রূপসা
নুসরাত খন্দকার
প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:৩৪ পিএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:৩৫ পিএম
মডেল : তুসি, ছবি : ফারহান ফয়সাল
লাবণ্যময় ও সুস্থ ত্বক পেতে নিয়মিত কিছু ভালো অভ্যাস এবং সঠিক যত্ন নিতে হবে। এর জন্য খুব বেশি সময় এবং শ্রম কোনোটারই প্রয়োজন হয় না। দরকার শুধু ইচ্ছাশক্তি।
ত্বক সুন্দর ও সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক রুটিন মেনে চললে ত্বক ধীরে ধীরে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যকর হয়ে উঠবে। প্রতিদিন ত্বকের যত্ন নিতে যা করবেনÑ
ত্বক রাখতে হবে পরিষ্কার
প্রতিদিন সকালে এবং রাতে একটি মাইল্ড ফেস ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এটি ত্বকের ময়লা, তেল এবং ধুলা দূর করতে সাহায্য করে, যা ত্বক সতেজ রাখে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য জেল-বেসড ক্লিনজার এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম-বেসড ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
টোনার ব্যবহার
করা
ক্লিনজিং করার পর ত্বকের পোরস বা ছিদ্র ছোট করতে এবং পিএইচ ব্যালান্স ঠিক রাখতে টোনার ব্যবহার করুন। টোনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বক মসৃণ রাখে। প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে গোলাপজলও ব্যবহার করতে পারেন।
ময়েশ্চারাইজার
ব্যবহার
ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে এবং শুষ্কতা দূর করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য লাইট ওয়েট এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য ডিপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
সানস্ক্রিন
বাদ দেওয়া যাবে না
বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে, যা ত্বকের পিগমেন্টেশন ও ত্বক বিবর্ণ করতে পারে। তাই SPF ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করে ত্বককে সুরক্ষা দিন। এমনকি ঘরের ভেতরে থাকলেও ব্যবহার করতে হবে সানস্ক্রিন ক্রিম।
এক্সফোলিয়েশন
সপ্তাহে দু-তিন বার ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এক্সফোলিয়েশন করা উচিত। মৃদু স্ক্রাব ব্যবহার করে ত্বক থেকে মৃত কোষ ও ময়লা দূর করলে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখায়। তবে বেশি ঘষাঘষি করা ঠিক নয়, এতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নাইট কেয়ার
রুটিন
রাতে ত্বকের যত্ন নিতে বিশেষ নজর দিন। রাতে ত্বকের কোষগুলো পুনরুজ্জীবিত হয়, তাই একটি ভালো নাইট ক্রিম বা সিরাম ব্যবহার করুন, যা ত্বককে পুষ্টি জোগাবে এবং ত্বকের মেরামত করবে। অ্যান্টি-এজিং বা হাইড্রেটিং নাইট ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
চোখের যত্ন
চোখের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই চোখের নিচে কালো দাগ বা ফোলাভাব দূর করতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ আই ক্রিম ব্যবহার করুন।
ঠোঁটের যত্ন
ঠোঁটের যত্ন নিতে লিপ বাম বা লিপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন, যা ঠোঁট শুষ্কতা থেকে রক্ষা করবে এবং নরম রাখবে।
প্রাকৃতিক
উপাদান ব্যবহার
নিয়মিত কিছু
প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে ত্বক আরও লাবণ্যময় হয়ে উঠবে।
মধু ও দুধের মিশ্রণ : ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
টমেটোর রস : ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ট্যান দূর করে।
অ্যালোভেরা জেল : ত্বককে শীতলতা প্রদান করে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে।
এ ছাড়া জীবনযাপনেও
আনতে হবে রুটিন। তাহলে ত্বক যেমন ভালো থাকবে পাশাপাশি শরীরও চাঙা ও চনমনে থাকবে।
পর্যাপ্ত পানি পান
ত্বক হাইড্রেটেড ও উজ্জ্বল রাখতে দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সহায়ক এবং ত্বক সতেজ রাখে।
খেতে হবে সুষম
খাবার
সুস্থ ত্বক পেতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা জরুরি। আপনার খাদ্য তালিকায় তাজা শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার) রাখুন। ভিটামিন সি, ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমূহ ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
পর্যাপ্ত ঘুম
ও মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন
প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম ত্বকের জন্য অপরিহার্য। পর্যাপ্ত ঘুম ত্বকের কোষ পুনরুজ্জীবনে সাহায্য করে এবং চোখের নিচে কালি বা ফোলাভাব দূর করে। এ ছাড়া মানসিক চাপ ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই রিলাক্সেশন টেকনিক যেমন মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম করতে পারেন।
ব্যায়াম করুন
নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন উন্নত করে, যা ত্বকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং ত্বক সতেজ রাখে।
অতিরিক্ত প্রসাধনী
এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত মেকআপ
বা প্রসাধনী ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে এবং ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই যতটা সম্ভব কম
প্রসাধনী ব্যবহার করুন এবং ব্যবহারের পর ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করুন।
এ নিয়মগুলো মেনে
চললে ধীরে ধীরে আপনার ত্বক প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় হয়ে উঠবে।