মশিউর রহমান
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৫:০৫ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৫:৫৫ পিএম
চারদিকে চাঁদের ঝলমলে আলো। ঝিরঝিরে বাতাস। বাতাসে টুপ করে একটা পাতা এসে মাটিতে পড়ে। পাতার ওপর ছোট্ট একটা সাদা-ধূসর রঙের ডিম। চকচক করছে।পরদিন সকালে সূর্যের আলো পেয়ে ডিম ফুটে বেরোয় একটা কিলবিলে পোকা। পোকাটা খুবই দুর্বল আর অসহায়। তার খুব খিদে পেয়েছে। সে বের হয় খাবারের খোঁজে। খিদে মেটাতে ছোট ছোট পোকা খায়। গাছের তলায় পড়ে থাকা ফলের রস চুষে খায়। তবু তার খিদে মেটে না। একসময় সে সবুজ পাতার বুকে ঘুমিয়ে পড়ে।
পরদিন আবার সূর্যের সোনালি আলো ফুটলে পোকাটির ঘুম ভাঙে। আজ সে খাবারের খোঁজে একটা কমলা গাছের নিচে এসে থামে। গাছের নিচে অনেক কমলা পড়ে আছে। কমলার রস সে ভালো করে খেলো। তাতেও তার খিদে মিটল না। বিকাল গড়িয়ে সূর্য ডোবে। পোকাটি ক্লান্ত শরীরে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের ভেতর স্বপ্নে দেখেÑএকটা আম গাছের গুঁড়ি বেয়ে সে ওপরে উঠছে। গাছে পাকা পাকা আম ঝুলছে। তার ঘুম ভেঙে যায়। এত রাতে কি আম খাওয়া যায়? সে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। রাত পেরিয়ে সূর্য উঠলে পোকাটি ধীরপায়ে আম গাছের দিকে এগিয়ে যায়। পাকা আম খুব মিষ্টি। সে অনেক আম খায়। তবু খিদে মেটে না। একসময় সে আম গাছের নিচেই ঘুমিয়ে পড়ে। গভীর রাতে খিদের চোটে পোকাটার ঘুম ভাঙে। তার পেয়ারা খেতে খুব ইচ্ছে হলো। কিন্তু কোথায় পাবে পেয়ারা? এখন যে অনেক রাত। সে ভাবে, সকাল হলেই পেয়ারার খোঁজে বেরিয়ে পড়বে। সকালে সে পেয়ারা গাছের খোঁজে হাঁটা শুরু করল। একসময় সে পেয়ারা গাছ পেয়েও গেল। গাছের ডাল বেয়ে বেয়ে সে একটা ডাঁশাপাকা পেয়ারা পেয়ে গেল। মনের সুখে পেয়ারার রস খেল। তবু তার খিদে মিটল না। পরদিন খুব ভোরে পোকাটি খাবারের খোঁজে লিচু গাছের তলায় এলো। লিচু গাছ বেয়ে ওপরে উঠল। কাঁচাপাকা লিচু খেল মনের সুখে। এত খাচ্ছে তবু তার খিদে মিটছে না। কিন্তু কেন? আজ একটু বেলা করে পোকাটার ঘুম ভাঙে। সে তাড়াতাড়ি খাবারের খোঁজে বের হয়। আজ সে বাগানের জাম গাছের নিচে এসে দেখে অনেক পাকা পাকা জাম। মনের সুখে সে টকটক জাম খেলো। মিষ্টি মিষ্টি জাম খেলো।এত খাচ্ছে তবু সে বড় হচ্ছে না আর খিদেও যেন মিটছে না। আজ তাকে এমন কিছু খেতে হবে যেন পেটও ভরে আর তাড়াতাড়ি বড়ও হতে পারে। এমন সময় সে একটা সবুজ পাতায় ভরা গাছ দেখতে পেল। সবুজ কচিপাতা দেখে পোকাটার মন খুশিতে ভরে ওঠে। পাতা দেখে তার খুব লোভ হয়। সে পুরো একটা কচিপাতা খেয়ে ফেলে। পাতা খাওয়ার পর বুঝতে পারে যে তার পেটটা আজ ঠিকমতো ভরেছে। আর খিদেও মিটেছে। ধীরে ধীরে সে মোটা হতে থাকে।
একদিন দুই দিন করে পোকাটা দশ দিন পার করে। সে এখন পাতা খেয়েই দিন কাটায়। পাতা খেয়েই সে এখন বেশ মোটাসোটা। তার চারপাশে শক্ত খোলস তৈরি হয়েছে। শরীরে শক্তিও বেড়েছে। পোকাটি ভাবে আর বসে থাকা চলবে না। এখনই তাকে খোলস ছেড়ে বেরোতে হবে। পনেরো দিন পরে সে খোলস ছেড়ে বেরোয়। ওমা, এ কি! এ যে ফুটফুটে প্রজাপতি! গায়ে তার নানা রঙ। প্রজাপতিটা সেদিন থেকেই রঙিন পাখা মেলে গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়। ফুলে ফুলে মনের সুখে মধু খায়। সে দেখতে পায় চারপাশে তারই মতো হরেকরকম প্রজাপতি ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এভাবেই শুঁয়োপোকা থেকেই জন্ম হয় ফুটফুটে প্রজাপতির।