রূপসা
নুসরাত খন্দকার
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৬:৫৮ পিএম
অফিসে কাজের চাপ
সাংঘাতিক। টানা নয়-দশ ঘণ্টা কাজের মাঝে নিজেকে সতেজ ও সুন্দর রাখার সময় মেলা ভার।
এ ছাড়া রয়েছে নানা সমস্যা। রইল কর্মজীবী নারীদের জন্য বিশেষ বিউটি টিপসÑ
ঘরের নানা কাজ, বাচ্চা সামলে রোজ অফিসের জন্য ছুটতে সব নারীকেই বেশ বেগ পেতে হয়। এরপর ত্বকচর্চা বা মেকআপ শব্দগুলো শুনলেই যেন মনে হয়, ওসব আমার জন্য নয়। এদিকে রাস্তায় দূষণ আর রোদের তাপে ত্বক আর চুলের অবস্থা শোচনীয়। আবার অফিসে সারাক্ষণ এসিতে থাকার ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে ক্রমে। অতিরিক্ত স্ট্রেসের ফলে দেখা দেয় বলিরেখা, ডার্ক সার্কেল। তাইতো নিজেকে ভালো রাখতে দরকার একটু পরিচর্যা। একবার অভ্যেস করে নিলে অসুবিধে হবে না। সময়ও লাগবে না বিশেষ। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই নিজের যত্ন নিতে পারবেন।

অফিসে যাওয়ার
আগে
সকালে ঘুম থেকে উঠে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করুন। যাদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক প্রকৃতির তারা ক্লিনজিং ক্রিম ব্যবহার করুন। ক্রিম ত্বকের ময়েশ্চার ব্যালান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা ক্লিনজিং জেল ব্যবহার করতে পারেন। এতে একদিকে যেমন ত্বক পরিষ্কার হবে তেমনই ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতাও বজায় থাকবে। মুখ পরিষ্কার করার পর তুলায় টোনার নিয়ে মুখ মুছে নিন। টোনার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। চামড়া টানটান হয়। গোসলের পর মুখে, গলায়, ঘাড়ে, হাতে ও পায়ে ভালো করে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ত্বক ভেজা থাকতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। এতে ময়েশ্চারাইজার ত্বকের গভীরে ভালো করে প্রবেশ করতে পারবে। অফিসে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে মুখে উচ্চ এসপিএফযুক্ত সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিন। মুখের সঙ্গে গলা, ঘাড়, হাত ও পায়ে ভালো করে সানস্ক্রিন লাগান। তারপর সামান্য ফেস পাউডার বা কমপ্যাক্ট লাগিয়ে নিন। পুরো ব্যাপারটা শুনতে অনেক সময়সাপেক্ষ মনে হলেও আসলে এর জন্য ৫-৬ মিনিটের বেশি দিতে হয় না।
অফিসে ত্বকের
যত্ন
সকালে বাড়ি থেকে বেরোবার সময় সামান্য মেকআপ কমবেশি সবাই করেন। বেস মেকআপ সারা দিন রাখতে চাইলে একটা কথা খেয়াল রাখবেন। বারবার মুখে হাত দেবেন না। এতে মেকআপ স্মাজ হয়ে যাবে। এ ছাড়া রয়েছে এসির প্রভাব। সারাক্ষণ এসিতে থাকলে ত্বক ক্রমে শুষ্ক, রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে যায়। তাই অফিসে অন্তত একবার হাতে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগান। লাগাবার পর কবজি থেকে কনুইয়ের দিকে সার্কুলার মুভমেন্টে ম্যাসাজ করুন। হাতের তলায়ও ক্রিম লাগাবেন। লাঞ্চের পর মুখ ধুয়ে মুখে একবার লাইট ময়েশ্চার লাগিয়ে নিন। যারা দিনের অনেকটা সময় রোদে বাইরে থাকেন বা কম্পিউটারের সামনে কাজ করেন তারা এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগান। কারণ কম্পিউটারের সামনে বসে বেশিক্ষণ কাজ করলেও ত্বকে ট্যান পড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সানস্ক্রিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ইউভি রশ্মির প্রভাবে ত্বকে যে ক্ষতি হয় তার থেকে রক্ষা করবে। শুধু তাই নয়, ত্বকের স্বাভাবিক ময়েশ্চারাইজার ব্যালান্সও বজায় রাখবে। লাঞ্চের জন্য বাইরে গেলে সানস্ক্রিন লাগিয়ে বের হন। ফিরে একবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তারপর সানস্ক্রিনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নেবেন।
ঠোঁটের যত্ন
অফিসে দীর্ঘক্ষণ এসিতে কাজ করতে থাকলে ঠোঁটও খুব শুষ্ক হয়ে যায়। তাই এসপিএফযুক্ত লিপবাম বা ময়েশ্চারাইজিং সঙ্গে রাখুন এবং মাঝেমধ্যে লাগিয়ে নিন। ঠোঁট ফাটবে না। আর প্রতিবার খাবার খেয়ে মুখ ধোওয়ার পরও ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজার বা লিপবাম লাগাতে ভুলবেন না। লিপবাম লাগানোর পর ঠোঁট দুটো ১৫-২০ সেকেন্ড সামান্য চেপে ধরুন। এতে ঠোটের ভেতরে ভালো করে ময়েশ্চারাইজার যাবে, ঠোঁট কোমল, মসৃণ ও মোলায়েম হবে।
আউটডোরে কাজ
বাইরে ঘুরে কাজ করতে হলে অবশ্যই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখুন। সানস্ক্রিন লাগবেই এবং সঠিক নিয়ম মেনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। শুধু মুখে নয়, অন্যান্য খোলা অংশেও সানব্লক ক্রিম, সানস্ক্রিন লাগানো সমান জরুরি। ঘাড়, হাতে বিশেষ করে সানস্ক্রিন লাগান। কারণ এসব অংশে রোদের থেকে ত্বক তাড়াতাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোদে বেরোনোর অন্তত ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগান। দুই ঘণ্টার বেশি রোদে থাকলে আবার সানস্ক্রিন লাগান। অফিসে যাওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন। মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। সম্ভব না হলে ওয়েট টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে নিন। তবে ওয়েট টিস্যু খুব ঘন ঘন ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। সুতির রুমাল কাছে রাখুন। ব্যাগে সুগন্ধি রাখতে ভুলবেন না। মাঝে মাঝে স্প্রে করে নিতে পারেন। সতেজ লাগবে। বেশি করে পানি খান। বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।
অফিস থেকে
বাড়ি ফিরে
অফিস থেকে বাড়ি
ফিরে যতই ক্লান্ত হয়ে যান না কেন, ভালো করে মুখ পরিষ্কার করবেন। মেকআপ ভালো করে রিমুভ
করে নেবেন। তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। রাতে শুতে যাওয়ার আগে নাইট ক্রিম লাগিয়ে
হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন।