রম্য গল্প
আবদুর রব শরীফ
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৪:১৮ পিএম
বিয়ের পর নতুন জ্বালা। বউ ফোন করে বলল, কী করতেছো? বললাম, বৃষ্টি দেখতেছি।
-তোমার কলিগের নাম যে বৃষ্টি, সে খবর আমি রাখি না মনে করছো!
-আরে না, ঝড়বৃষ্টি… আরে হ্যাঁ।
-কোন বৃষ্টি তা আমাকে বোঝাতে হবে না।
এখন আর বলি না বৃষ্টি দেখতেছি। বলি, আকাশ থেকে ঝরনার মতো পানি পড়া দেখছি।
-ও আচ্ছা। তাই তো বলি, ঝরনা কে! আমি কিছু বুঝি না মনে করছো?
সেদিন চট্টগ্রাম অক্সিজেন মোড়ে কোমরসমান পানি। এমন সময় বউ ফোন দিয়ে বলল, বৃষ্টি হচ্ছে দ্রুত চলে আসো।
উত্তরে বৃষ্টি তো আর বলা যাবে না, বললাম, আসলেই আকাশ থেকে এত পানি পড়ছে যে নদী বয়ে গেছে।
বউ আবারও ছ্যাঁৎ করে উঠল, বৃষ্টি ঝরনা নদী তোমার কয়টা লাগে শুনি?
-ইয়ে মানে সাগর বয়ে যাচ্ছে।
ফোন কাটার আগে শুনলাম বিড়বিড় করে বলছে, জানি জানি সাগরিকা বয়ে যাচ্ছে!
ইদানীং বাসায় হায়দারের গান ফুল ভলিউমে শুনি, ‘কোন পাগলে পাইছিল, করছি শখের শাদি, ক্ষমতার যিমুন-তিমুন ভাবে শাহজাদি।’
বউ সেদিনও দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বলল, আগে বলো শাহজাদিটা কয় নম্বর ছিল?
আজ বউয়ের মুড অফ। চাঙা করার দায়িত্ব নিয়ে বললাম, জানো একজীবনে আমাদের কত স্মৃতি? তারপর সে বলল, স্মৃতি কে? আমাকে তো বলোনি কখনও। আমি জানি পুরুষমানুষ এমনই! কখনও ঠিক হবে না।
রাগ কমাতে বউকে একটু কাছে টেনে গান শুরু করলাম, ‘সাথি তুমি আমার জীবনে...’
-ও আচ্ছা পাশের বাসার সাথি, তাই না। সুন্দরী ছিল তো, আমাকে বিয়ে না করে ওকে করলেই পারতে।
নিরুপায় হয়ে বললাম, তোমার কথা শুনলে হাসি পায়।
-তুমি যে হাসি বেগমের কথা বলতেছ, তা তো বুঝতেই পারছি!
এবার একটু পাম্প দিয়ে শান্ত করার চেষ্টায় বললাম, জানো বউ, তুমি না একটা জিনিয়াস! সবকিছুর মধ্যে মেয়ের গন্ধ পাও।
বউ বলল, তুমিও তো কম যাও না, জিনিয়া… আচ্ছা, এইটা কয় নম্বর ছিল?
-বাদ দাও না এসব। আসো তোমাকে একটা কবিতা শোনাই।
ওই দিক থেকে, আমি তো ভালা না মিস কবিতা লইয়া থাকো।
ইদানীং গান-কবিতা, ঘটনা-রটনা বউকে বলার আগে ভালো করে দেখে নিই কোনো প্রকার নারীর নাম আছে কি না! তার চেয়ে বরং মিলন নাম যখন ছেলের তার নামের গানই গাওয়া যাক। ‘মিলন হবে কতদিনে, আমার মনের মানুষেরও সনে...!’
পাশ থেকে সে এসে চিমটি কেটে বলল, মিলন কখন হবে তা তার বাবা মা জানে।
আমিও বললাম, কেবলই বাবা জানে তার মা কিছু জানে না।