× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বানে ভাসা জীবন

সবচেয়ে বড় সংকট যোগাযোগহীনতা

তারেক মাহমুদ সজীব

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১২:৩৩ পিএম

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১৩:০৮ পিএম

কোমরসমান পানিতে ভ্যানে চড়ে নারী ও শিশুসহ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া একটি পরিবার। ফেনীর ফুলগাজীতে	ছবি : আরিফুল আমিন

কোমরসমান পানিতে ভ্যানে চড়ে নারী ও শিশুসহ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া একটি পরিবার। ফেনীর ফুলগাজীতে ছবি : আরিফুল আমিন

দীর্ঘদিন এনজিও সেক্টরে কাজের সূত্র ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যাদুর্গতদের নিয়ে কাজ করার নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। নিজের আগ্রহ থেকেই সরাসরি মাঠে গিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। দুর্গত মানুষের দুঃখকষ্ট দেখে মন ভারাক্রান্ত হয় ঠিক, তবে সেটা লাঘবে একটু সহায়ক হতে পারলে মনটা ভরে যায়। এমন আনন্দ-বেদনার বহু অভিজ্ঞতা স্মৃতির পাতায় স্থায়ী দাগ কেটে রয়েছে। কিন্তু এবার আগস্ট ফ্লাস-ফ্লাডে ফেনীর অভিজ্ঞতা অতীতের সবকিছুকেই হার মানিয়েছে।

২২ আগস্টই আমরা চারটি দলে ভাগ হয়ে উদ্ধারকাজ এবং শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় নেমে পড়ি। আমরা যাই ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার দিকে। চারদিকে থইথই পানি। তীব্র শক্তি নিয়ে বয়ে যাচ্ছে। কোথায় রাস্তাঘাট আর কোথায় পুকুর-মাঠ বোঝার উপায় নেই। হাজার হাজার মানুষ মসজিদ-মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজ এবং বাড়ির ছাদে উঠে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেখে তারা পানি পানি বলে চিৎকার করে ওঠে। কেউবা নৌকা দেখলেই খাবারের জন্য চিৎকার করছে। গরু-ছাগল এবং মানুষ একই জায়গায় গাদাগাদি করে আশ্রয় নিয়েছে। সিলেট, কুড়িগ্রাম অঞ্চলের ফিবছর বন্যা বা সিডর-আইলার পর দক্ষিণাঞ্চলের কোনো ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এমন মানবেতর জীবনযাপনও দেখিনি। মানুষের আর্তনাদ কোনোভাবেই নিতে পারছিলাম না। অবর্ণনীয় সে দৃশ্য, সহ্য করা কঠিন। এমন অবস্থা কল্পনাও করিনি। খাবার পানির জন্য মানুষকে হাহাকার করতে দেখেছি। অনেকেই খাবার ফেরত দিয়ে আমাদের বলেছেন, আপনারা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করুন। শিশুদের অবস্থা ছিল আরও শোচনীয়। সাধারণের খাবারই যেখানে আমরা সংকুলান করতে পারছিলাম না, সেখানে শিশুখাদ্য তো ছিল আরও কঠিন।

ফেনীতে সারা দেশ থেকে আসা অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীকে আমরা পেয়েছি। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত স্পিডবোট বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা না থাকায় খুব বেশি কিছু করার ছিল না। ফেনীর পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, লশকরহাটসহ বেশ কিছু এলাকা বন্যায় ডুবে থাকতে দেখেছি। যেখানে স্পিডবোটে পৌঁছাতেই দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগে। শুরুর দিকে বেশিরভাগ ভলান্টিয়ার ত্রাণ নিয়ে ফেনীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় বিতরণ করে চলে এসেছেন। 

কিন্তু দূরের মানুষগুলো কী অবস্থায় আছে তা জানতে পারিনি বা ত্রাণ পৌঁছাতে পারিনি। লশকরহাটের এক জায়গায় দেখেছি তারা তিন দিন ধরে কোনো খাবার পায়নি। আমাদের কাছেও অবশিষ্ট কোনো খাবার ছিল না। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরেও আমার অন্য টিমের সদস্যদের কাছ থেকে একই রকম খবর পাচ্ছিলাম।

এ বন্যায় সবচেয়ে বড় সংকটের নাম হলো যোগাযোগহীনতা। এ এলাকায় কখনও এমন বন্যা হয়নি। যোগাযোগের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় বিকল্প পানিপথে মানুষ যে নিরাপদ জায়গায় বা আত্মীয়স্বজনের কাছে যাবে সে উপায় ছিল না। বিদ্যুৎ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় আপনজনের সঙ্গে দুর্গত মানুষ যোগাযোগ করতে পারছিল না। নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন আটকে পড়া মানুষ বেঁচে আছে নাকি ভেসে গেছে সে খবরও জানতে পারেনি নিকটজনেরা। ফলে তারাও আতঙ্কগ্রস্ত ছিল। এমনকি আমরা নিজেদের মধ্যেও যোগাযোগ করতে পারিনি। একবার লশকরহাটের কাছে গিয়ে আমাদের স্পিডবোট বিকল হয়ে যায়। এক ঘণ্টা ধরে পানিতে ভেসে ছিলাম আমরা। কাউকে কোনো খবর দিতে পারিনি। হাত ইশারা করেছি। বাঁশি 

বাজিয়েছি। দু-তিনটি উদ্ধারকারী নৌকাকে ডেকেছি। তারাও আমাদের কাছে আসেনি। পরে মিরপুরের উদ্ধারকারী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একটি দল আমাদের কাছে এগিয়ে আসে। সেই নৌকার পিছে আমাদের বোট বাঁধা হয়। আমরা উদ্ধার পাই। আরেকবার আর্মির একটি স্পিডবোটের একইভবে আমাদের সহায়তা নিতে হয়েছে।

লেখক : কান্ট্রি ডিরেক্টর, আল-খায়ের ফাউন্ডেশন

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা