মানব পাচার রোধে ভূমিকা
আফসানা সুমি
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৪ ১৩:২৮ পিএম
আল-আমিন-নয়নকে পুরস্কৃত করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন
মানব পাচারবিরোধী লড়াইয়ে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশের আল-আমিন নয়ন যুক্তরাষ্ট্রের টিআইপি হিরোর স্বীকৃতি পেয়েছেন। গত ২৪ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মানব পাচার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক নয়ন বিমানবন্দরে বিদেশফেরত ও পাচারের শিকার মানুষের সহায়তায় কাজ করেন। নয়ন ছাড়াও কেনিয়া, মালি, ফিলিপাইন, সার্বিয়া, স্পেন, সুরিনাম, বলিভিয়া ও ইরাকের একজন করে মোট নয়জন ২০২৪ সালে টিআইপি হিরোর স্বীকৃতি পেয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘আমাদের এ নায়করাই বিশ্বের মানুষের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।’
টিআইপি হিরো হিসেবে মর্যাদা পাওয়ার অনুভূতি প্রসঙ্গে আল-আমিন নয়ন বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়ে আমি নিজে পাচারের শিকার হয়েছিলাম। পরে দেশে ফিরে অনিয়মিত অভিবাসন ও পাচারের শিকার মানুষের পাশে থাকার কাজে যুক্ত হই। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার হিসেবে বিদেশফেরত অসহায় ও সারা দেশে পাচারের শিকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করি। এ কাজ করতে গিয়ে বহুবার নানা বিপদে পড়তে হয়েছে। জেলেও গিয়েছি। এ পুরস্কার আমাকে আরও বেশি করে মানুষের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মানবাধিকারকর্মী নয়ন সম্পর্কে বলা হয়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীরা কোনো বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে যান নয়ন। ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে গিয়ে পাচারের শিকার হওয়া নয়ন আজ বিদেশফেরত মানুষকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখান। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ম্যানেজার হিসেবে বিদেশফেরত ও পাচারের শিকার অন্তত ৩৪ হাজার মানুষকে তিনি সহায়তা করেছেন।
বাংলাদেশে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক ‘অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস’-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নয়ন। এসব কাজ করতে গিয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বসে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। মামলাটি হয়রানিমূলক দাবি করে নয়নের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানায় অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করছে এমন সব সংগঠন।