× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিচিত্র প্রতিবাদ

প্রতিবাদের ব্যতিক্রমী ভাষা

আহমাদ শামীম

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:৪৪ পিএম

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৪ ১৩:৫৯ পিএম

ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সালের ২১ অক্টোবর পেন্টাগন অভিমুখে যাত্রা করে ১০ হাজারের মতো মার্কিন তরুণ-তরুণী। তাদের সে যাত্রায় বাধা দেয় পুলিশ। জা রোজ কাশ্মির নামে ১৭ বছর বয়সি এক তরুণী তখন পুলিশের বেয়নেটের সামনে অকুতোভয়ে এগিয়ে আসেন ফুল নিয়ে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের এ ছবিটি পরে ‘দ্য ফ্লাওয়ার অ্যান্ড দ্য বেয়নেট’ নামে পরিচিতি পায়।

ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রতিবাদে ১৯৬৭ সালের ২১ অক্টোবর পেন্টাগন অভিমুখে যাত্রা করে ১০ হাজারের মতো মার্কিন তরুণ-তরুণী। তাদের সে যাত্রায় বাধা দেয় পুলিশ। জা রোজ কাশ্মির নামে ১৭ বছর বয়সি এক তরুণী তখন পুলিশের বেয়নেটের সামনে অকুতোভয়ে এগিয়ে আসেন ফুল নিয়ে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের এ ছবিটি পরে ‘দ্য ফ্লাওয়ার অ্যান্ড দ্য বেয়নেট’ নামে পরিচিতি পায়।

মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং অধিকারের প্রশ্নে মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এরও আছে নানান ভাষা। দেশে দেশে আলোচিত এবং অভিনব কিছু প্রতিবাদ নিয়ে এ আয়োজন...

যুদ্ধবিরোধী এক আয়োজন


দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ইউক্রেনের বেশ কিছু অঞ্চল দখলে নিয়েছে রাশিয়া। প্রতিটি যুদ্ধেই নারী ও শিশুরা হয় সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত মারা গেছে অসংখ্য শিশু ও নারী।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের এক মাস পরই মার্চের ১৮ তারিখে ইউক্রেনের লভিভ শহরের বাসিন্দারা অভিনব এক প্রতিবাদ করেন।

লভিভ শহরটি পশ্চিমে ইউক্রেনের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ৭ লাখ বাসিন্দার এ শহর দিয়েই ইউক্রেনে আক্রমণ শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধের প্রথম ২২ দিনে ১০৯ শিশু প্রাণ হারায় এবং ১৩০ জনের বেশি শিশু আহত হয়। শিশু হত্যার প্রতিবাদ ও শোক জানাতে শহরবাসী লভিভের রায়নক সেন্ট্রাল স্কয়ারে ১০০ শিশুর বহনকারী ট্রলি সাজিয়ে রাখে।

লভিভ শহরবাসীর এ অভিনব প্রতিবাদের ছবি ওই দিনই ছড়িয়ে পড়ে অন্তর্জালে; যা বিশ্বজুড়ে বেশ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

ট্রলি নিয়ে সেদিন হাজির হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সি একটি শিশুও। রাশিয়ান হামলায় নিহত হয়েছে তার প্রিয় বন্ধুও। আয়োজকরা ট্রলির ভিড়ে রাখেন দুটি পুতুল। বোমার আঘাতে দগ্ধ পুতুল দুটিও ছিল হতভাগ্য কোনো শিশুর।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে আহত ও নিহত হয়েছে প্রায় ২ হাজার শিশু।

ধর্ষণের বিচার চেয়ে...


এমা সুলকোভিজ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ভিজ্যুয়াল আর্ট বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অদ্ভুত এক কাণ্ড শুরু করেন। তার বিছানা এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা শুরু করেন। যখন তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়, সুলকোভিজ উত্তর দেনÑআমি মাত্র ৫০ পাউন্ড তথা ২৩ কেজি ওজন বহন করেছি। কিন্তু আমার সঙ্গে যে অন্যায় সংঘটিত হয়েছে আর সে কারণে মনে যে ঝড় বইছে, তার ওজন এর চেয়ে হাজার গুণ বেশি। মূলত এমা সুলকোভিজ এক সহপাঠীর দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। বেশ কয়েক দিন এমা যখন এভাবে ম্যাট্রেস তথা বিছানা নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরছিলেন, তখন তা বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমার অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করে। যদিও প্রাথমিকভাবে তার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। কিন্তু এমাকে ন্যায়বিচার এনে দিতে তার অন্য সহপাঠীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের দিন সঙ্গে ম্যাট্রেস নিয়ে উপস্থিত হন। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অভিযুক্ত ওই ছাত্রকে বহিষ্কার করে। নিজের প্রতি অন্যায়ের ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে এমা সুলকোভিজের ভিন্নধর্মী এ প্রতিবাদ পরে ‘ক্যারি দ্য ওয়েট মুভমেন্ট’ বা ‘ম্যাট্রেস পারফরম্যান্স’ নামে পরিচিতি লাভ করে। এমা বর্তমানে একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং অভিনয়শিল্পী।

পতাকা ধুয়ে প্রতিবাদ


জাপানি বংশোদ্ভূত আলবার্তো ফুজিমোরি ১৯৯০ সালে পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রায় এক দশক ক্ষমতায় থাকা এ প্রেসিডেন্টের বেশ কিছু সিদ্ধান্তে দেশের জনগণ ফুঁসে ওঠে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিরোধী পক্ষকে কঠোর হাতে দমনের অভিযোগও ওঠে। ২০০০ সাল নাগাদ ফুজিমোরি পুনরায় নির্বাচনের জন্য দাঁড়ান। সে সময় তার বিরুদ্ধে দেশটির কয়েকজন নারী একত্র হয়ে ভিন্নধর্মী এক প্রতিবাদে নামেন। তারা রাজধানী লিমার প্লাজা মেয়র স্কয়ারে জমায়েত হয়ে দেশটির লাল-সাদা পতাকা ধুতে শুরু করেন। পতাকা ধোয়ার এ কার্যক্রম মূলত একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। যার মানে হলো, দেশের রাজনীতি কলুষিত। পতাকা ধুয়ে রাজনীতি ও রাজনীতিকদের পরিষ্কার তথা বিতাড়িত করতে হবে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এ কার্যক্রমে অংশ নিতে অসংখ্য মানুষ মেয়র স্কয়ারে জড়ো হয়। তারা সবাই পতাকা ধোয়া তথা প্রেসিডেন্ট ফুজিমোরিকে তাড়াতে চায়। চার মাস চলা এ কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন স্থানেও পালিত হয়। ‘লাভা লা বান্দেরা’ নামে পরিচিত এ আন্দোলন সফলও হয়। নির্বাচনে ফুজিমোরি পরাজিত হন এবং ২০০০ সালের নভেম্বরে জাপান পালিয়ে যান। কয়েক বছর পর ২০০৫ সালে তিনি আবার পেরুতে ফিরেও আসেন। ফিরে আসার পর তাকে আটক করে পেরুর তৎকালীন কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, হত্যা, বিরোধীদের দমনসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। বেশ কয়েক বছর তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা পরিচালিত হয় এবং অন্তত ২৫ জনকে হত্যাসহ তার শাসনামলে দুর্নীতির সাজা হিসেবে তাকে ২৫০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

২০২২ সাল নাগাদ ফুজিমোরির শাস্তি বাতিল করা হয়। যদিও সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফের উত্তাল হয়ে ওঠে পেরুর জনগণ। কয়েক সপ্তাহ পরই ফুজিমোরির শাস্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত তুলে নেওয়া হয় এবং এখনও তিনি জেলে তার কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করছেন। সাধারণ কয়েকজন মানুষের পতাকা ধুয়ে দেশকে পরিষ্কারের উদ্যোগের ফলে পেরুর রাজনীতি এখন অনেকটাই স্বচ্ছ।

দেয়ালে ৪৪০ জোড়া জুতা


বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো তুরস্কের সমাজেও পারিবারিক সহিংসতায় প্রতি বছর নিহত হয় অসংখ্য নারী। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার প্রণীত কঠোর আইনের পরও থেমে নেই সহিংসতায় নারীর প্রাণহরণ। নারীদের ওপর চালানো পারিবারিক নির্যাতনের বিষয়টিও আড়ালে থেকেই যায় প্রায়ই। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে অভিনব এক প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির শিল্পী ও গ্রাফিক ডিজাইনার ভাহিত তুনা।
নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া নারীদের স্মরণে শহরের দুটি দেয়ালে ভাহিত টাঙিয়েছেন ৪৪০ জোড়া জুতা। আরও স্পষ্ট করে যদি বলি, এ ৪৪০ জোড়া জুতা স্রেফ কোনো সংখ্যা বা প্রতীক নয়। এটি হচ্ছে ২০১৮ সালে পারিবারিক সহিংসতায় নিহত নারীর সংখ্যা।
স্বজনদের হাতে মারা যাওয়া সেসব নারীর স্মরণে ও নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা সবার সামনে তুলে ধরতে ভাহিত এ অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দেয়ালজুড়ে জুতার এ ছবি অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে।
ভাহিত চেয়েছিলেন বিষয়টির ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই ভাবুক। আর সেই ভাবনা থেকেই ৪৪০ জোড়া কালো হিল জুতা সংগ্রহ করেন তিনি। হিল জুতা বেছে নিয়েছেন নারী স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে, আর কালো রঙ বাছাই করেছেন শোকের প্রতীক হিসেবে। ব্যতিক্রমী এ নিয়ে ভাহিত বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম যারাই এ রাস্তা দিয়ে যাবে, তারা যেন এটা দেখতে পায়। এ কারণেই কোনো বদ্ধজায়গার বদলে খোলা জায়গায় এটি করেছি। নারীদের নির্যাতন করে হত্যার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ। জুতাগুলো এভাবে ছয় মাস টাঙানো থাকবে।’

হংকংয়ের ছাতাবিপ্লব

৭০ লাখ মানুষ নিয়ে গড়ে ওঠা শহর হংকং একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৭ সালে হংকংকে ‘এক রাষ্ট্র দুই নীতি’ কাঠামোর প্রেক্ষিতে চীনকে হস্তান্তর করা হয়। এর মানে, যদিও হংকং চীন দেশেরই অংশ, তবু শহরটির নিজস্ব কিছু স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্য থাকবে। চীনের রাজধানী বেইজিং শহরটির প্রতিরক্ষা এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
প্রথম কয়েক বছর বেশ ভালোমতোই এ নীতিতে সবকিছু চললেও সমস্যা বাধে যখন চীন হংকংকে পুরোপুরি নিজেদের আয়ত্তে আনার চেষ্টা শুরু করে। ২০০৩ থেকে আজ অবধি নিরাপত্তা, শিক্ষা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং এ রকম নানা বিষয়ে চীন নিজেদের মতো করে শহরটি গড়ে তুলতে চায়। তবে হংকংবাসী বারবারই এসব কিছুর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ২০১৪ সালের আন্দোলনের পরই মূলত হংকংয়ের এসব আন্দোলন ‘ছাতাবিপ্লব’ বা ‘ছাতা আন্দোলন’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে বিধায় প্রায়ই ২০০৩ সাল থেকে বর্তমানের সব আন্দোলনকে একত্রে এ নাম দুটি দিয়েই প্রকাশ করা হয়।
হংকংয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষা এবং একটি সুষ্ঠু ও প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনের উদ্দেশ্য আদায়ে যখন রাস্তায় নামে তখন তাদের থামাতে সরকার অনেক চেষ্টাই করে।
২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হংকংয়ে সরকারের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ মরিচের গুঁড়া, কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান দিয়ে আক্রমণ করে। এ আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রছাত্রীদের দাবিগুলো অগ্রাহ্য করে তাদের আন্দোলন বন্ধ করে দেওয়া। তবে ফল হলো ঠিক এর বিপরীত। সাধারণ মানুষও দলে দলে এ আন্দোলনে যোগদান শুরু করল। নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের কাছে এ জ্বালাময় হামলা থেকে বাঁচার হাতিয়ার হিসেবে ছিল ছাতা এবং ভেজা তোয়ালে। পুলিশের আক্রমণের সময় পুরো জনসমুদ্র হাজার হাজার ছাতার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। সাধারণ ছাতাই যেন আন্দোলনটির মূল প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। আর এজন্যই সংবাদমাধ্যমে এটি ‘ছাতাবিপ্লব’ নামে পরিচিতি লাভ করে। অবশ্য আন্দোলনের নেতাদের মতে এটা কোনো বিপ্লব নয়, বরং নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন। চীনের কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন করছে তা পুনরায় আদায় করার উদ্দেশ্যেই শুরু হয় এ আন্দোলন।
২০১৯ সালের ৯ জুন ১০ লাখের বেশি মানুষ চীন সরকারের বিরুদ্ধে একত্র হয়ে রাস্তায় নামে। ছাতা আন্দোলনের পর এটাই ছিল হংকংয়ের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। তবে পুলিশের কারণে এ কর্মসূচি বিপাকে পড়ে যায়। হামলায় ৮০ জন আহত হয়। ফলে আন্দোলনের বিস্তৃতি আরও বেড়ে যায়। আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ১০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেয় সাধারণ মানুষ। এমনকি বেইজিং এ ঝামেলায় জড়াতে চায় না বলে সরে দাঁড়ায়। অবশেষে ১৫ জুন হংকংয়ের মুখ্য কার্যনির্বাহী ক্যারি লাম বিলটি স্থগিত করেন।

গানে গানে প্রতিবাদ
জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের লড়াই এখনও চলমান। এ বিদ্রোহের শুরু হয়েছিল ভিন্নভাবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে সরব হয়েছিল দেশটির তরুণরা। তা-ও আবার গানের মাধ্যমে।
প্রতিবাদী গানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে মিয়ানমারে। এসব গানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, স্বৈরশাসনের প্রতিচ্ছবি ছাড়াও সুন্দর আগামীর কথা থাকে। ১৯৮৮ সালের দিকে দেশটিতে এমন গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখন জান্তা সরকার রাজপথে গুলি চালিয়ে বহু বিক্ষোভকারীকে হত্যা করে।
মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে গানকেই বেছে নিয়েছিল দেশটির তরুণ প্রজন্ম। মাইকেল জ্যাকসনের গানে নাচা আর স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী দেশাত্মবোধক গানে মুখরিত ছিল ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়াঙ্গুনের রাজপথ। ১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয়বার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী। ওই ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মিয়ানমারের শহরে শহরে বিভিন্ন ব্যতিক্রমী কায়দায় প্রতিবাদ করছে মানুষ। শুরুটা হয়েছিল হাঁড়িপাতিল পিটিয়ে।
প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল শহরগুলোয় মানুষ প্রতিদিনকার ব্যবহার্য উপাদান ছাড়াও বড় বড় ড্রাম জড়ো করেছে রাস্তায়। সেগুলো পিটিয়ে নিজেদের তৈরি গানে সুর করে গাইতে থাকে বিক্ষোভকারীরা। দেশের বাইরে বিক্ষোভের খবর পৌঁছানো বন্ধ করতে ইন্টারনেটের ওপর চড়াও হয় সেনাবাহিনী।
ফেব্রুয়ারির শেষভাবে ইয়াঙ্গুনে একদল তরুণ ভায়োলিন, চেলো, ত্রবনসহ অন্যান্য উপকরণ নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। তারা নিজেদের ‘জেনারেশন জেড এমএম’ নামে পরিচয় করিয়ে দেয়। নিজেদের লেখা ‘রেভলিউশন’ নামের একটি গান তখন ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় মানুষের মুখে মুখে ফিরছিল। ২৫ বছর বয়সি গায়ক প্যান তার দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে রাস্তায় নেমেছেন নিজের গলা সম্বল করে। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘আমাদের গানের কথার অর্থ হলো আমরা তরুণরা নিজেদের রক্ত-মাংস দিয়ে আমাদের মানুষের পাশে আছি, এ স্বৈরশাসনের শেষ দেখতে চাচ্ছি আমরা। সংগীত সব মানুষের হৃদয় বিদ্ধ করতে পারে। আমার বিশ্বাস, যারাই আমাদের গান শুনছেন তারা উদ্বুদ্ধ হবেন।’

সাহসের প্রতীক চীনের ট্যাংকম্যান
১৯৮৯ সাল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে চীন তখন ভীষণ উত্তাল। রাজধানী বেইজিংয়ে চলছে বিক্ষোভ। এর মূল কেন্দ্র শহরটির তিয়েনআনমেন স্কয়ার। বিক্ষোভ দমাতে ওই বছরের ৪ জুন রাতে তিয়েনআনমেন স্কয়ারে জনতার ওপর অস্ত্র হাতে হামলা চালায় চীনের সরকারি বাহিনী। হত্যা করা হয় শত শত মানুষকে। এর পর দিন ৫ জুন সকালে শহরের অভিমুখে চলা সেনাদের ট্যাংকের সামনে হঠাৎ এসে দাঁড়িয়ে পড়েন বাজারের ব্যাগ হাতে এক ব্যক্তি। তিনি চলমান ট্যাংকগুলোকে থামাতেও পেরেছিলেন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা দুজন তাকে সরিয়ে নিয়ে যান। ওই ব্যক্তি কে ছিলেন বা তার পরিণতি কী হয়েছিল, তা কখনোই জানা যায়নি। তবে সাহসের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন।

ধরিত্রী দিবসের প্রতীকী সেই ছবি
পরিবেশ ও পৃথিবী রক্ষার তাগিদ থেকে ২২ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ধরিত্রী দিবস। ১৯৭০ সালে মূলত এ দিনটির উদ্ভব। ওই বছরের ২২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে পরিবেশবাদীদের আয়োজনে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। পরিবেশের সুরক্ষায় সাধারণের সচেতনতা বাড়ানো, র‌্যালি, গানসহ বেশ কয়েকটি আয়োজন ছিল। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পিটার হ্যালারম্যান গ্যাস মাস্ক পরে ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার একটি ছবি তোলেন। ছবিটি পরে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠে। হ্যালারম্যান বিশ্ববাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন, তোমরা যদি সচেতন না হও, তবে নিকট অতীতে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার উপায় থাকবে না কারও। গ্যাস মাস্কই হবে সবার শেষ ভরসা।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা