আলোকচিত্র প্রদর্শনী
হাসনাত মোবারক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ২৩:০১ পিএম
বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে খাবারের বাটি হাতে নিয়ে ঘাটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন এক শ্রমিক। নদীতে বাঁশের ভেলা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে আরেকদল শ্রমিক। চানাচুর ভাজার ডালা মাথায় নিয়ে ছুটেছেন একজন। কেউ ধরছেন মাছ কেউবা কাজের ফাঁকে খুঁজে নেয় একটু বিশ্রাম। ছুটেছে ট্রেন, ছেড়ে দেওয়ার অপেক্ষায় বন্দরের লঞ্চ। ঘুরে ফিরে শ্রমজীবী মানুষ আর তাদের কাজের সময় যেন আটকে গেছে ক্যামেরার ফ্রেমে। নৌবন্দর, রেলওয়ে জংশনসহ নানা ভাবে ব্যস্ত মফস্বল এক শহর ভৈরব। এই শহরের নানা পেশার মানুষের জীবনযাপন ও স্থাপনার গল্প নিয়ে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের চিত্রশালায় শুরু হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। যেখানে স্থান পেয়েছে ৪৬ তরুণের ৪৬টি ছবি। ২১ সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীটির নামকরণ করা হয়েছে ‘আলোকচিত্রে ভৈরব’। চলবে চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত। বিকাল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত এই প্রদর্শনী।
আলোকচিত্রী : আবদুল্লাহ-আল-মামুন
আলোর ইশকুল আয়োজিত এই
প্রদর্শনীতে ঢুকে চোখে পড়লো নুসরাত জাহানের তোলা ছবির ফ্রেমে বন্দি হওয়া দুটি রেলসেতুর
ওপর চলন্ত দুটি ট্রেন। একটি ভৈরব ছেড়ে যাচ্ছে আরেকটি প্রবেশ করছে। এই দৃশ্যে মূলত ভৈরবের
ব্যস্ততা ফুটে উঠেছে। দূর থেকে আগত ক্লান্ত ট্রেনের প্রতিচ্ছবি উঠে এসেছে আহমেদ আবদুল
বাতেনের তোলা ছবিতে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া
আলোকচিত্রী অনুপ রায় বলেন, আমরা ছিলাম আলোর ইশকুল আলোকচিত্র চক্রের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
ছয় মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণে আমাদের সর্বশেষ আউটফিল্ড ছিল ভৈরব। প্রত্যেককে ছবিতে অভিজ্ঞতা
তুলে ধরতে বলা হয়েছিল। ক্যামেরা দিয়ে যে একটি এলাকার গল্প তুলে ধরা যায়, তা এই প্রদশর্নী
দেখে জানতে পারলাম।’ এই ব্যাচের আরেক আলোকচিত্রী ইখতিয়ার মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রশিক্ষণের
অংশ হিসেবে ছবি তুলতে আমাদের তিনবার আউটফিল্ডে যেতে হয়েছে। সর্বশেষ গেছি ভৈরবে। অনন্য
অভিজ্ঞতা লাভ করেছি ভৈরব থেকে।’
আলোকচিত্রী : মোহনা আক্তার
কথা হয় প্রদর্শনী দেখতে
আসা খুশবু আকন্দের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছবিগুলো দেখে আমি যেন ভৈরব ভ্রমণের স্বাদ পেলাম। স্বশরীরে গিয়েও হয়তো এতকিছু দেখতে পেতাম না যা এখানে এসে দেখেছি।’ দর্শনার্থীরা এক ছাদের
নিচে একটি জনপদের গল্প জানতে পারবে যৌথ এই প্রদর্শনীতে। আয়োজনের সমন্বয়ক মেসবাহ উদ্দিন
আহমেদ বলেন, আলোকচিত্রীরা অনেক ছবি তুলেছেন। সেখান থেকে প্রত্যেক আলোকচিত্রীর একটি
করে ছবি বাছাই করা হয়েছে। যে ছবিতে রয়েছে ভৈরবের মানুষ গল্প।’
আলোকচিত্রী : সান্ত্বনা চক্রবর্তী
মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র ও নদের মিলনস্থলে গড়ে ওঠা কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব শহরটিই যেন তুলে ধরা হয়েছে।