বানে ভাসা জীবন
উথান চৌধুরী
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১২:০৭ পিএম
আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪ ১২:৩৪ পিএম
ছবি : আরিফুল আমিন
২২ আগস্ট খুব ভোরে সহকর্মী জগৎ জ্যোতি ত্রিপুরা ফোন করে জানালেন, বন্যার পানি অফিসের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে জানালা খুলে দেখি বাড়ির দক্ষিণ পাশের বিল পানিতে টইটম্বুর। দৌড়ে অফিসে গেলাম। দেখি সামনের চেঙ্গী নদী জলে থইথই করছে। জগৎ জ্যোতি ত্রিপুরা আবার ফোন করে জানালেন, তার বাড়িতে পানি ঢুকেছে। মালামাল নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করছেন। তখনই সহকর্মী কামাল আর দিপংকর চাকমাকে নিয়ে আমরা অফিসের মালামাল উঁচু জায়গায় তুলতে লাগলাম। এরপর তিনজন মিলে অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপাতি নিরাপদে তুলে রাখলাম। বাইরে এসে দেখি অফিসের দরজার কাছাকাছি পানি চলে এসেছে।
সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে স্ত্রী ফোন করে জানালেন, পানি নাকি আমাদের আঙিনায় চলে এসেছে। দৌড়ে বাড়ি গিয়ে দেখি পানি ভেতরে ঢুকবে ঢুকবে অবস্থা। প্রতিবেশীদের বাড়িতে একই অবস্থা। সবাই দৌড়াদৌড়ি আর কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে আমাদের পুকুর ডুবে গেল। চোখের সামনে বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যেতে দেখলাম। যে-যার বাড়ির জিনিসপত্র সামলাতে ব্যস্ত। পানির ভয়ংকর এক তাণ্ডব। যেন সবকিছু স্বপ্নে ঘটে চলেছে। মানুষের চোখের সামনে তার জমির ফসল, গবাদি পশু, পুকুর, ঘরবাড়ি ভেসে যাচ্ছে অথচ কেউ কিছু করতে পারছে না। উদ্ধারের জন্য কাউকেও ডাকতে পারছে না। কেননা সবাই ভুক্তভোগী। যে যতটুকু পেরেছি নিজেদের জিনিসপত্র রক্ষা করেছি। সব এত দ্রুত ঘটেছে যা
বর্ণনা করার মতো নয়। পানির কী যে ভয়াল স্রোত, সেই সঙ্গে মানুষের আর্তনাদ-সারা জীবন মনে থাকবে।

লেখক : কর্মকর্তা, জাতীয় মহিলা সংস্থা, খাগড়াছড়ি