শনিবারের হাসি
সারোয়ার হোসেন
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২:৩৮ পিএম
আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩:১৯ পিএম
বাঁচার জন্য খাওয়া নাকি খাওয়ার জন্য বাঁচা? এ কথাটির পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি থাকলেও বাহার আলী যেন খাওয়ার জন্যই বেঁচে আছে। এ কাজের জন্য বাজিতে অনেকবার জিতেছে। গ্রামে পেটুক বাহার আলী নামেই সমধিক পরিচিত। বাহার আলীর অনেক দিনের শখ মেট্রোরেলে চড়া ও সমুদ্র দেখা। তাই সে প্রথমে ঢাকা ও তারপর চট্টগ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার গ্রাম থেকে ঢাকায় যেতে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাগে। দীর্ঘ ভ্রমণের পর ঢাকায় নেমেই একটি রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়ে খাওয়ার জন্য। হোটেলবয় তাকে খাওয়ার চার্ট দেয়। চার্টে বাহার আলী চাছমি ছানা (ভর্তা) নামে একটি নতুন খাবারের নাম দেখতে পায়। খাবারটি অর্ডার দিতেই হোটেলবয় যখন বেগুন ভর্তা নিয়ে এলো, তখন বাহার আলীর মেজাজ যেন তেলেবেগুনে জ্বলে গেল। বেগুন ভর্তা তো সে বাড়িতেই খুব একটা খায় না। সে চাছমি ছানাকে খুব একটা সুস্বাদু খাবার মনে করেছিল। চাছমি ছানা ফেরত দিয়ে চিংড়ি মাছের ভুনা দিয়ে দুপুরের খাবার শেষ করল। বিকালে মেট্রোরেল ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যা নামতেই বাহার আলীর প্রচণ্ড খিদে পেল। হাতের কাছে একটা হোটেলে ঢুকেই চিৎকার করে হোটেলবয়কে ডেকে বলল, কী কী আইটেম আছে?
হোটেলবয় বিভিন্ন ধরনের খাবারের নাম বলার এক পর্যায়ে বলল, খুদে ভাতটা আমাদের রেস্তোরাঁয় খুব বেশি চলে। বাহার আলীর নতুন নামের খাবারের প্রতি খুব আগ্রহ। খুদে ভাত চাইতেই তার সামনে যখন বউখুদা (গ্রামে চালের খুদ দিয়ে তৈরি খাবার) আনতেই বাহার আলী রেগে আগুন। তার মন চাইছিল হোটেলবয়কে একটা ঘুসি মারতে। কোনোমতে রাগ নিয়ন্ত্রণ করে বাহার আলী বেরিয়ে যায়। হোটেলবয় অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
কিছুদূর যেতেই বাহার আলী আহার রেস্তোরাঁ নামে খাবার হোটেলের সামনে মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখতে পায়। ভিড় ঠেলে এগিয়ে জানতে পারে, আজ এ রেস্তোরাঁয় পেটুক প্রতিযোগিতা হবে। তিনটি ধাপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমে প্রিলিমিনারি টেস্ট। তারপর মৌখিক ও শেষে প্র্যাকটিকাল। সেরা পেটুক পুরস্কার হিসেবে পাবে একটি আইফোন। প্রিলিতে ১০ জন টিকে যাওয়ার পর তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো। সবার জন্য অভিন্ন প্রশ্নÑএমন সব খাবারের নাম বলতে হবে যেগুলো মূলত খাবার নয়, তার পরও জীবনে আমরা অনেক খাই।
বাহার আলী প্রশ্নের উত্তরে বসের বকা খাওয়া, লোকাল বাসে চাপ খাওয়া, ঘুষ খাওয়া, ছ্যাঁকা খাওয়া, বাঁশ খাওয়া, বাতাস খাওয়া, ক্র্যাশ খাওয়া এ সাতটি নাম বলে। আরও একজন সমানসংখ্যক নাম বলায় প্র্যাকটিকাল পর্বে দুজন উত্তীর্ণ হয়। এ পর্বে যে বেশি গরুর মাংস খেতে পারবে সে-ই হবে পেটুক অব দ্য ইয়ারÑ২০২৪। এ পর্বটি রেস্তোরাঁর সামনে বিশাল স্ক্রিনে লাইভ দেখানো হবে। এ পর্বে বাহার সাড়ে ৩ কেজি ও তার প্রতিপক্ষ ৩ কেজি মাংস খায়। বাহার বিজয়ী হয়ে পায় একটি আইফোন। শুধু তাই নয়, তাকে একটি কার্ড দেয়, যেটি দেখালে এ রেস্তোরাঁয় সব খাবারে আজীবন তাকে দেওয়া হবে ৯০ পারসেন্ট ডিসকাউন্ট। সেরা পেটুক বিজয়ী হওয়ার সুখস্মৃতি নিয়ে সে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয় সমুদ্র দেখতে। কক্সবাজারে সমুদ্র দেখে বাড়ি ফেরার ঠিক আগমুহূর্তে একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় ঢুকে খাবার মেন্যুতে চোখ বোলাতেই ‘জলখাসি’ নামক আইটেম দেখে খাওয়ার প্রচণ্ড ইচ্ছে জাগে তার। নতুন আইটেম পেলে বাহার আলীর খাওয়ার ইচ্ছে বেড়ে যায় বহুগুণ। চাছমি ভর্তা ও খুদে ভাত ফিরিয়ে দিলেও জলখাসি সে পেট পুরে খায়। গোগ্রাসে গিলতে থাকে জলখাসির এক এক টুকরো।
বাড়ি ফেরার সময় ট্রেনে পাশের সিটে বসা লোকটিকে জলখাসি বলতে কিসের মাংস বোঝায় প্রশ্ন করে। লোকটি উত্তরে কচ্ছপের মাংস বলার সঙ্গে সঙ্গে বাহার আলী বমি করে ফেলে। জীবনে অনেক খাবার প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়েছে, কিন্তু কোনো দিন বমি করেনি। আজ তার বমি যেন থামছেই না, যেন পেটের নাড়িভুঁড়ি উল্টে আসছে।