× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রচ্ছদ

বাহারি টিপ

সুবর্ণা মেহ্‌জাবীন স্বর্ণা

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৪৯ পিএম

মডেল : অন্তরা; টিপ : শৈলী; পোশাক : লা রিভ; মেকআপ : রেড বিউটি সেলুন; ছবি : ফারহান ফয়সাল

মডেল : অন্তরা; টিপ : শৈলী; পোশাক : লা রিভ; মেকআপ : রেড বিউটি সেলুন; ছবি : ফারহান ফয়সাল

একসময় শুধু ছোটবড় আকারের একরঙা টিপই দেখা যেত। কালের আবর্তে এখন পরিবর্তন লক্ষ করা যায় টিপের উপাদান ও ধরনে। একরঙা টিপের ওপর কাঠের বা ধাতব দিয়ে নকশা করা টিপ চোখে পড়ার মতো। টিপপ্রেমীরা বেছে নিচ্ছেন বর্ণিল নকশায় তৈরি এমন বাহারি টিপ। নানা নকশায় তৈরি টিপ নিয়ে দেখুন আজকের প্রচ্ছদ- 


টিপ ছাড়া সাজ অসম্পূর্ণ। পোশাক, মেকআপ, গহনা সবকিছুর পরে মানানসই একটি টিপ সম্পূর্ণ করে তোলে নারীর সাজ। তবে স্থান-কাল, পোশাক, কপাল, মুখের গড়ন সবকিছুর সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে হবে টিপ। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

বাঙালি নারীর অঙ্গসজ্জার একটি অনুষঙ্গ টিপ। আগে শুধু একরঙা টিপ দেখা যেত। তারও আগে হিন্দু রমণীরা সিঁদুরের রঙে রাঙাতেন কপাল। আর এখন প্রতিনিয়তই টিপে দেখা মিলছে নতুনত্ব। চিয়ায়ত একরঙা টিপের পাশাপাশি অনেকেই বেছে নিচ্ছেন বিভিন্ন আকারের নকশাখচিত টিপ।


পোশাকের ভিন্নতা আর রুচির ওপর নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে একেকজনের একেক ধরনের টিপ পছন্দ। কেউ পছন্দ করেন একরঙা ভিন্ন ভিন্ন মোটিফ আর সাইজের টিপ। কেউ পছন্দ করেন ভিন্ন ভিন্ন ফিউশনের নকশার টিপ। এখন ফ্যাশনসচেতন রমণীদের কথা মাথায় রেখেই ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ প্রাধান্য দিয়ে ডিজাইনাররা তৈরি করছেন বিভিন্ন নকশার নানা ধরনের টিপ।


একরঙা ছোটবড় টিপের পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন মোটিফসংবলিত টিপের দেখা মিলছে। এ ছাড়া উৎসবের ধরন ও থিম মাথায় রেখে পোশাক, গহনার সঙ্গে টিপেও এসেছে ভিন্নতা। টিপ দিয়েই নজর কাড়তে চাইলে বেছে নিতে পারেন ভিন্ন ধরনের আকার। এখন ফুল, পাখি, মাছ, প্যঁচা, ময়ূরসহ নানা অবয়বের টিপের দেখা মেলে বাজারে। এমনকি দেখা যায় আঁকা ছবির টিপ। যেখানে হয়তো ছোট করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে শৈশবের কোনো চিত্র।



এক রঙের টিপের ওপর অ্যাক্রেলিক কালার দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় ফুল, পাতা, প্রজাপতি, পাখি, হাতির নকশা প্রভৃতি। ভিন্ন ভিন্ন ফুল আঁকা হয় টিপের ওপর। কখনও আবার সোনালি, রুপালি মেটাল চার্ম দিয়ে সাজানো হয় টিপ। কাঠের ভিন্ন ভিন্ন নকশার ছোট ছোট চার্ম মানানসই রঙে রাঙিয়ে জুড়ে দেওয়া হয় একরঙা টিপের ওপর। বিভিন্ন জ্যামিতিক মোটিফ, ছোট ঝুমকা, কাঠের পুঁতি, কাপড়ের টুকরো দিয়েও সাজানো হয় টিপ নামক ছোট ক্যানভাসটি। এ ছাড়া সাধারণ টিপ কেটে বিভিন্ন আকার দিয়ে টিপ বানানো হচ্ছে। গোল টিপের ওপর অন্য আকারের ও রঙের পাথর বসিয়ে আনা হচ্ছে নান্দনিকতা।

টিপ মানেই শুধু গোলাকৃতি শেপ তা কিন্তু নয়। লম্বা, গোলাকার, ত্রিকোণাকার, লতাপাতার মোটিফ, ফুল, ফুলের পাপড়ি এসব ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির টিপ এখন রাজত্ব করছে ফ্যাশনপ্রেমী রমণীদের পছন্দের তালিকায়। যেকোনো পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বা কনট্রাস্ট করে বেছে নিতে পারেন টিপ। লাল, হলুদ, কমলা, বাসন্তী রঙের পোশাকের সঙ্গে নিতে পারেন টিয়া, সবুজ রঙের টিপ। পোশাক সবুজ শেডের হলে টিপ বেছে নিতে পারেন কমলা, লাল রঙের। বিভিন্ন ফুল, পাখি, পাতার ডিজাইনের মেটাল বা কাঠের চার্মের টিপও হতে পারে আপনার নিত্যদিনের সাজের অনুষঙ্গ।


রেড বিউটি সেলুনের স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বলেন, নারীর সাজে টিপ সব সময়ই আলাদা নান্দনিকতা যোগ করে। ছোট হোক বা বড়Ñটিপ পরলে সাজে আসে পূর্ণতা। নারীর ব্যক্তিত্বও প্রকাশ পায় তার পরিহিত টিপে। একটা ছোট সাধারণ টিপ সাজের মাঝে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে। আগে টিপের সঙ্গে আলাদা করে আবার আলপনা করা হতো। এখন নানা ধরনের মোটিফওয়ালা টিপ পাওয়া যায়। যা দেখতে যেমন সুন্দর সঙ্গে আলাদা আলপনা করার ঝামেলাও নেই।


শাড়ির সঙ্গে টিপ সব সময়ই মানানসই। তবে সালোয়ার-কামিজের সঙ্গেও টিপ পরলে দেখতে সুন্দর লাগে। এমনকি কুর্তি, ফতুয়া, স্কার্ট সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে যায় টিপ। যেকোনো পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে পারেন টিপ। চাইলে কনট্রাস্ট করেও পরা যায়। টিপের রঙ কনট্রাস্ট আর ওপরের নকশা পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়েও পরতে পারেন।

এদিকে টিপের আকার কারও পছন্দ বড়, কারও মাঝারি, কারও আবার পছন্দ ছোট টিপ। আফরোজা পারভীন বলেন, মূলত মুখের আকৃতি অনুযায়ী টিপ পরলে ভালো লাগে। গোলাকার মুখে সাধারণত সব ধরনের টিপই মানিয়ে যায়। একটু লম্বাটে মুখে গোল টিপ পরলে সুন্দর লাগে। তবে টিপ বাছাই করার বেলায় পোশাকের ধরন ও অনুষ্ঠানের বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।


বাজারে এখন নানা রঙের নানা ডিজাইনের ছোট, বড়, লম্বাটে, চার কোনা, গোলাকার, ত্রিকোণাকার, ফুল, ফুলের পাপড়ি, পাতা, বাহারি ধরনের টিপ দেখা যায়। এ বিষয়ে রাজধানীর নিউমার্কেটের টিপ বিক্রেতা ইউসুফ বলেন, ‘বাহারি রঙের টিপের সঙ্গে এখন একরঙা টিপের ওপর নানা ধরনের ডিজাইন করা থাকে। পাথর, কলকি, পুঁতি, অর্ধচাঁদের নানা রঙের ডিজাইন। ২০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকার মধ্যে এসব টিপ পাওয়া যায়। অনলাইন বিভিন্ন শপিং থেকেও এখন অনেকে এ টিপ কিনে পরছেন। দামও হাতের নাগালে।’


