× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভাইয়ের সঙ্গে স্কুল স্কুল খেলা

শাশ্বত দে

প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১২:১৮ পিএম

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৪ ১২:১৯ পিএম

ছবিটি এঁকেছে সুওয়াইবা বিনতে মাহমুদ। সে ঢাকার আজিমপুর গভ. গার্লস
স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী

ছবিটি এঁকেছে সুওয়াইবা বিনতে মাহমুদ। সে ঢাকার আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী

আমার নাম শাশ্বত দে। আমার ছোট ভাইয়ের নাম সপ্তর্ষি দে। আমি সব সময় তাকে পড়াই। কিন্তু কয়েক দিন ধরে সে আমাকে পড়াচ্ছে! সে আমার গণিত বই থেকে আমাকে অঙ্ক করায়। আমার একটা লাল কালির কলম আছে। সে কলম দিয়ে আমি আমার ছোট ভাইয়ের লেখা চেক করতাম। যদি তার লেখাটা ঠিক হতো, তাহলে তার খাতায় আমি টিকচিহ্ন দিতাম, আর যদি তার লেখা ভুল হতো তাহলে তাকে ক্রসচিহ্ন দিতাম। কিন্তু এখন এ কাজটা সে আমার সঙ্গে করে! অথচ আমি পড়ি পঞ্চম শ্রেণিতে। সে প্রথম শ্রেণিতে! যেকোনো মানুষের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, প্রথম শ্রেণিতে পড়া একটা ছেলে কীভাবে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া একজনের লেখা চেক করতে পারে? তা-ও আবার গণিত বিষয়ের পড়া! প্রথম শ্রেণিতে পড়ে এ রকম কারও পক্ষে পঞ্চম শ্রেণির অঙ্ক করা তো সম্ভবই না! আসল ব্যাপারটা হচ্ছে সে সব অঙ্ক ক্যালকুলেটরে করে। এভাবে সে প্রায়ই আমাকে পড়ায়। কিন্তু সে আমাকে দিয়ে অনেক বেশি অঙ্ক করায়। এত বেশি অঙ্ক করতে আমার ভালো লাগে না। একবার তো তার কাছে আমার পুরো ২৬৮ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়েছিল! আর আমি সে পরীক্ষায় ২৬৮-তে ২৬৮ পেয়েছিলাম! কিন্তু এত বেশি অঙ্ক করতে আমার আর ভালো লাগছিল না। তাই আমি নিজের ইচ্ছায় ওই বিদ্যালয় থেকে টিসি নিলাম। সে আমাকে বলল, ‘এখন থেকে তুমি অন্য আরেকটা স্কুলে পড়বে। সেখানকার টিচারও আমিই হব। কিন্তু সেই বিদ্যালয়ে অনেক কম পড়ানো হবে।’ তাই আমি তার নিজেরই আরেকটা বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। সেখানেও ও-ই পড়াত। কিন্তু পরিমাণে অনেক কম পড়াত। সে আমার ছোট ভাই হয়। তাকে আমি সব সময় অর্ঘ্য বলে ডাকি। কিন্তু তার বিদ্যালয়ে পড়ার সময় যখন অর্ঘ্য বলে ডাকতাম, তখন সে আমার ওপর খুব রাগ করত। সে আমাকে বলত, ‘অর্ঘ্য ডাকো কেন? আমাকে সব সময় স্যার বলে ডাকবে।’ কিন্তু আমার ওকে অর্ঘ্য বলে ডাকার দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। তাই সে যখন আমাকে ক্লাস করায়, তখন ভুলবশত আমি তাকে অর্ঘ্য বলে ফেলি। তাই সে আমার ওপর খুব রেগে যায়। তারপর একদিন সে আমার ওপর খুব রেগে গিয়ে বলল, ‘তুমি যদি আর একবারও আমাকে অর্ঘ্য বলে ডাকো, তাহলে তোমাকে আমি টিসি দিয়ে দেব।’ তারপর ওইদিনই আমি তাকে ভুল করে আবার অর্ঘ্য বলে ফেললাম। সে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই তার ওই স্কুল থেকে আমাকে ছাড়পত্র দিয়ে দিল! তারপর সে আমাকে বলল, ‘এখন থেকে তুমি আমার আরেকটা স্কুলে পড়বে। সেখানকার টিচারও আমিই হব। কিন্তু সেখানে এখানকার চেয়েও কম পড়ানো হবে।’ তারপর আমি তার আরেকটা স্কুলে ভর্তি হলাম। এভাবেই চলতে থাকে আমাদের মজার স্কুল স্কুল খেলা। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি ওর সঙ্গে স্কুল স্কুল খেলি। কখনও আমি ওকে পড়াই, আবার কখনও ও আমাকে পড়ায়। এর ফলে আমরা নিজেরাই নিজেদের পড়াশোনা করতে পারি। ওর সঙ্গে আমার এ খেলা খেলতে খুব ভালো লাগে।
পঞ্চম শ্রেণি, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা