লেখা ও আঁকা : তৌকির মোহাইমিন
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১২:৫৯ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১৩:০৬ পিএম
অনেক দিন আগের কথা। রূপপুর ও সুন্দরপুর নামে পাশাপাশি দুটি রাজ্য ছিল। রাজ্যের দুই রাজা প্রায়ই যুদ্ধ করত। এতে রাজ্যের প্রজাদের অনেক ক্ষতি হতো, ঘরবাড়ি, ফসল নষ্ট হতো, অনেকে আহত হতো, অনেকে বন্দি হতো এবং অনেকে মৃত্যুবরণও করত। এজন্য রূপপুর রাজ্যের রাজপুত্রের মনেও অনেক কষ্ট ছিল। সে এই মরণপণ যুদ্ধের ক্ষতি তার বাবাকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। তাই মনের দুঃখে রাজপুত্র রাজ্য ছেড়ে জঙ্গলে চলে যায়। জঙ্গলে গিয়ে সে একা বসে থাকে। হঠাৎ একটা ঝোপের মধ্যে কিছু নড়াচড়ার আওয়াজ পেয়ে রাজপুত্র বাঘ ভেবে ভয় পেল। তারপর সাহস করে কাছে গিয়ে দেখে নীল রঙের অদ্ভুত এক বাচ্চা। বাচ্চাটিকে ভূত ভেবে রাজপুত্র তলোয়ার বের করে দেখে বাচ্চাটির গায়ে অনেক আঘাত রয়েছে। কীভাবে জখম হয়েছে জিজ্ঞেস করলে বাচ্চা ভূতটি বলে, ‘দুই রাজ্যের যুদ্ধের সময় একটি তীর এসে তার গায়ে লাগে বলে সে আঘাত পেয়েছে।’ তারপর রাজপুত্র বিভিন্ন পাতার রস মিলিয়ে ওষুধ বানিয়ে তার ক্ষতে লাগিয়ে দিলে সে সুস্থ হয়ে যায়। রাজপুত্র তার পরিচয় জানতে চাইলে বাচ্চাটি বলে, সে মেঘের দৈত্যের ছেলে। তারপর বাচ্চাটি রাজপুত্রকে নিয়ে মেঘের দৈত্যের কাছে যায়। মেঘের দৈত্য তার ছেলের জীবন বাঁচানোর জন্য রাজপুত্রকে অনেক ধন্যবাদ দেয়। তারপর সে রাজপুত্রকে বলে, ‘আপনার জন্য আমি কী করতে পারি?’ তখন রাজপুত্র দুই রাজ্যের যুদ্ধ বন্ধের জন্য তার কাছে সাহায্য চায়। তারপর দৈত্য দুই রাজ্যের রাজাকে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধের কারণে তার প্রজাদের সব কষ্ট দেখায় এবং জাদু করে তাদের মনের মধ্যে তাদের প্রজাদের জন্য সহানুভূতির সৃষ্টি করে। এতে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারে। তারপর তারা যুদ্ধ না করে বরং এক রাজ্য অন্য রাজ্যকে সহযোগিতা করে। ফলে সবাই ভালো থাকে, তারপর রাজপুত্র বাচ্চা ভূত এবং মেঘের দৈত্যকে ধন্যবাদ দেয়। তারাও বিদায় নিয়ে মেঘের রাজ্যে চলে যায়।
চতুর্থ শ্রেণি, বরিশাল জিলা স্কুল