নিত্যদিন পরার জন্য তো আছেই উপহার দেওয়ার জন্যও কিনতে পারেন টিপ। সামাজিক, সাংস্কৃতিক যেকোনো অনুষ্ঠানে টিপ পরলে দেখতে সুন্দর লাগে। যারা প্রতিদিন টিপ পরেন, তাদের রয়েছে বাহারি ধরনের টিপের সংগ্রহ। যত্নও নিতে হবে ঠিকঠাক। একটা টিপ অনেকে কয়েকবার ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে আলগা টিপের আঠা কিনে রাখতে পারেন। হালকা নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে টিপ পরিষ্কার করে রাখতে হবে। যদি নিজেই আলপনা কিংবা ডিজাইন করতে পারেন, তাহলে ঘরে বসে টিপ তৈরি করতে পারবেন অনায়াসেই। এজন্য এক রঙের টিপ, ফেব্রিক রঙ, তুলি ও গ্লু লাগবে। একরঙা টিপের ওপর তুলি দিয়ে বাহারি নকশা করে টিপের ডিজাইন করা যাবে। এ ছাড়া বাজার থেকে বড় টিপ কিনে নানা ডিজাইনে কেটে ছোট করেও পরা যেতে পারে।



টিপের ইতিহাস আজকের নয়। বেশ পুরোনো। সহজাত প্রবৃত্তি হলো মেয়েরা সর্বদাই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন উপকরণে সাজাতে পছন্দ করেন। কখনও ঠোঁটে মৃদু লিপস্টিক, চোখে হালকা কাজল, হাতে কাচের চুরি। তবে নারীর নজর কাড়ে টিপে। সাজসজ্জায় টিপ পরার প্রচলন কীভাবে এসেছে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাকÑ

হিন্দু বিবাহিত নারীদের আলাদা করে চেনার জন্য শাঁখা, খারু, পলার সঙ্গে তাদের সিঁদুর পরানো হতো। সিঁথিতে সিঁদুর পরার পাশাপাশি তারা কপালে সিঁদুরেরই লাল টিপ পরত। ক্রমেই কসমেটিক কোম্পানিগুলো টিপ আবিষ্কার করে। এর পর থেকে হিন্দু বিবাহিত মহিলারা কপালে সিঁদুর পরার কঠিন কাজের পরিবর্তে লাল টিপ কিনে পরা শুরু করেন।

এ উপমহাদেশের টিপের ইতিহাস বেশ পুরোনো। মানবসভ্যতায় বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্য ভাবনার শুরু হয়। এজন্য শুধু নারীরাই নয়, পুরুষরাও প্রসাধন এবং সাজে যত্নশীল ছিলেন। পুরুষরা লম্বা চুল, কোঁকড়ানো চুলে সুগন্ধি তেল মাখত। নখ রাঙাত পুরুষেরা।

উপমহাদেশের ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং মৌরিতানিয়া, থাইল্যান্ডেও টিপ প্রচলিত। বেশ কিছু দেশে টিপকে বলা হয় বিন্দু। যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় ফোঁটা। ঋগ্‌বেদেও টিপের উল্লেখ রয়েছে, এ থেকে বোঝা যায় প্রায় ৫ হাজার বছর ধরে টিপের প্রচলন।

গত শতকের ষাট-সত্তরের দশকের কিংবা এরও আগে সাদাকালো সিনেমাগুলোয় নায়িকা স্লিভলেস ব্লাউজ, বড় খোঁপার সঙ্গে কপালের ভ্রুর বেশ কিছুটা ওপরে মাঝারি কিংবা ছোট্ট টিপ পরতেন। তবে ধীরে ধীরে তাতেও আকার এবং আকৃতিতে টিপ নিয়ে পরিবর্তন এসেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা