মোকাদ্দেস-এ-রাব্বী
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ১১:৫৯ এএম
আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৪ ১২:৩৮ পিএম
অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার
তিন দিন হলো বিলি বাড়িতে নেই। রিশিতা বিলিকে খুঁজেই চলেছে। বাড়ির পাশে বেঙ্গলের দিঘি। বজল মিয়ার পাগার। পেছনের ড্রেনের ঘোপে ঘাপে। মন্টু মিয়ার বাঁশবাগানে। অলিগলিতে। এদিক-ওদিক। চারদিকে খুঁজছে। কোথাও পাচ্ছে না। রিশিতার মন ভার হয়ে আছে। ঠিকমতো কথা বলছে না। নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। কুঁকড়িয়ে আছে। বিলির জন্য এত খারাপ লাগছে বিলুটাও ভাইকে হারিয়ে খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। সেও যেখানে বসছে চুম্বকের মতো লেগে থাকছে। কেউ হাত দিয়ে আদর করলেও কোনো অনুভূতি প্রকাশ করছে না। কেউ গুঁতা দিলেও নড়ছে না। তিন দিনে অনেক শুকিয়ে গেছে সে। আহারে ওর ভাইটা যে কোথায় হারিয়ে গেল। নানান ভাবনা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায় রিশিতার। যতবার ভাবে ততবার মন খারাপ হয়।
বিলি আর বিলু দুটি বিড়ালছানা। ওদের মা রিশিতাদের বাড়িতেই থাকে। তাদের উচ্ছিষ্ট খেয়েই বিলি-বিলুর মা দিন কাটায়। এক মাসে আগে বিলি-বিলুর জন্ম এ বাড়িতে হয়েছে। দেখতে খুবই সুন্দর। একটা ছানার গায়ের রঙ ধবধবে সাদা। সাদার মধ্যে মাঝে মাঝে কালো ছোপ ছোপ দাগ আছে। আর একটা কালো রঙের। কালো রঙের মধ্যে আবার অনেক সাদা ছোপ ছোপ দাগ। বিলি আর বিলু সারা বাড়ি লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ায়। এদের লাফিয়ে বেড়ানো খুব ভালো লাগে টগর আর রিশিতার। ওরা ভাইবোন।
ছোট ভাই টগর রিশিতার মন খারাপের চরম অবনতি দেখে একটু আগে জানিয়েছে, বিড়ালটা একা একা হারিয়ে যায়নি। টগর এসে ওকে বলল, আপু, জানো বিলি কিন্তু একা একা হারিয়ে যায়নি। আব্বু বিলিকে বস্তায় ভরে বাইরে কোথাও রেখে এসেছে।
বিষয়টি জানতে পেরে রিশিতা আব্বুর ওপর প্রচণ্ড মন খারাপ করল। সারা দিন কিছু খেলো না।
আব্বু রাগ হয়ে কাজটা করেছে। কারণ বিলি-বিলুর মায়ের নখের আঁচড়ে তিনবার ভ্যাকসিন দিতে হয়েছে রিশিতাকে। যে কারণে আব্বু বিড়ালকে পছন্দই করেন না।
আব্বু বিকালে বাড়ি ফিরেই জানল রিশিতা আজ সারা দিন কিছু খায়নি। কী কারণে খায়নি তা-ও জানার বাকি থাকল না। আব্বু আদর করে রিশিতাকে ডাকল। শুনেও সারা দিল না ও। সামনেও গেল না। আব্বু রিশিতার সামনে গিয়ে অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করল। কাজ হলো না। ব্যর্থ হয়ে আব্বু টগরকে বলল, চল টগর, তোদের বিলিকে যেখানে রেখে এসেছি সেখান থেকে নিয়ে আসি। সবাই যখন চায় বিলি ফিরে আসুক আমি না চেয়ে লাভ কী। আসুক, বিলি ফিরে আসুক।
এ কথা শুনে রিশিতা লাফ দিয়ে আব্বুর সামনে দাঁড়ায়। বলে, আমিও যাব।
টগর, আব্বু আর রিশিতা সবাই টেটোদের বড় বাগানটায় ঢুকল। টেটো হচ্ছে রিশিতার ক্লাসফ্রেন্ড। অনেক বড়লোক তারা। ওদের বাগানে ঢুকে দেখল গাছ আর গাছ সেখানে। অনেক দিন বাগান পরিষ্কার করা হয়নি বোঝা যায়। বাগানটা চারদিকে ইটের দেয়াল দিয়ে ঘেরা। আব্বু ঢুকেই বলল, মিউ।
অমনি জঙ্গলের ভেতর থেকে দৌড়ে এলো বিলি। আব্বু সঙ্গে সঙ্গে পকেট থেকে একটা রুটি বের করে ছুড়ে মারল। অমনি গপাগপ্ খেতে শুরু করল বিলি। বিলিকে দেখে রিশিতা আকাশসমান আনন্দিত হলো। বুঝল আব্বু তাহলে গোপনে বিলিকে খেতেও দিয়ে যেত। নইলে এক ডাকে কেউ এভাবে ছুটে আসে! আব্বুর বিলির প্রতি ভালোবাসা দেখে শ্রদ্ধাবোধ আরও বেড়ে গেল। ও খপ করে বিলিকে ধরে ফেলল। ধরেই নাক দিয়ে ওর মুখের মধ্যে ঘষা দিল কয়েকবার। মেয়ের এমন কাণ্ড আর খুশি খুশি মুখ দেখে প্রাণটা ভরে গেল আব্বুর।
বিলিকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। বিলির ফিরে আসায় বিলুর মাঝে চঞ্চলতা আবার ফিরে এসেছে। ওদের মা-ও হারানো ছানাকে খুঁজে পেয়ে খুশিতে আটখানা। বিলি-বিলু আর ওদের মা পুরো বাড়ি এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।