জাতীয় ফল কাঁঠালের
রসালো অংশের পাশাপাশি এর ভেতরে থাকা বিচিও ব্যাপক জনপ্রিয়। কাঁঠালের বিচি ভেজে, সেদ্ধ
করে বা রান্না করে খাওয়া হয়। কিন্তু অনেকেই আছেন কাঁঠাল বা কাঁঠালের বিচি খেতে পছন্দ
করেন না। তবে কাঁঠাল বিচি খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটি খেলে বেশ কিছু স্বাস্থ্য
উপকারিতা পাওয়া যায়। চলুন জেনে নিই কাঁঠালের বিচির উপকারিতাÑ
কাঁঠালের বিচি
পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, স্টার্চ, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
প্রতি ১০০ গ্রামে শক্তি রয়েছে ৯৮ ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ৩৮.৪ গ্রাম, প্রোটিন ৬.৬
গ্রাম, ফাইবার ১.৫ গ্রাম, চর্বি ০.৪ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ০.০৫ থেকে ০.৫৫ মিলিগ্রাম,
ফসফরাস ০.১৩ থেকে ০.২৩ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২ মিলিগ্রাম ও পটাশিয়াম
৪.০৭ মিলিগ্রাম।
উপকারিতা
কাঁঠালের বিচিতে
যেসব উপকার পাওয়া যায় জেনে নিনÑ
- কাঁঠালের
বিচিতে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ফাইবার থাকে। এ ধরনের ফাইবার বাওয়েল মুভমেন্ট বা অন্ত্রের
কার্যকলাপ সঠিকভাবে পরিচালনা করে। অদ্রবণীয় ফাইবারগুলোকে প্রিবায়োটিক হিসেবে বিবেচনা
করা হয় অর্থাৎ এ ফাইবার অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের খাদ্য হিসেবে কাজ করে।
এমন খাবার বেশি করে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে উপশম পাওয়া যায়।
- কাঁঠালের
বিচিতে থাকা রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ মাত্রাতিরিক্ত ক্ষুধা নিবারণ করে ও ওজন কমাতে সাহায্য
করে।
- এটি
হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং বদহজম রোধ করে।
- কাঁঠালের
বিচিতে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন রয়েছে, যা পেশি গঠনে সহায়তা করে। অপুষ্টির সমস্যা সমাধানে
এটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে কোলেস্টেরল নেই বললেই চলে।
- এতে
থাকা প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস মানসিক চাপ কমাতে অনেক কার্যকর।
- কাঁঠালের
বিচি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমায় আর ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায়। এইচডিএল
হৃদযন্ত্রের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। পাশাপাশি এটি উচ্চ রক্তচাপজনিত ঝুঁকি কমায়।
- এটি
নিয়মিত খেলে তা শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে; যা অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা
দূরীকরণে ভূমিকা রাখে।
- এতে
প্রচুর ভিটামিন এ থাকায় শিশুদের চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ও শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে
সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- কাঁঠালের
বিচিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েডস, স্যাপোনিনস, ফেনোলিকস। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো
শরীরের ইনফ্ল্যামেশনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে।
- কাঁঠালের
বিচিতে যে সালফার থাকে তা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণসম্পন্ন। ডায়রিয়া, গ্যাসের সমস্যা
ও খাদ্যজনিত পেটের অন্যান্য অসুখ দূর করতে সাহায্য করে এটি।
- চীন
ও ভারতে কাঁঠালের বীজ অ্যালকোহলের বিষক্রিয়া দূরীকরণের অ্যান্টিটোড প্রস্তুতে ব্যবহৃত
হয়। কাঁঠালের বিচিতে জ্যাকালিন নামের যে গুরুত্বপূর্ণ ল্যাকটিন আছে, তা এইচআইভি আক্রান্তদের
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটির ক্যানসার প্রতিরোধক ক্ষমতাও রয়েছে।
- কাঁঠালের
বিচিতে থাকা পুষ্টি উপাদান বলিরেখা দূর করে ওবং ত্বকের বিভিন্ন রোগনিরাময়ে কার্যকর
ভূমিকা রাখে।
- এটি
খেলে চুলের আগা ফাটা সমস্যা রোধ করে ও চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।
অনেকেই কাঁঠালের
বিচি ব্যবহার করেন রান্নায়। যেমন গরুর কিংবা মুরগির মাংস কাঁঠালের বিচি দিয়ে রান্না
করলে সেটি খেতে বেশ সুস্বাদু। তা ছাড়া কাঁঠালের ভর্তা তো আছেই। এ ছাড়া কাঁঠালের বিচি
আগুনে পুড়িয়ে বিকালে চা দিয়ে খেতেও মজা।