প্রচ্ছদ
সুবর্ণা মেহ্জাবীন স্বর্ণা
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪ ১৫:৪৩ পিএম
মডেল : সজীব ও রশনি; পোশাক : রঙ বাংলাদেশ; মেকআপ : রেড বিউটি সেলুন; ছবি : ফারহান ফয়সাল
পুজোয় দলবেঁধে পরিবারের সবাই মিলে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো, দেবীদর্শন, খাওয়াদাওয়া তো চলবেই। তবে পড়ন্ত বিকালের সোনালি সময়টা প্রিয়জনের জন্য তো রাখা যেতেই পারে। চারপাশে উৎসবের আবহ, সুন্দর সাজসজ্জা আর আনন্দের পরিবেশ এ সময়টাকে আরও বিশেষ করে তুলতে পারে।

পুজোর ছুটির বিকালে কাছাকাছি কোনো সুন্দর মণ্ডপে বা মন্দিরে ঘুরতে যেতে পারেন। সঙ্গীর হাতে হাত ধরে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, আলোকসজ্জা দেখা এবং আরতির সময় কাটানো খুবই মনোমুগ্ধকর হতে পারে। পুজোর ভিড়ে একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যে এক ধরনের বিশেষ আবেগ কাজ করে। পুজোর সময় নানা ধরনের স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। ফুচকা, চাট, রোল, কাবাব থেকে শুরু করে মিষ্টিÑসবকিছু উপভোগ করতে পারেন সঙ্গীর সঙ্গে। একসঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিছু খাওয়ার মধ্যে রয়েছে এক ধরনের স্বতন্ত্র আনন্দ। যদি একটু শান্তিপূর্ণ সময় কাটাতে চান, তবে কোনো পার্কে বা খোলা জায়গায় পিকনিকের মতো করে সময় কাটাতে পারেন। কিছু হালকা খাবার সঙ্গে নিয়ে পার্কে বসে গল্প, হাসিঠাট্টায় আরামদায়ক পরিবেশে বিকালটা কাটাতে পারেন।

পুজোর ভিড় থেকে একটু দূরে সঙ্গীর সঙ্গে কোনো ক্যাফেতে বা চায়ের দোকানে গিয়ে আরাম করে কফি বা চা উপভোগ করতে পারেন। এ সময়ে একে অন্যের সঙ্গে কিছু বিশেষ মুহূর্ত শেয়ার করতে পারেন। বাড়িতে থাকলে পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করতে পারেন। একসঙ্গে ফটো অ্যালবাম দেখুন, পুরোনো দিনের গল্প করুন বা প্রথম পুজোর স্মৃতিগুলো শেয়ার করুন। এ সময়গুলো আপনাদের সম্পর্ক আরও গভীর করবে। অনেক মণ্ডপে সন্ধ্যারতি হয়। এ আরতির সময় মন্ত্র, ধূপের গন্ধ, ঢাকের আওয়াজ, আর দেবদেবীর আরাধনায় মণ্ডপের পরিবেশ একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ করে। সঙ্গীর হাত ধরে আরতি উপভোগ করতে পারেন।

সঙ্গীকে নিয়ে কাশফুলের প্রান্তরে ঘুরতে গেলে সময়টা যে সুন্দর কাটবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শরতের এ সময়টা কাশফুলের সাদা সৌন্দর্য আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতা উপভোগ করার জন্য আদর্শ। বিকালে সূর্যের নরম আলো কাশফুলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে, আর এ সময় সঙ্গীর হাত ধরে হেঁটে সময় কাটানো বেশ উপভোগ্য হবে। আপনি চাইলে সূর্যাস্তের সময়টাও বেছে নিতে পারেন, কারণ এ সময় কাশফুলের প্রান্তর আরও মায়াবী হয়ে ওঠে। কাশফুলের প্রান্তরে প্রকৃতির মাঝে বসে সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানো আর প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা পুজোর দিনে ভিড়ের বাইরে দারুণ একটা সময় কাটতে পারে। এ সময় সঙ্গীর জন্য কিছু বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করতে পারেনÑএকটা ছোট্ট উপহার, মিষ্টি কথা অথবা হাতে হাতে ধরে নির্জন প্রান্তরে হাঁটা। এতে সম্পর্ক আরও গভীর হবে। ঢাকার আশপাশে কাশফুল দেখতে যেতে চাইলে বেশকিছু পরিচিত স্থান আছে। যেমন পূর্বাচল, উত্তরা দিয়াবাড়ী, তুরাগ নদের তীর, আশুলিয়া, গাজীপুরের কিছু অঞ্চলে কাশফুল পেয়ে যাবেন।
পুজোয় সঙ্গীর সঙ্গে ঘুরতে বেরোলে পরতে পারেন যেমন পোশাক-

রঙের সমন্বয়
একে অন্যের পোশাকের সঙ্গে রঙের সমন্বয় করলে কাপল হিসেবে দারুণ লাগবে। একেবারে একই রঙ না হলেও পরিপূরক রঙ বেছে নেওয়া যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি সাদা পরেন, সঙ্গী লাল বা নীল পরতে পারেন। পুজোর সময় লাল, সাদা, হলুদ, গোলাপি এবং নীল রঙের প্রচলন বেশি দেখা যায়।

ঐতিহ্যবাহী
পোশাক
নারীদের পুজোর সময় শাড়িই বেশি পরতে দেখা যায়। বিশেষ করে সাদা শাড়ি লাল পাড় বা হলুদ শাড়ি, কিংবা কাতান, তসর বা সিল্কের শাড়ি এ উৎসবের সঙ্গে মানানসই। সঙ্গীর পোশাকের সঙ্গে রঙ মিলিয়ে শাড়ি পরলে আরও সুন্দর লাগবে।

পুরুষের জন্য পাঞ্জাবি হলো পুজোর সময় সবচেয়ে জনপ্রিয়
পোশাক। সাদা, লাল, হলুদ বা রঙিন কাজের পাঞ্জাবি পরা যেতে পারে। যদি সঙ্গী শাড়ি পরেন
তবে পুরুষের পাঞ্জাবির রঙ বা কাজ মিলিয়ে নেওয়া যেতে পারে।

আধুনিক স্টাইলের
ফিউশন পোশাক
কাপলরা চাইলে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ করতে পারেন। নারীরা শাড়ির সঙ্গে স্লিভলেস ব্লাউজ, বেল্ট বা মেটালিক জুয়েলারি পরতে পারেন। অথবা শাড়ির পরিবর্তে লেহেঙ্গা বা ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ড্রেসও বেছে নিতে পারেন। পুরুষরা পাঞ্জাবির সঙ্গে স্টাইলিশ জ্যাকেট বা কোট যোগ করতে পারেন। চুরিদার বা ধুতির বদলে জিন্সের সঙ্গে পাঞ্জাবিও মানানসই হতে পারে।

আরামদায়ক
পোশাক
পুজোর সময় অনেকটা বাইরে কাটাতে হয়, তাই পোশাক অবশ্যই আরামদায়ক হওয়া উচিত। কাপড় হালকা হলে এবং পরার সময় স্বচ্ছন্দ দিলে পুজোর আনন্দ আরও বেড়ে যাবে। লিনেন বা সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবি ও শাড়ি এ সময় ভালো বোধ করবে।
কন্ট্রাস্ট পোশাক
যদি একে অন্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে পোশাক পরতে না চান, তবে কন্ট্রাস্টও করতে পারেন। একজন যদি গাঢ় রঙের কিছু পরেন, অন্যজন হালকা রঙের কিছু পরতে পারেন, যা দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে।
গহনা ও অ্যাকসেসরিজ
নারীদের জন্য
সোনার গহনা বা অক্সিডাইজড মেটাল গহনা পুজোর সাজে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। কানের দুল,
চুড়ি বা নথ পরতে পারেন। পুরুষরা চাইলে স্টাইলিশ ঘড়ি, সানগ্লাস বা কোলাপুরি চপ্পল
দিয়ে পোশাকের সৌন্দর্য বাড়াতে পারেন।