আবু বক্কর সিদ্দিক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৪ ১৩:২৫ পিএম
গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত বাসিন্দাদের যাতায়াতে নেই কোনো রাস্তা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ‘আমাদের ঠিকানা গুচ্ছগ্রাম’-এ বসবাসরত নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত ১৪০ পবিবারে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা ও দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারী মৌজায় তিস্তা নদীর চরে ২০০৮ সালে এসব জনগোষ্ঠীর ৪৬ পরিবারের সুরক্ষায় বৈদেশিক দাতা সংস্থার অর্থে ২ একর ৪৩ শতক জমি উঁচু করে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমকাল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা বাস্তবায়ন করে ‘আমাদের ঠিকানা গুচ্ছগ্রাম’। বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০-এ। তবে এ গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর যাতায়াতের জন্য কোনো রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। বছরজুড়ে সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ জীবনযাপনে প্রতিকূল পরিস্থিতিই তাদের নিত্যসঙ্গী। সম্প্রতি নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু হওয়ায় গুচ্ছগ্রাম ঘেঁষে বয়ে যাওয়া এক পাশে তিস্তার শাখা নদী এবং অন্য তিন পাশে পানি আর পানি। উপজেলা পরিষদ থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে এসব দুর্গত মানুষের বসবাস।
এসব পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই ইউনিয়ন ও পৌরসভার সীমান্তবর্তী অবস্থানে হওয়ায় তাদের প্রতি অবহেলা সবার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর পরিবারের প্রধান নারীদের নামে ৫ শতাংশ জমিতে বারান্দাসহ এক কামরা বিশিষ্ট আধাপাকা ঘর হস্তান্তর করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধি। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি ঘরসহ জমির দলিল বুঝে পায়নি এসব পরিবার।

সে সময় প্রতিটি (৪৬টি) পরিবারের জন্য একটি করে এক কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা বিল্ডিং, বারান্দা, রান্নাঘর, গোসলখানা, সমন্বিত নলকূপ, টয়লেট, গোয়ালঘর, শিশুশিক্ষার জন্য তিন কক্ষ বিশিষ্ট আলাদা ঘর ছাড়াও সুবিধাভোগীদের সালিশ-বৈঠক বা যৌথ সভাকক্ষ করা হয়। এসব কথা জানিয়ে ৩ নম্বর ক্লাস্টারের ৮ নম্বর ঘরে বসবাসকারী শাহিনুর বেগম-আক্তারুল ইসলাম দম্পতিসহ অন্যান্য ক্লাস্টারের বিভিন্ন ঘরে বসবাসরত নাছিমা বেগম-আলম মিয়া, আনিছা বেগম-আবদুল হামিদ, আলেমা বেগম-আমজাদ হোসেন, শাহিদা বেগম-মোমিন মিয়াসহ অনেকেই বলেন, প্রতিটি ঘরের ছাউনির টিন বিনষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি ও শীতে গাছের পাতা থেকে টপ টপ করে পানি পড়ে। টয়লেটগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, নেই যাতায়াতের রাস্তা, বন্যায় বসতবাড়ির আঙিনা ও ঘরের অধিকাংশ পানি ও কাদায় নিমজ্জিত থাকে। হাটবাজার করতে হলে হাঁটু পেরিয়ে কখনও কখনও গলাপানি সাঁতরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দুর্যোগকালে তাদের ভাগ্যে কখনই জোটেনি ত্রাণসামগ্রী। তাদের সুরক্ষায় গৃহীত হয়নি টেকসই কর্মপরিকল্পিত জীবিকা অর্জনের ব্যবস্থা। ফলে অনেকেই জীবিকা অর্জনে অবলম্বন করেছে ভিক্ষাবৃত্তি। কেউ স্থানীয়ভাবে আবার কেউ চলে গেছে অন্য স্থানে।
এ ব্যাপারে বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্ বলেন, সমকাল সমাজ উন্নয়ন সংস্থার গুচ্ছগ্রাম আছে। সেটা ধুমাইটারীতে। দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম সরকার রেজা জানান, এটা বেলকা ইউনিয়নের মধ্যে।
উপজেলার কোনো সরকারি দপ্তরে এ সম্পর্কে রেকর্ড না থাকায় এসব পরিবার নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে বলে তারা মনে করেন।