× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ও পজিটিভ মামা

দন্ত্যস রওশন

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৩:০৯ পিএম

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৩:১০ পিএম

অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার

অলংকরণ : জয়ন্ত সরকার

মামার বয়স পঁচিশ বছর। মামা বছরে বেশ কয়েকবার রক্তদান করেন। এত রক্তদান দেখে সবাই তাকে ও পজিটিভ মামা বলে ডাকেন। কারণ মামার রক্তের গ্রুপ ও পজিটিভ। তাই মামা হয়ে গেছে, ও পজিটিভ মামা।

সেদিন পাশের আন্টি এলেন দুপুরবেলায়। তাকে দেখে মনে হলো তিনি দৌড়ে ছুটে এসেছেন। দরোজা খুলতেই বললেন, ও পজিটিভ মামা আছে?

ও পজিটিভ মামার ভাগ্নে আহিন। ওর রক্তের গ্রুপ বি পজিটিভ। যদিও ওকে কেউ বি পজিটিভ বলে ডাকে না। সে বলল, আন্টি মামাতো অফিসে গেছে। বিকালে ফিরবে।

ওর মোবাইল নাম্বারটা দিতে পারবে।

ভেতরের ঘর থেকে দিঠি এসে বলল, আন্টি আপনি নাম্বারটা সেভ করে নিন আমি বলছি।

নাম্বার নিয়েই তিনি ফোন করলেন। বললেন, ঠিকানাটা আমাকে এসএমএস করে দিন। আমি চলে আসছি।

আন্টির মুখে হাসি ফুটে উঠল। বললেন, তোমাদের দুজনকে অনেক ধন্যবাদ।

সন্ধ্যায় ও পজিটিভ মামা বাসায় ফিরলেন। বাসায় এসে রক্ত দেওয়ার গল্প বললেন। সে গল্প বসে বসে শুনল আহিন ও দিঠি। 

আমার অফিসের বস কি বলে জানিস?

কী বলে?

বলল, পড়ার সময় পড়া। খেলার সময় খেলা। আমরা ছোটবেলায় পড়েছি। আসলেই তাই হওয়া উচিত।

ও পজিটিভ মামা বললেন, আমি বসকে বললাম জি স্যার।

বস আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, তাহলে কেন আপনি অফিস টাইমে রক্ত দিতে যাচ্ছেন। অফিসের সময় অফিস। রক্ত দেওয়ার সময় রক্ত দেওয়া। যান কাজ করুন।

আহিন বলল, তারপর কী হলো মামা?

তারপর আবার কী। আমি আমার রুমে গিয়ে বসলাম। একবার বসি আরেকবার উঠি। ছটফট করছি। কী করা যায়। হাতে সময়ও নেই। আমি ছুটে গেলাম বসের কাছে। বললাম, স্যার রক্ত দেওয়ার সময় রক্ত দেওয়া। ঠিক যেমন পড়ার সময় পড়া।

বস আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কী বলতে চাচ্ছেন আপনি?

বললাম। এক্ষুনি রক্ত দিতে যেতে হবে। এক্ষুনি রক্ত দেওয়ার সময়। রক্তের অভাবে রোগী মারা যেতে পারে।

বস বললেন, তাহলে তাড়াতাড়ি যান। বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেন। আর শুনুন, ও পজিটিভ মামা। রক্ত দিয়ে সোজা বাসায় চলে যাবেন। আজকে আর অফিসে আসার দরকার নেই।

দিঠি বলল, তোমার বসটা তো খুব ভালো।

মামা বলল, আসলে সত্যিই ভালো।

দুই দিন পরে সেই আন্টি এলেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন দুই কেজি ছানার সন্দেশ। তখন সন্ধ্যা ৭টা হবে।

আন্টি বললেন, ও পজিটিভ মামা আপনার জন্য মিষ্টি নিয়ে এসেছি। আমার ভাই ভালো আছেন। অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। আপনি রক্ত না দিলে যে কী হতো!

দিঠি আহিনও দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

দিঠি বলে, আন্টি ভেতরে আসুন। আন্টি ভেতরে ঢুকে সোফায় বসলেন।

ও পজিটিভ মামা বললেন, আপা আর কোনো দিন মিষ্টি নিয়ে আসবেন না। তাহলে আপনাদের কারও কখনও রক্তের প্রয়োজন হলে আমি রক্ত দেব না।

আন্টি বললেনÑ না, না। ও পজিটিভ মামা আপনি ওভাবে বলবেন না। আমি শুনেছি আপনি মিষ্টি অনেক পছন্দ করেন, তাই নিয়ে এলাম।

আন্টি চলে যাওয়ার পর ও পজিটিভ মামা গাপুসগুপুস করে মিষ্টি খেতে লাগল। খেতে শুরু করল আহিনও। দিঠি যেন দর্শক। ওদের দুজনের খাওয়া দেখতে লাগল। সে বলল, আমি মিষ্টি খাব না, মোটা হয়ে যাব।

আহিন দুষ্টুমি করে বলল, আর আমরা মিষ্টি না খেলে চিকন হয়ে যাব। তাই না মামা?

ও পজিটিভ মামার মুখে পুরো একটি রসগোল্লা। মামা কথা বলতে পারলেন না। শুধু মাথা ঝাঁকালো।

তার মানে হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস।

মামা যতবার রক্ত দেয়, দিঠি সেটা তার ডায়েরিতে লিখে রাখে। হাসপাতালের নাম, লিখে রাখে রোগীর নামও।

মিষ্টি খাওয়া শেষে দিঠি জানতে চায়। আচ্ছা মামা তোমাকে যে সবাই ও পজিটিভ মামা বলে ডাকে, শুনতে তোমার ভালো লাগে?

হ্যাঁ, খুব ভালো লাগে। একদম মিষ্টির মতো। ও পজিটিভ মামা হেসে বললেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা