গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১৫:১৯ পিএম
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১৭:২৯ পিএম
সাম্প্রতিক বন্যায় উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ছবি : সংগৃহীত
উৎসর্গ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। ২০১৬ সাল থেকে উৎসর্গ ফাউন্ডেশন কাজ করছে দেশ ও মানুষের কল্যাণে।
দেশের সাম্প্রতিক বন্যায় উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বন্যা পরিস্থিতিতে ফাউন্ডেশনটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে রেসকিউ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পাশাপাশি কুমিল্লার বুড়িচং এর প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে বন্যার পানিতে আটকে থাকা মানুষকে জরুরি শুকনো খাবার বিতরণ ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ করেছে। বন্যা পরিস্থিতিতে সংগঠনটির কার্যক্রমকে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত রেসকিউ কার্যক্রম, দ্বিতীয় জরুরি শুকনা খাবার ও ওষুধ সরবরাহ কার্যক্রম এবং পরবর্তীতে পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাল, ডাল, আলু, লবণ, তেল, মোমবাতি, গ্যাস লাইট, ওরস্যালাইনসহ বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ করা। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে বিভিন্ন গ্রামে সংগঠনটি ৫০০ মানুষের কাছে শুকনা খাবার ও ভারী খাবার সরবরাহ করেছে ২টি ধাপে।
পরবর্তীতে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বন্যা পরিস্থিতির অবনতির পর একইভাবে এই ২টি জেলায় কাজ করেছে এর স্বেচ্ছাসেবীরা। প্রথমে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে করেছে। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৫০ জনের জন্য রান্না খাবার বিতরণ করেছে ও নোয়াখালীর সেনবাগ, মাইজদী, বেগমগঞ্জে প্রায় ১০০০ মানুষকে শুকনা খাবারের পাশাপাশি ভারি খাবার ও ওষুধ, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করেছে।

বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি এবং পরিকল্পনা নিয়ে উৎসর্গ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শেখ শাহরিয়ার পান্না বলেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য আমাদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান থাকবে পাশাপাশি আমরা পরিকল্পনা করছি স্থায়ী কিছু সহযোগিতা দিয়ে মানুষের পাশে থাকতে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে কিছু নিরাপদ খাবার পানির উৎস স্থাপন, যাদের গৃহপালিত পশু পাখির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তাদের জন্য গৃহপালিত পশু পাখির ব্যবস্থা করা যাতে করে তারা আবার নতুনভাবে তাদের জীবনকে সাজাতে পারে।
উল্লেখ্য, এই বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সহযোগিতা যেমন সাধারণ মানুষ করেছেন তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিত্রশিল্পী নাজমুস ছাকিম তার চিত্রকর্ম উৎসর্গের হাতে তুলে দেন এবং উৎসর্গের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করে চিত্রকর্ম বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ বন্যার্তদের মাঝে দিয়ে সহযোগিতা করেন।