বোরহান উদ্দিন
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৩৭ পিএম
উদ্যোক্তা খাদিজা আক্তার।
নকশিকাঁথার ব্যবসা করে শূন্য থেকে সফল উদ্যোক্তা হয়েছেন জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইল ইউনিয়নের দমদমা গ্ৰামের মেয়ে খাদিজা আক্তার। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল ছেলেদের মতো তিনিও বড় হয়ে পরিবারের হাল ধরবেন। পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন। দূর করবেন পরিবারের অভাব-অনটন।
পড়ালেখা চলাকালীন জামালপুর (ইএসডিপি) থেকে (উদ্যোক্তা) ট্রেনিং করেন। ট্রেনিং থেকে প্রাপ্ত সম্মানী ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেন ‘নকশিকাঁথার ক্ষুদ্র ব্যবসা’। এরপর শুরু হয় উদ্যোক্তা জীবনের সংগ্ৰাম।
বহু সমালোচনা ও আঘাত আসে। তবুও দমে যাননি তিনি। ক্ষুদ্র ব্যবসা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। শত সমালোচনাকে পেছনে ফেলে নিজের অদম্য ইচ্ছা, সততা ও মেধা দিয়ে ব্যবসায় এগিয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
খাদিজা আক্তার সম্প্রতি জামালপুর আইন কলেজ থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেছেন। তিনি গ্ৰামীণ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমেও স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ‘আর কে ফ্যাশন’। নিজ প্রতিষ্ঠানে করেছেন ১৫০ জন গ্ৰামীণ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।
কর্মীরা নকশিকাঁথা, নকশি বেডশিট, মেয়েদের থ্রিপিস, শাড়ি, নকশি শাল, কুশন কভার, ওয়ালমেট, ছেলেদের পাঞ্জাবি ইত্যাদি পণ্য তৈরি করেন। তিনি অনলাইন ও অফলাইনের মাধ্যমে নকশি পণ্যগুলো সারা দেশে বিক্রয় করে থাকেন। বিক্রীত পণ্যের লভ্যাংশ থেকে তিনি নিজে এবং তার কর্মীরা লাভবান হচ্ছেন। ১ হাজার ৫০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও তার বর্তমান পুঁজি কয়েক লাখ টাকা।
খাদিজা আক্তার বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্টে বড় হয়েছি। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে আমাকে। পরিবারের হাল ধরার জন্য উদ্যোক্তা হয়েছি। উদ্যোক্তা হতে পরিবার আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তারা সব সময় আমার পাশে থেকেছেন। নিজের খরচসহ পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে অন্য নারীদের স্বাবলম্বী করতে পেরেছি, এটা আমার জন্য প্রাপ্তির।
পাশাপাশি তার স্বপ্নের কথা জানান খাদিজা আক্তার। তিনি বলেন, গ্ৰামের নারীরা অবহেলিত থাকে। তাদের স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে নারীদের নিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে চাই। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামোকে সুদৃঢ় করতে চাই।
উদ্যোক্তা খাদিজা নতুন প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা। উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে কমে যাবে বেকারত্ব, স্বাবলম্বী হবে নারীরা- এমটাই প্রত্যাশা করেন উদ্যোক্তা খাদিজা।