আইইএলটিএস
আফসানা হক
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ১৫:৪৫ পিএম
ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি : আইইএলটিএস অস্ট্রেলিয়া ও ক্যামব্রিজ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যাসেসমেন্ট যৌথভাবে এটি পরিচালনা করে। আইইএলটিএস পরীক্ষায় যে-কেউ অংশ নিতে পারেন, কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। এখানে বয়সেরও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
আইইএলটিএস পরীক্ষার ধরন
আইইএলটিএস পরীক্ষা দুই ধরনের পদ্ধতিতে নেওয়া হয়। একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং।
একাডেমিক মডিউল
বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য একাডেমিক মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়।
জেনারেল ট্রেনিং
কোনো শিক্ষার্থী যদি কারিগরি বিষয় বা প্রশিক্ষণে ভর্তি হতে চান, তবে তাকে জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। এ ছাড়া যারা ইমিগ্রেশনের জন্য যেতে চান, তাদেরও জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়।
পরীক্ষা পদ্ধতি
আইইএলটিএস পরীক্ষায় দুই ধরনের মডিউলেই চারটি অংশ থাকে। লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং।
লিসেনিং
রেকর্ডিং কথোপকথন শুনে এ অংশে প্রশ্নের উত্তর করতে হয় পরীক্ষার্থীদের। কথোপকথন শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয়। যেখানে ৪০টি প্রশ্ন থাকে। ৩০ মিনিটে চারটি অংশে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। একটি বিষয় কেবল একবারই বাজিয়ে শোনানো হয়। এ অংশে পরীক্ষার্থীদের অ্যাকসেন্ট বুঝতে হয়।
রাইটিং
এ অংশে ইংরেজি লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয়। যেখানে এক ঘণ্টায় দুটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে প্রথম প্রশ্নের চেয়ে বেশি নম্বর থাকে। রাইটিংয়ে দুই ধরনের টাস্ক থাকে। টাস্ক-১-এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন লেখচিত্র বা গ্রাফের বর্ণনা দিতে হতে পারে। টাস্ক-২-এর ক্ষেত্রে মূলত বিশ্লেষণী দক্ষতা, সমালোচনামূলক মূল্যায়নের দরকার হয়।
স্পিকিং
স্পিকিং অংশে পরীক্ষার্থীদের মোটামুটি ১১ থেকে ১৪ মিনিটের পরীক্ষা দিতে হয়। প্রথম অংশে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়, যেমন পরিবার, পড়াশোনা, শখ ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।
দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে দুই মিনিট কথা বলতে হয়। এর আগে প্রস্তুতির জন্য এক মিনিট দেওয়া হয়। তৃতীয় অংশে থাকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষকের সঙ্গে চার-পাঁচ মিনিটের কথোপকথন।
রিডিং
এ অংশে পরীক্ষার্থীদের এক ঘণ্টায় তিনটি অনুচ্ছেদ থেকে মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। বিভিন্ন জার্নাল, বই, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন থেকে কিছু অংশ তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই বাক্যপূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা ইত্যাদি প্রশ্ন থাকে। রিডিংয়ের ক্ষেত্রে আগে প্রশ্ন পড়ে নেওয়া ভালো।
আইইএলটিএস প্রস্তুতি
যাদের ইংরেজির ভিত্তি অনেক ভালো তাদের কাঙ্ক্ষিত স্কোর অর্জনে প্রস্তুতিতে সময় লাগে কম। আবার যাদের ভিত্তি তুলনামূলক দুর্বল তাদের সময় লাগে একটু বেশি। তবে ভিত্তি যেমনই হোক না কেন প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নিচের রিসোর্সগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভালো স্কোর অর্জন সম্ভব।
স্পিকিং : স্পিকিং পরীক্ষা হয় একজন পরীক্ষকের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে। সময় লাগে মোটামুটি ১১-১৪ মিনিট। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষক সরাসরি পরীক্ষার্থীর সামনে থাকতে পারেন, আবার ভিডিওকলের মাধ্যমেও যুক্ত হতে পারেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দিলে রেজিস্ট্রেশন করার সময়ই জানা যায় পরীক্ষা ভিডিওকলের মাধ্যমে হবে নাকি সরাসরি। আইডিপিতে পরীক্ষা দিলে এ ব্যাপারটা সাধারণত স্পিকিং পরীক্ষার কয়েক দিন আগে জানা যায়। এ মডিউলে ভালো করতে হলে প্রতিদিন ইংরেজিতে নানা ধরনের বিষয়ে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সব থেকে ভালো হয় যদি একজন স্পিকিং পার্টনার খুঁজে বের করে তার সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা অনুশীলন করা যায়। এ ক্ষেত্রে কিরণ মাক্কারের স্পিকিং বই থেকে টপিকগুলো দেখে নেওয়া যেতে পারে। তবে এ বইয়ের নমুনা উত্তরগুলো না দেখে নিজের মতো উত্তর সাজিয়ে অনুশীলন সব থেকে ভালো হবে। পাশাপাশি ইউটিউব থেকে ব্যান্ড ৮ বা ৯-এর স্যাম্পল উত্তরগুলো দেখা যেতে পারে। একটা বিষয় এখানে খেয়াল রাখা জরুরি, আমরা যারা নতুন স্পিকিং অনুশীলন করি তাদের কথা বলার গতি থাকে অনেক বেশি এবং এতে করে স্পিকিংয়ের গতির সঙ্গে আমাদের ব্রেন অনেক সময় তাল মেলাতে পারে না। ফলে কথায় অনেক জড়তা চলে আসে। সে ক্ষেত্রে একটু ধীরে কথা বলার অভ্যাস করা যেতে পারে; তবে তা যেন কৃত্রিম মনে না হয় সে দিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। স্পিকিংয়ে ভালো করতে IELTS Speaking Guess work Final Version by Kiran Makkar (latest one), Master IELTS Speaking by IELTS Simon বই এবং Academic English Help, IELTS Daily ইউটিউব চ্যানেল অনেকটা সহায়ক হবে। এ ছাড়া ঢুঁ মারতে পারেন https://ieltsliz.com ওয়েবসাইটে।
লিসেনিং : এ অংশে ইংরেজি শুনে বোঝার দক্ষতা যাচাই করা হয়। চারটি আলাদা অংশে মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়। লিসেনিংয়ে ভালো করার অন্যতম শর্ত হচ্ছে নিয়মিত ‘স্ট্যান্ডার্ড’ ইংরেজি শোনা এবং তা বোঝার চেষ্টা করা। এ ক্ষেত্রে যে কয়েকটি ‘অ্যাকসেন্ট বা উচ্চারণভঙ্গি’ ভালোভাবে খেয়াল করে শুনতে হবে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্রিটিশ, আমেরিকান ও অস্ট্রেলিয়ান উচ্চারণভঙ্গি। ইংরেজি ভাষাভাষী দেশগুলোর জাতীয় রেডিও স্টেশন এবং বিবিসির Minute Grammar, 6 Minute Vocabulary এবং 6 Minute English Podcast অনুষ্ঠানগুলো লিসেনিংয়ের জন্য খুবই ভালো। পাশাপাশি সময় ধরে ধরে Cambridge English IELTS বইগুলো থেকে লিসেনিং পরীক্ষা দিতে হবে নিয়মিত। সম্ভব হলে প্রতিদিন। পরীক্ষা দেওয়ার পরে ভুল থেকে শিখতে এবং একই ধরনের ভুল বারবার না ঘটে তা খেয়াল রাখতে হবে। লিসেনিং দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন মোবাইল অ্যাপ Poscast Player, IELTS Podcast, IELTS Listening (AppFx Design), Cambridge English IELTS Academic or General, The Official Cambridge Guide to IELTS বই এবং Asad Yaqub, Fastrack IELTS, E2 IELTS ইউটিউব চ্যানেল।
রিডিং : এ অংশের পরীক্ষায় এক ঘণ্টায় তিনটি প্যাসেজ থেকে মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হয়। রিডিং মডিউলটি আইইএলটিএস একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেইনিংয়ের জন্য আলাদা হয়। কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এ মডিউলে ভালো স্কোর করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রশ্নের ধরনগুলোর সঙ্গে খুব ভালোভাবে পরিচিত হতে এবং একেক ধরনের প্রশ্ন একেকভাবে অল্প সময়ে সমাধান করার উপায় নিজেকেই খুঁজে বের করতে হবে। The Official Cambridge Guide to IELTS বইয়ের রিডিং অংশটুকু ভালোভাবে পড়লে এ কাজটি একটু সহজ হয় এবং Pauline Cullen-এর The Key to IELTS Success-এর রিডিং অংশ পড়েও রিডিংয়ের টেকনিক সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়। ইউটিউবে আসাদ ইয়াকুব ও ইটু আইইএলটিএসের রিডিং ভিডিওগুলো এ মডিউলে ভালো স্কোর তোলার জন্য খুবই সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। পাশাপাশি সময় ধরে ধরে Cambridge English IELTS বইগুলো থেকে রিডিং পরীক্ষা দিতে হবে নিয়মিত।
রাইটিং : এ অংশে ইংরেজি লেখার দক্ষতা যাচাই করা হয়; যেখানে এক ঘণ্টায় দুটি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়Ñটাস্ক-১ ও টাস্ক-২। টাস্ক-১-এর জন্য আইইএলটিএস একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিংয়ের প্রশ্ন আলাদা। এ মডিউলের প্রস্তুতি একদম শুরু থেকে নেওয়ার জন্য Rachel Mitchell এর IELTS Writing Task-1+2 খুবই ভালো একটি বই। এ বইটি ভালোমতো আয়ত্ত করার পর Simon Braveman-এর IELTS Writing Task-1 + Task-2 এবং Rachel Mitchell-এর IELTS Writing Task-2 Samples বইয়ের নমুনা উত্তরগুলো পড়ে নিলে নিজের মধ্যে আইইএলটিএস রাইটিংয়ে ভালো করার আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। কারণ ভালো লিখতে হলে বেশি বেশি ভালো লেখা পড়তে হবে। ইউটিউব চ্যানেলগুলোর মধ্যে IELTS Up এবং IELTS Daily-এর রাইটিং ভিডিওগুলোয় খুব সুন্দর করে রাইটিংয়ের নানা কলাকৌশল শেখানো হয়েছে। এ ছাড়া IELTS Writing অ্যাপ এবং writing9 ওয়েবসাইটটিও রাইটিংয়ের জন্য খুবই সহায়ক।