× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

প্রকৃতির কাছে

স্বপ্নিল কুমার ভদ্র

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১২:২৩ পিএম

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১২:৩৩ পিএম

অলংকরণ : সুমাইরা বিনতে মাহমুদ, প্রথম শ্রেণি, লিটল এনজেলস স্কুল, আজিমপুর, ঢাকা

অলংকরণ : সুমাইরা বিনতে মাহমুদ, প্রথম শ্রেণি, লিটল এনজেলস স্কুল, আজিমপুর, ঢাকা

পাড়ার সবার বয়োজ্যেষ্ঠ বড়দাদু তিনি। সবার কাছে প্রিয়। তিন্নি আর অংকুর দুই ভাইবোন বলতে গেলে বড় দাদুর অনেক ভক্ত। সারা দিন দাদুর সঙ্গে হইচই। দাদুর সঙ্গে খাবে, দাদুর সঙ্গে খেলবে, সবই দাদুর সঙ্গে। দাদুও হাসিমুখে রক্ষা করেন তাদের আবদার। একদিন তিন্নি আর অংকুর দাদুর কাছে গিয়ে আবদার জুড়ে বসল, ‘দাদু, বিকেলে ঘরে বসে থাকতে মন চাইছে না। চলো না একটু নদীর পাড় থেকে ঘুরে আসি।’ 

দাদু বারান্দায় ইজি চেয়ারে বসে চা খাচ্ছিলেন। প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবছিলেন। তিন্নি আর অংকুরের কথায় বড় দাদুর চমক ভাঙল। তিনি ফিরে তাকিয়ে হেসে বললেন, চলো তাহলে। নদীতীরে ঝিরঝির বাতাস বইছিল। দাদু ওদের নিয়ে নদীপাড়ের সবুজের গালিচা বিছানো ঘাসে বসলেন। তিন্নির খুব ভালো লাগছিল। অংকুরের মন অন্যদিকে। ব্রহ্মপুত্র নদটা শুকিয়ে গেছে। অথচ অংকুর বইয়ে পড়েছে কয়েক বছর আগেও ব্রহ্মপুত্র নদ অনেক প্রমত্তা ছিল। চারদিকে ছিল অনেক গাছপালা। দাদুকে জিজ্ঞাসা করল অংকুর, ‘আচ্ছা বড়দাদু, নদীটা শুকিয়ে গেল কেন?’

দাদু বললেন, ‘মানুষের অসচেতনতার জন্য পরিবেশের আজ এই অবস্থা। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ শুকিয়ে যাচ্ছে। সন্ধে হয়ে এলো যে দাদুভাইয়েরা। বাসায় ফিরতে হচ্ছে।’

ফেরার পথে বিষয়টা খুব ভাবাল অংকুরকে। এর প্রতিরোধের উপায় কী? অংকুরের বড্ড জানতে ইচ্ছা করে। যাক, কাল দাদুর কাছ থেকে জেনে নেব। 

পরদিন দাদু ওদের পার্কে নিয়ে গেলেন। তিন্নি আর অংকুর দাদুর সঙ্গে অনেক মজা করল। অংকুরের চোখে পড়ল কাছেই ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও লোকজন মাটিতে চিপসের প্যাকেট, বাদামের খোসা ফেলছে। বিষয়টা অংকুরের মনটা খারাপ করে দিল। দাদুকে বলল এগুলো যেখানে-সেখানে ফেললে আমরা পরিবেশটাকে রক্ষা করতে পারি?

দাদু একটা পান মুখে পুরে নিয়ে হেসে বলতে লাগলেন, ‘প্রথমত ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। দ্বিতীয়ত নদীতে ময়লা ফেলা যাবে না। তৃতীয়ত গাছের পাতা ছেঁড়া যাবে না, গাছ না লাগিয়ে গাছ কাটা যাবে না। পাতা ছিঁড়লে, ডাল ভাঙলে গাছ খুব কষ্ট পায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের অবদান অপরিসীম। ছোট গাছ বা চারা গাছ অযথা ভাঙবে না। তোমরা এখন ছোট দাদুভাই। আপাতত এই তিনটি কাজ করলে তোমরা শিশুরা পরিবেশকে সুন্দর রাখতে পারবে।’

তিন্নি আর অংকুর মনোযোগ দিয়ে বড়দাদুর কথাগুলো শুনল। শপথ করল, পরিবেশকে সুন্দর করবে। আনন্দে তিন্নি ও অংকুর তাদের প্রিয় বড়দাদুর হাত ধরে বাড়ির পথে চলল। গেয়ে উঠল,

‘ধনধান্য পুষ্পেভরা/আমাদের এই বসুন্ধরা।’

ষষ্ঠ শ্রেণি, ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুল, ময়মনসিংহ


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা