স্বপ্নিল কুমার ভদ্র
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:১৫ পিএম
সকালবেলা। রিনি আর ঈশান দুই ভাইবোন বসে আছে নদীর পাড়ে। সুন্দর বাতাস বইছে। নদীর পাড়ে ফুটে থাকা কাশফুলগুলো দুলছে বাতাসে। এখন চলছে শরৎকাল। নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। কী সুন্দর! রিনির মনে হয়, ইস! মেঘেদের কত আনন্দ। সেও যদি মেঘেদের মতো ভেসে বেড়াতে পারত! আকাশটাকে মনে হয় কোনো শিল্পী যেন নীলাভ চাঁদর দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন। চারদিকে কী অপরূপ দৃশ্য! রোদের আলো নদীর জলে ছড়িয়ে দিচ্ছে সোনা। একদল হাঁস সাঁতার কাটছে নদীতে। ঈশান বলে, দেখ, রিনি, দূরের ওই গগনশিরিষ গাছগুলোকে পাহাড়ের মতো
লাগছে। দেখ, দেখ, বক উড়ে যাচ্ছে! রিনি তাকাল আকাশে। ওর মনেও ওই বলাকার পথখানি চিনে নিতে ইচ্ছে করে। একসময় বাড়ি ফিরে তারা।
ভাইবোনের মধ্যে রিনি বড়, ঈশান ছোট। নদীর কাছেই তাদের বাড়ি। বিকালে রিনি স্কুল থেকে ফিরে মাকে বললো, মামনি, ঈশানকে নিয়ে আবার একটু ঘুরে আসি?
মা বললেন, ‘আচ্ছা যাও। তবে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই ফিরে আসবে, কেমন।’
‘আচ্ছা, ঠিক আছে’ বলে রিনি ঈশানকে নিয়ে বেড়াতে বেরিয়ে পড়ে। তারা আবারও যায় নদীর ধারে। একটা পালতোলা নৌকা অজানা গন্তব্যে যাচ্ছে। মাঝিকে চেনে রিনি। তাদের পাশের বাড়ির সোলায়মান চাচা। তাদের খুব স্নেহ করেন।
রিনি ডাক দেয়, ‘সোলায়মান চাচা, ও সোলায়মান চাচা।’
চাচা যাচ্ছিলেন ভাটিয়ালি গান গেয়ে। রিনির কথায় তিনি হেঁসে তীরে নৌকা ভেড়ালেন।
বললেন, ‘আরে! রিনি মা যে! আয় মা, তোদের একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। ওরা নৌকায় উঠে অনেকক্ষণ ঘুরল। নদীর দুধারের গাছপালা, গ্রাম, বাজার, মসজিদ, মন্দির তাদের ভালো লাগল। সোলায়মান চাচা অনেক গল্প শোনালেন। বিকালের দিকে চাচা তাদের তীরে পৌঁছে দিলেন। দুই ভাইবোন এই অভিজ্ঞতা কখনোই ভুলবে না।
রিনিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঈশান বলল, ‘কি রে, যাবি না?’
রিনি বলে, দাঁড়া, কিছু কাশফুল তুলে নিই। রিনি কাশফুল তুলল আর ঈশানকে কিছু দিল। এর মধ্যে সূর্য পশ্চিম আকাশে ডুবে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুরু হয়ে গেল গোধূলি। আর দেরি নয়। বাড়ির দিকে ওরা পা বাড়াল।
ষষ্ঠ শ্রেণি, ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুল, ময়মনসিংহ