লেখা ও আঁকা : নুসরাত জাহান নওরিন
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১২:০৯ পিএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১২:৫২ পিএম
হেমন্তের সকালে কুয়াশামাখা ঠান্ডা হাওয়া গায়ে এসে লাগে। মাঠের ধানগুলো সোনার মতো ঝকঝক করছে। কৃষক রমজান আলী তার ক্ষেতের পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মুগ্ধ হয়ে চারপাশ দেখছিলেন। তার অতিকষ্টে চাষ করা ফসল পাকতে শুরু করেছে। তবে এ মুগ্ধতার মধ্যেও এক ধরনের চিন্তা আর হতাশার ছাপ তার মুখে।
প্রতিদিন ভোরবেলা তিনি ও তার পরিবারের সবাই মিলে মাঠে কাজ করতে নামেন। সারা দিনের খাটুনি, রোদের তাপ আর ক্লান্তি যেন তাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে। তবে ফসল তোলার সময় এলেও তাদের আনন্দটা ঠিক তেমন করে আসে না। কারণ ফসলের বেশিরভাগ টাকা দিতে হয় জমির মালিককে।
দুপুরবেলা রমজান আলীর বউ তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসেন, তার ছেলেমেয়েরা সবাই ক্ষুধার্ত চোখে বসে আছে। আলু ভর্তা আর সঙ্গে সামান্য ভাত দিয়ে কোনোরকমে পেটের ক্ষুধা মেটানো যায়। তিনি জানেন আজকের দিনটায় পেট ভরে খাওয়া হবে না তাদের। ফসল যে জমিতে ফলেছে, সেই জমির মালিককে ঋণ শোধ করতে যে ফসল দিতে হয়, তাতে তাদের ভাগে খুব কমই পড়ে।
তবু রমজান আলীর মুখে একটা তৃপ্তির হাসি আছে। তিনি জানেন তার হাতের পরিশ্রমেই মানুষ পেট ভরে খেতে পায়। এই যে ধান কাটার সময় চলে এসেছে, এর মধ্যেই তার শান্তি। একদিন হয়তো তার ছেলেমেয়েরাও বড় হয়ে এ কষ্টের কথা ভুলে যাবে, ভালোভাবে বাঁচতে পারবে। কিন্তু এখন তিনি শুধু ভাবেন, কীভাবে আরও একটু ভালোভাবে এ কঠিন সময়টা পার করা যায়।
একদিন সকালে হাটে গিয়ে রমজান আলী শুনলেন, সরকার কৃষকের জন্য নতুন এক প্রকল্প চালু করেছে। যেখানে তারা ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবেন। প্রথমে কিছুটা সন্দেহ হলেও তিনি আশা করতে শুরু করলেন, যদি এ প্রকল্পটা ঠিকঠাক চলে, তাহলে হয়তো এবার তার পরিবার একটু ভালোভাবে খেতে পারবে।
সে রাতে রমজান আলী প্রথমবারের মতো আশা নিয়ে ঘুমাতে গেলেন। হয়তো একদিন এ মাটির মানুষগুলো, যারা অন্ন ফলায়, তারাও পেট ভরে খেতে পাবে। আর সেই দিনটাতে তাদের মনের মাটি ফসলের মতোই সোনালি হয়ে উঠবে।
ষষ্ঠ শ্রেণি, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা