যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর এক চিড়িয়াখানার পাঁচটি হাতি মুক্তি পেতে আদালতে মামলা করেছে! মামলাটি পরিচালনার দায়িত্বে আছে ‘নন-হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট’ নামের সংস্থা। তাদের দাবি, হাতিগুলোকে আইন অনুযায়ী ‘ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক।
২৪ অক্টোবর শুনানির সময় বিচারপতিরা বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছিলেন। তারা ভাবছিলেন, যদি হাতিরা ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে কুকুর এবং অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণীর ক্ষেত্রে কী হবে? বিচারপতি মেলিসা হার্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এ রায় মানুষের পোষা প্রাণীদের মুক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। নন-হিউম্যান রাইটস প্রজেক্টের সদস্যরা বলেছেন, এ পাঁচটি হাতি— মিসি, কিম্বা, লাকি, লৌলু ও জাম্বো আসলে খুব বুদ্ধিমান এবং সামাজিক প্রাণী। তারা মনে করছে, বন্দিদশায় থাকার কারণে হাতিরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তাই তারা চাচ্ছে, হাতিগুলোকে স্বীকৃত হাতির অভয়ারণ্যে নিয়ে যাওয়া হোক, কারণ তাদের বন্য পরিবেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। মামলার আইনজীবী জ্যাক ডেভিস বিচারপতিদের অনুরোধ করেছেন, যেন তারা হাতিদের ‘ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য করেন। তাহলে হাতিরা বন্দিদশা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার পেতে পারে এবং তাদের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত হবে। তবে এ ধরনের মামলা নতুন নয়। ২০২২ সালে নিউইয়র্কে ‘হ্যাপি’ নামে একটি হাতির পক্ষেও মামলা হয়েছিল। তবে আদালত রায় দিয়েছিলেন, হ্যাপি মুক্তির জন্য আবেদন করতে পারে না।

৯ কোটি বছরের ডাইনোসর!
আর্জেন্টিনার রিও নেগ্রো প্রদেশে বিজ্ঞানীরা টারোভেনেটর ভায়োলান্টি নামে একটি নতুন ডাইনোসরের নমুনা খুঁজে পেয়েছেন। এ ডাইনোসরটি প্রায় ৯ কোটি বছর আগে এ অঞ্চলে বিচরণ করত। ২৬ অক্টোবর এক ভিডিওতে দেখা যায়, ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের প্যালিওন্টোলজিস্ট মাতিয়াস মোটা ডাইনোসরের হাড় পরীক্ষা করছেন এবং এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে নোট নিচ্ছেন। মাতিয়াস জানান, ২০১৩ সাল থেকে আর্জেন্টিনা এবং টোকিওর গবেষকরা রিও নিগ্রোর পুয়েবলো ব্লাঙ্কো নেচার রিজার্ভে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এ অভিযানের সময় তারা টারোভেনেটর ভায়োলান্টির হাড়গুলো উদ্ধার করেন। এ জীবাশ্মগুলো অন্যান্য ধরনের ডাইনোসরের জীবাশ্ম যেমন লম্বা গলার তৃণভোজী ডাইনোসর, ছোট, চটপটে দ্বিপদ ডাইনোসর এবং অন্যান্য ধরনের মাংসাশী প্রাণীর জীবাশ্মের সঙ্গে পাওয়া গেছে। তবে টারোভেনেটর ভায়োলান্টি হলো বৃহত্তম মাংসাশী প্রাণী যা এখানে বিদ্যমান ছিল। এটি ছিল এ এলাকার শীর্ষ শিকারি ডাইনোসর। আবিষ্কৃত ডাইনোসরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ মিটার এবং এর মাথার খুলির আকার ১.২ মিটার।

সাপ দিয়ে বডি ম্যাসাজ
সাপ! শব্দটি শুনলেই অনেকে আঁতকে ওঠেন। সাপ ছুঁয়ে দেখা তো দূরে থাক, নাম নিলেই ভয়ে অনেকের হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে আসে। অথচ সেই সাপ দিয়েই করা হচ্ছে বডি ম্যাসাজ! ভয় পাচ্ছেন? ঘটনা কিন্তু মিথ্যে নয়। অবিশ্বাস্য, ভয় এবং আকর্ষণের এক অদ্ভুত মিশ্রণ এ সাপের ম্যাসাজ। এটি এমন এক ম্যাসাজ পদ্ধতি, যা শুনলে প্রথমে বুকের মধ্যে একটা শীতল স্রোত বয়ে যায়, মনে হয় যেন কোনো ভয়াবহ দৃশ্য দেখছি। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেকের জন্য এক নতুন ধরনের আরাম এবং শান্তির অনুভূতি নিয়ে আসে। মিসরের নাসর সিটির একটি স্পায় ফিজিওথেরাপিস্ট সাফওয়াত সুদকি যে ম্যাসাজটি শুরু করেছেন, এটি কোনো মিথ্যা প্রচারের জন্য পেশাদারভাবে তৈরি করা হয়নি বরং একটি ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার অঙ্গ হিসেবে উঠে এসেছে; যেখানে সাপের শরীরের গতিশীলতা এবং শক্তি মানুষের শরীরে বিশেষ এক ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সুদকি জানান, মনে করুন, আপনি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছেন, চারপাশে অন্ধকার। হালকা গরম পরিবেশে আপনার পিঠে অনুভূত হচ্ছে কিছু জীবন্ত গতির। প্রথমে এটায় এক ধরনের চাপ অনুভূত হয়। কারণ আপনি জানেন, সাপগুলো আপনার শরীরের ওপর গড়িয়ে যাচ্ছে। এটা এক ধরনের অজানা ভয় যেমন মনে হয়, আপনার সঙ্গে কোনো বিপদ ঘটতে পারে।