রানা আহমেদ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৪ ১৫:৫১ পিএম
প্লাস্টিকের ভয়াবহতায় একদিকে যেমন বুড়িগঙ্গা নদীর অস্তিত্ব বিলীন হতে বসেছে, অন্যদিকে নদী থেকে ভেসে আসা এসব প্লাস্টিক কুড়িয়ে সংসার চালাচ্ছেন অনেক মানুষ। অবাক মনে হলেও প্লাস্টিক কুড়ানোর এ পেশা বেছে নিচ্ছেন মধ্যবয়সি নারীরা।
সরেজমিনে সদরঘাটের শ্যামবাজার গিয়ে দেখা যায়, একজন মধ্যবয়সি নারী নদী থেকে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী ছোট্ট নৌকায় ভর্তি করছেন। এখন সেগুলো নিয়ে যাবেন বিক্রির জন্য। শরীরের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেছে, দেখলেই মনে হবে বয়সের ছাপ। যে বয়সে আরাম-আয়েশে থাকার কথা। কিন্তু ব্যস্ততম শহরের কর্মব্যস্ত মানুষের মতো বুড়িগঙ্গার তীরে এ মধ্যবয়সি নারী। এ পেশায় কোনো ছুটির দিন নেই, প্রতিদিনই জীবিকার তাগিদে প্লাস্টিক ও অন্যান্য সামগ্রী কুড়িয়ে সংসার চালাচ্ছেন তারা। একই দৃশ্যের দেখা মিলল রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর পয়েন্টে। মধ্যবয়সি নারীর পাশাপাশি কয়েকটি পথশিশু নদীর তীর ঘেঁষে প্লাস্টিকের বোতল ও কুঁচি কুড়াচ্ছে। ফেলনা এসব প্লাসটিক বিক্রি করে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই সংসার চলে।
আম্বিয়া বেগম নামে মধ্যবয়সি এক নারী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ রাস্তার পাশে কুঁড়েঘরে থাকি। সারা দিন নদীর ধারে প্লাস্টিকের বোতল, কুঁচি ও কাগজ কুড়িয়ে যা হয় তা দিয়ে কোনোরকম দিন যায়। এখানে প্লাস্টিক কুড়িয়ে দিনে ২০০ আবার কোনো দিন ৩০০ টাকাও হয়। এগুলো বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে।’
আরেক বয়সি নারী জানান, বয়সের কারণে ভারী কাজ করতে পারেন না। তাই প্লাস্টিকের কুঁচি ও কাগজ কুড়ানোই এখন তার উপার্জনের পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিকের কুঁচি ও কাগজ কুড়িয়েই ৩০ বছর কেটে গেল কিন্তু ভাগ্যের চাকা এখনও বদলায়নি।
এ পেশায় জীবিকা নির্বাহ করেন এমন আরও কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে জানান, প্রতিদিন ভোরের সূর্য ওঠার পরই চলে আসেন বুড়িগঙ্গার তীরে। নদীর পানির ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে তীরে এসে জড়ো হওয়া বিভিন্ন প্লাস্টিকের কুঁচি কুড়িয়ে সেগুলো পরিষ্কার করে রোদে শুকান। কুঁচিগুলো যখন বিক্রির উপযোগী হয় তখন বুড়িগঙ্গার পারের ভাঙারির দোকানে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন। সারা দিন প্লাস্টিকের কুঁচি আর কাগজ কুড়িয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা উপার্জন করেন তারা।