× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রচ্ছদ

বন্ধু আমার সহোদর

সুবর্ণা মেহ্‌জাবীন স্বর্ণা

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪ ১৮:২৪ পিএম

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৮:৩৪ পিএম

মডেল : সালমান ও সাদ (দুই ভাই); ছবি : ফারহান ফয়সাল

মডেল : সালমান ও সাদ (দুই ভাই); ছবি : ফারহান ফয়সাল

পৃথিবীর মধুর সম্পর্কগুলোর একটি হলো ভাই-বোনের সম্পর্ক। আপনার সহোদরই আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধু হয়ে সারা জীবন পাশে থাকতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন দুজনের মধ্যকার ভালো বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। দেখুন বন্ধু দিবসের বিশেষ প্রচ্ছদ-

‘বন্ধু’ শব্দটি শুনলেই মনে হয় স্কুল বা কলেজের প্রিয় বন্ধুর কথা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক মুখ চোখে ভাসে। বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো, গল্প করা, নির্দ্বিধায় মনের সব কথা খুলে বলতে পারি আমরা। সুখে-দুঃখে বন্ধুই প্রথমে এগিয়ে আসে। তবে ভেবে দেখেছেন কি আপনার স্কুলজীবনের অনেক আগেই ছোটবেলায় কে আপনার বন্ধু ছিল? সারা দিনের খেলার সঙ্গী, সুখদুঃখের ভাগীদার কে ছিল? হ্যাঁ আপনার সহোদর। বয়সে ছোট বা বড় হলেও ভাই কিংবা বোনই কিন্তু আমাদের প্রথম খেলার সাথি, বন্ধু হয়। নিত্যদিনের খুনসুটি, দুষ্টুমি, রাগ-অভিমান, ঝগড়া, ভালোবাসা কোনোটারই যেন অভাব নেই। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে একটু একটু করে কেমন যেন এ মধুর সম্পর্কে ভাটা পড়তে শুরু করে। আমরা নিজের একটা গণ্ডিতে বড় হতে থাকি। কিন্তু হয়তো আপনার অন্য পাশের মানুষটি আপনার সঙ্গ চায় ঠিক আগের মতোই। এ ক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ভূমিকা রয়েছে। আবার ভেবে দেখুন আশপাশের এত বন্ধুবান্ধব থাকতেও কিছু সময় কিন্তু আপনি একাই হয়ে যাবেন। সময়, ব্যস্ততা সবকিছুর ভিড়ে হয়তো আপনার প্রিয় বন্ধুকে কাছে পাবেন না। তখন হাত বাড়ালেই পাশে পাবেন আপনার সহোদরকে। তাইতো ভাই-বোনের মধ্যকার সম্পর্ক সব সময়ই মধুর, বন্ধুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।


সহোদরকে সময় দিন

আপনার ছোট বা বড় ভাই-বোনের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটান। গল্প করুন বা নিজেদের ছোটবেলার স্মৃতি নিয়েও গল্প করতে পারেন। একসঙ্গে যদি থাকেন তাহলে দিনের একটা সময় নিজেদের জন্য রাখুন। সেটা হতে পারে সকালে বা রাতের খাবার একসঙ্গে খাওয়া। আর দূরে থাকলে প্রতিদিনই ফোনে কথা বলুন। একে অন্যের খোঁজখবর রাখুন। মনে রাখবেন পৃথিবীর কঠিন বাস্তবতা হলো বাবা-মা বেঁচে না থাকলেও আপনার এ সহোদরই থাকবে আপনার পাশে।

 

কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকলে মিটিয়ে ফেলুন

অনেক সময়ই ভাই-বোনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। যা দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার অন্যতম কারণ। মনে রাখবেন দিন শেষে কিন্তু সহোদরই আপনার বন্ধু, পরিবার। তাই নিজেদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি কথা বলে মিটিয়ে ফেলুন। সব সময় যে আপনার সহোদরের সঙ্গে আপনার মতের মিল হবে এমনটা নয়। তাই বলে কথা বলা বন্ধ বা দূরত্ব সৃষ্টি হতে দেবেন না। একে অন্যকে বুঝতে চেষ্টা করুন। রাগ, ঝগড়া না করে নিজেরা কথা বলে কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করে ফেলুন।


সহোদরকে নিয়ে ঘুরতে যান

মাঝে মাঝে ভাই-বোনেরা মিলে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ুন। সেটা হতে পারে বিকালে কোনো রেস্তোরাঁয় বসে কফি খাওয়া। সে সময় নিজেদের মনের কথা, কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যায় থাকলে তা সহোদরকে খুলে বলুন। ছোটরাই যে শুধু বড়দের সমস্যার কথা বলবেন এমনটা নয়। আপনি বড় হলে ছোটদের আপনার কথা বলুন। মনে রাখবেন বিপদে আপদে পরিবারই সম সময় পাশে থাকে।


ইনডোর বা আউটডোর গেম খেলুন

ছোটবেলায় একসঙ্গে খেলা করলেও বড় হয়ে সময়ের স্বল্পতার জন্য হয়তো আর সেদিকে যাওয়া হয় না। তা ছাড়া স্মার্ট মুঠোফোন হওয়ায় এখন আরও বেশি মানুষ এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। তাইতো এসবের বাইরে বেরিয়ে সহোদরের সঙ্গে কোনো ইনডোর বা আউটডোর খেলা করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে দাবা হতে পারে আদর্শ। এ ছাড়া লুডু, কেরাম বোর্ড, উনো, ব্যাটমিন্টন, ক্রিকেট খেলাও করতে পারেন। এতে সহোদরের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক যেমন ভালো হবে তেমন আপনার মনও প্রফুল্ল থাকবে।

ভাইবোনের মধ্যকার সম্পর্ক হলো সব থেকে সুন্দর সম্পর্ক। তাই নিজেদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হলে নিজেরা মিটিয়ে ফেলতে পারলে সব থেকে ভালো। না হলে বাবা বা মাÑ যিনি দুই সন্তানের মধ্যে পার্থক্য করবেন না, তার কাছে গিয়ে সমাধান করা যেতে পারে। কারণ অনেক সময় ছোট ভুল বোঝাবুঝি থেকে অনেক বড় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া ওডিডি (অপজিশননাল ডেভিয়েন্ট ডিসওর্ডার) নামে একটা মানসিক রোগ দেখা দেয়, সেখানে একজন আরেকজনের প্রতি খুব নিষ্ঠুর থাকে, ছোট করে কথা বলে, এরকম আচরণগত ত্রুটি থাকলে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়ে আচরণ ঠিক করতে হয়। কারণ সহোদরের মধ্যকার সম্পর্ক খারাপ হলে তাদের মন ও দৈহিক বিকাশ এবং সামাজিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।

ডা. সাঈদুল আশরাফ কুশল

মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, লাইফস্প্রিং

মা-বাবার ভূমিকা

সহোদরের মধ্যে অনেক সময় দেখা যায় সম্পর্কে ভাটা পড়ে। এ ক্ষেত্রে ছোটবেলা থেকেই বাবা-মায়েরও অনেক ভূমিকা রয়েছে। বাবা-মা অনেক ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে পার্থক্য করেন। ছেলেকে একভাবে ও মেয়েকে আলাদাভাবে দেখেন; যা একদমই ঠিক নয়। ছেলে এবং মেয়ে উভয়কেই পার্থক্য না করে একই ভাবে দেখলে সন্তানদের মধ্যে বিদ্বেষ জন্মায় না। আবার অনেক সময় বড় ও ছোটদের মধ্যে পার্থক্য করেন। এও ঠিক নয়। বড় হোক বা ছোট কারও অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে বা অন্যায় ঢাকার চেষ্টা না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া বাবা-মায়ের জন্য জরুরি। না হলে ছোটবেলায় সহোদরের মধ্যকার রেষারেষিতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অনেক ক্ষতি হতে পারে।

এ ছাড়া সন্তানদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হলে বাবা-মায়ের উচিত তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করতে চেষ্টা করা। এ ক্ষেত্রে দুজনেরই কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে তারপর তাদের মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা যদি মধ্যস্থতা করতে ব্যর্থ হন তাহলে পরিবারের অন্য বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা চেষ্টা করতে পারেন।


নিজের মনের উপলব্ধি

কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে ছোট বা বড় ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্কে যদি ভাটা পড়ে তাহলে নিজেই চেষ্টা করুন সে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে। নিজের ইগো না ধরে রেখে সহোদরকে গিয়ে বুকে টেনে নিন; দেখবেন সম্পর্ক আবার আগের মতো মধুর হয়ে যাবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা