ঘেরা। একটি অংশের নাম সাইকী, এটি একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ আত্মা। গ্রিকপুরাণে সাইকী হলেন একজন সুন্দরী দেবী। অন্য অংশের নাম সিবিলী। সিবিলী হলো প্রকৃতিমাতা বা প্রকৃতির দেবী যার সম্পর্ক রয়েছে উর্বরতা, কৃষি ও জীবজন্তুর সঙ্গে। জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরী ১৯০৯ সালে শুরু করেন সাইকী অংশের কাজ যা শেষ হয় ১৯৩৬ সালে। এরপর ১৯৩৮ সালে শুরু করেন সিবিলী অংশের কাজ, সম্পন্ন হয় ১৯৪৩ সালে। সে বছরই তিনি মারা যান। জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর গাছপ্রেমী সতীর্থ ছিলেন অমৃতলাল আচার্য। তিনি বলধার তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ১৯৮২ সাল পর্যন্ত বলধা গার্ডেনের গাছগুলোর পরিচর্যা করে গেছেন একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে। জমিদারের সমাধির পাশে তার সমাধিও রয়েছে। জমিদারের মারা যাওয়ার পর কলকাতা হাইকোর্টের নিয়ন্ত্রণে ট্রাস্টের মাধ্যমে বাগানের তত্ত্বাবধান চলতে থাকে। পরে ১৯৫১ সালে তৎকালীন সরকার কোর্ট অব ওয়ার্ডসের কাছে বাগান ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ন্যস্ত করে। এ সময় অযত্ন, অবহেলা এবং অব্যবস্থাপনায় বাগানের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। শেষে ১৯৬২ সালে এটি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আসে।

চিকনা গুস্তাভিয়া ছবি : লেখক

এ দুটি অংশের মধ্যে সিবিলী অংশ আয়তনে সাইকীর চেয়ে কিছুটা বড়। সিবিলী অংশে রয়েছে শঙ্খনাদ নামে একটি পুকুর। একসময় এ পুকুরে অ্যামাজান লিলিসহ নানানরকম শাপলা ফুল ছিল। এখন নেই। পুকুরপারে একটি টংঘরের মতো কাঠের ঘর যার নাম জয় হাউজ। এ জয় হাউজে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ক্যামেলিয়া ফুলের রূপে মুগ্ধ হয়ে কবিতা লিখেছিলেন বলে শোনা যায়। এখানে এসেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও। এ অংশে রয়েছে একটি সূর্যঘড়ি। সেকালে সময় দেখার জন্য একালের মতো ঘড়ি ছিল না, সময দেখা হতো সূর্যঘড়িতে রোদের সময় ছায়া দেখে।

আমাজান লিলি  ছবি- লেখক

উদ্ভিদের অমৃত ভান্ডার

তৎকালীন উপবন সংরক্ষক মাহবুবউদ্দীন চৌধুরী ১৯৭৫ সালে Baldha Garden শিরোনামে একটি নব প্রকাশ করেন যার ভেতরে সে সময়ের বলধা গার্ডেনে থাকা গাছপালার একটি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। সেখানে তখন ছিল বৃক্ষ ৫০০, ঝোপজাতীয় গাছ ৫ হাজার ৮০০, লতাজাতীয় গাছ ৪০০, জলজ ও ব্রাইওফাইটা ২ হাজার ২০০, অর্কিড ২ হাজার ৫০০, ক্যাকটাস ৩ হাজার, শোভাবর্ধক উদ্ভিদ ৩ হাজার, রকারি ৬০০। সব মিলিয়ে তখন বলধা গার্ডেনে গাছের সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার। মোট ৯২ গোত্রের ৩৮১ গণের ৮০০ প্রজাতির গাছ ছিল সেখানে।

