ফারুক নওয়াজ
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৫:১৭ পিএম
অলংকরণ : নাসিম আহমেদ
বিষ্টিদিনের ছবি
বিষ্টি পড়ে মিষ্টি সুরে দিষ্টি জুড়ে নদী...
পদ্মাপাড়ের ঢেউ বয়ে দেয় আকাশ নিরবধি।
ঢেউ না ওটা নিঝরধারা নীলপাহাড়ের খেলা
ঝুমুরঝুমুর ঝাঁঝর বাজায় আষাঢ় সারা বেলা।
আষাঢ় মাসে কাঁসর বাজে চাষার ঘরের চালে
আঁতকে ওঠে হালের গরু বিজুলি চমকালে।
মাটির উঠোন ইছলপিছল কী করে যায় হাটে
জুঁই-কেতকীর খশবু শুঁঙে দিন কি বলো কাটে!
দিবস ফুরোয় উপোস করে জ্বাল জ্বলেনি চুলোয়
আজ কিষানী খুদ বাছেনি চাল ঝাঁকিয়ে কুলোয়।
আকাশ ঝরায় ইলশেগুঁড়ি বিষ্টি রাশিরাশি
ইস্টিশানে ফুরুর ফুরুর গার্ড সাহেবের বাঁশি।
যাত্রী কোথায় লাঙুল নেড়ে কুকুর তাড়ায় মশা
রেলগাড়িতে পা দুলিয়ে পাগলা চিবায় শশা।
হঠাৎ আকাশ দারুণ বেগে ঝরায় মেঘের দেয়া
গড়াইঘাটের পাটনী পালায় ভিড়িয়ে কূলে খেয়া।
সারবেঁধে সব পাখনা ভেজা সারস ছোটে নীড়ে
ঝিঁঝিব্যাঙের আসর মাতে গাঙুর নদীর তীরে।
সুজনি গায়ে দাওয়ায় বসে বিষ্টি দেখেন কবি...
এইতো আমার হিজলগাঁয়ের আষাঢ় মাসের ছবি।
তাই লিখি না ছড়া
কষ্টেশিষ্টে রাফখাতাতে
লিখলে কোনো ছড়া
অমনি ওটা পক্ষি হয়ে
করবে শুরু ওড়া।
উড়তে উড়তে যায় শেষে সে
মেঘের সাথে মিশে
সেই ছড়াকে খুঁজতে গিয়ে
হারিয়ে ফেলি দিশে।
গোস্বা করে তাইতো এখন
আর লিখি না ছড়া...
মন চাইলে ডুডুম ডুডুম
বাজাই কাঁসার ঘড়া।
অমন ছড়া যায় না লেখা
মা আমাকে ঘুমপাড়াতো যেমন ছড়া গেয়ে
তেমন ছড়া লিখতে বসি মেঘের দিকে চেয়ে
মেঘগুড়গুড় নামল দেয়া ডাকল কোথায় কাক
মন বলল, চোখটা বুজে বিভোর হয়ে থাক।
বুঝতে পারি বিভোরতার রেশ কাটল যেই--
কারোর পক্ষে অমন ছড়া লেখার সাধ্যি নেই।
হুলারহাটের বক্কর
চেয়ারম্যানের সঙ্গে ঘোরে হুলারহাটের বক্কর
সন্ধ্যা হলে হোন্ডা নিয়ে দেয় খামাকা চক্কর
সবকিছুতে সবার সাথে যায় কি দেয়া টক্কর
যাচ্ছিল কার কাভারভ্যানে বোঝাই লোহালক্কর
তার সাথে সে পাল্লা দিতেই বাধল মহা ঝক্কর
ধাক্কা খেয়ে ছিটকে গিয়ে অক্কা পেলো বক্কর।