কনকসুধা ফুল ছবি : লেখক

একালে এসে বলধা গার্ডেন সেকালের সেই তরু ঐশ্বর্যের অনেটাই হারিয়ে ফেলেছে। প্রতি বছরই অল্প অল্প করে কমে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। বর্তমানে কোন প্রজাতির কতটি গাছ বলধা গার্ডেনে রয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব নেই। তবু সিবিলী অংশে গেলে এখনও দেখা মেলে শতবর্ষী মুচকুন্দ গাছের। সেখানে রয়েছে বেহালা বট, কৃষ্ণবট, বিচিত্র রাবার বট, তবলা বেল, বনছাতিম, ছাতিম, নাগলিঙ্গম, কদম, কেলি কদম, ছোট হলদু, রুদ্রপলাশ, অপরূপ চাঁপা, আঁকুরা, রক্তরাগ, পান্থপাদপ, পাকুড়, অশোক, জিকা, কেয়া, বিরল বাঁশপাতা, গুস্তাভিয়া বা দাদরা, চিকনা গুস্তাভিয়া, কুকরজিহ্বা, দুরন্তলতা, বাসরলতা, কান্তিলতা, শাপলা, অ্যামাজান লিলি, অ্যান্থুরিয়াম, ড্রেসিনা, ভূতনাগিনী, বাঁশ ইত্যাদি গাছ। সিবিলী অংশে প্রবেশে বাধা নেই, যে-কেউ টিকিট কেটে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু সাইকী অংশে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত। সেখানে রয়েছে একটি ক্যাকটাস হাউজ। রয়েছে বিরল ধূপ গাছ, স্বর্ণ অশোক, রাজ অশোক, অশোক, বিচিত্রা বকুল, ভূতনাগিনী, হারজোড়া, চন্দন, কর্পূর, গুস্তাভিয়া, আরিস্টোলোকিয়া লতা, কমব্রিটাম বা ব্রাশফুল, কনকসুধা লতা, লতাচালতা, অ্যামাজান লিলি, কয়েক রকমের শাপলা, চাঁদমালা, কুটিপানা ইত্যাদি উদ্ভিদ।

সিবিলি অংশে শঙ্খনাদ পুকুর ছবি : লেখক

উদ্ভিদপ্রেমীদের আর্জি

এমন একটি সমৃদ্ধ উদ্যান আরও সমৃদ্ধ হোক, ভালো থাকুক সেটাই প্রকৃতিপ্রেমীদের কাম্য। এর জন্য প্রথমে বলধা গার্ডেনের বর্তমান গাছপালার একটি সঠিক তালিকা ও পরিসংখ্যান তৈরি করতে হবে। বিদ্যমান গাছগুলোর সঠিক পরিচর্যা করে সেগুলো টিকিয়ে রাখতে হবে। আর যেসব গাছ আগে ছিল, এখন নেই সেসব গাছপালা আবার লাগাতে হবে। দর্শনার্থীরা যেন কোনো গাছের ক্ষতি না করে, বেড়ানোর পরিবেশটা যেন ভালো রাখে সেজন্য তাদের সচেতন করতে হবে। যারা বলধা গার্ডেনে ঘুরতে যান তাদের অনেকেই গাছপালা দেখতে যান, বিনোদনের জন্যও আসেন। তাই দর্শনার্থীরা প্রবেশের সময় সেখানে কী কী গাছপালা আছে তার একটি তালিকা দর্শনীয় কোনো স্থানে লাগিয়ে রাখলে ভালো হয়। দর্শনার্থীদের জন্য আচরণবিধি তৈরি করতে হবে। যেসব গাছের কাছে নামফলক নেই বা নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলো লাগাতে হবে। বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা হয়তো আর ফিরে আসবে না, চারপাশের সুউচ্চ ভবনগুলো ছেঁটে খাটো করা যাবে না। কিন্তু আর যেন বলধা গার্ডেনের এক ইঞ্চি জায়গাও বেদখল না হয়। বলধা গার্ডেন ঘিরে জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর যে পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা ছিল, সে রকম প্রচেষ্টার জন্য দরকার এখন আর একজন নরেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর। ঢাকা বা ঢাকার আশপাশে কোনো তরুপ্রেমী ধনাঢ্য ব্যক্তি কি এগিয়ে আসবেন আর একটি বলধা গার্ডেন করতে? জমিদার নরেন মরে গেছেন, কিন্তু আজও আমরা তার ইতিহাস খুঁজছি, তাকে নিয়ে লিখছিÑ সে তো ওই বলধা গার্ডেনের জন্যই।

লেখক : কৃষিবিদ ও প্রকৃতিবিষয়ক লেখক

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা