হুমায়রা রহমান
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১২:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪ ১২:৫৮ পিএম
গল্পের ছবিটি এঁকেছে নিঝুম নিসর্গ। সে খুলনা সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী
আভাসরা একটা ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন। তিনতলা বাসা। আভাসরা নিচতলায় থাকেন। দোতলায় ভাড়াটিয়ারা থাকেন। তিনতলায় এখনও কেউ ভাড়া আসেননি, পুরোটাই ফাঁকা। আভাসের বাবা-মা ভাবছেন নিচে থাকাটা সুবিধাজনক হবে না, তিনতলায় উঠে যাওয়াটাই ভালো। আভাস বলল, হ্যাঁ, তাই আমাদের দেরি করাটা ঠিক হবে না। আভাসের বাবা-মা বললেন, এত তাড়াতাড়ি। না একটু দেরি করে উঠব। আভাস বড়দের কথার অমান্য করতে পারল না। শুধু বলল, আচ্ছা! তাই করো। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই নতুন ভাড়াটিয়া উঠল সেখানে। আভাসরা তখন আর তিনতলায় উঠতে পারল না। ভাড়াটিয়াদের ওঠা এক মাস হয়ে গেল। কিন্তু এক মাস আগে থেকে আভাস লক্ষ করে যে, একটা কালো বিড়াল বাগানে সারাক্ষণ ঘুরঘুর করে। মাকে বলেছিল, দেখো তো, এই কালো বিড়ালটাকে তো আগে দেখিনি। মা আভাসের কান টেনে বলল, পাগল ছেলে। নতুন ভাড়াটিয়ারা পোষে বোধহয়।
নাহ্, মায়ের কথা মিলছে না। কদিন ধরেই আভাস দেখছে যে, ভাড়াটিয়ারা কালো বিড়ালটাকে তাড়িয়ে দিচ্ছে। আভাস বুঝতে পারল যে, ওরা বিড়ালটা পোষে না। কদিন ধরে বিড়ালটাকে দেখা যাচ্ছে না। বিকালবেলা আভাস গেল বাড়ির সামনের বাগানে। দেখল বিড়ালটা কাঁদছে। চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে। মিঁউ মিঁউ কাঁদার শব্দ গেল আভাসের কানে। আভাস দেখল বিড়ালটা কেঁদেই যাচ্ছে। আভাস তাকে বলল, তোমার কী হয়েছে? তুমি কাঁদছো কেন? বিড়ালটা বলল, আমি তোমার পোষা বিড়াল হওয়ার পরও তুমি আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছো। আভাস থ মেরে গেল। সে কিছুই বুঝতে পারল না। ভাবল অনাথ মনে হয়। বিড়ালটা বলল, তুমি আমাকে বাড়িতে নিয়ে যাও।
আভাস তাকে প্রশ্ন করে বসলÑ কার বাড়ি নিয়ে যাব তোমাকে? বিড়ালটা সবুজ রঙের চোখে তাকিয়ে বলল, তোমাদের বাড়িতে নিয়ে চলো। বাড়িটা খুব সুন্দর! বাড়ি তো নয় যেন রাজপ্রাসাদ।
আভাস অবাক চোখে তাকিয়ে বিড়ালটিকে বলল, তুমি জানো? আমাদের বাসা কেমন? বিড়ালটি হেসে উত্তর দিল, জানি তো। ও তো আমার প্রিয় খেলার জায়গা। আভাস ভাবল বিড়ালটা বড় শখ করছে। ওকে বরং নিয়ে যাই। আভাস ওকে নিয়ে গেল। কিন্তু বিড়ালটা ছিল বড্ড ক্ষুধার্ত। তাই সে আভাসদের বাসায় কিছু খেতে চাইল। আভাস ফ্রিজ থেকে দুধ বের করে তার সামনে ধরল। আভাস জানে, বিড়াল দুধ খেতে পছন্দ করে। কিন্তু বিড়ালটা মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, আমি দুধ খাই না। আমি মাছ খাই। আমাকে মাছ দাও।
আভাস বলল, তুমি মাছ খাবে? হ্যাঁ। তা মাছ খেলে কী করে হবে? তুমি কেন আমাকে মাছ দিচ্ছ না।
কারণ তুমি অপরিচিত। বিড়ালটা রাগান্বিত স্বরে বলল, আমি না তোমার বন্ধু, আভাস! পোষা বিড়াল। তাও তুমি এমন করো কেন? আভাস ভাবল, তাইতো! ই, ওকে মাছ খাওয়াতেই হবে। আভাস ফ্রিজ থেকে মাছ বের করল এবং দুই টুকরো করে বিড়ালকে খেতে দিল। বিড়াল হাবুসহবুস করে মাছটুকু খেয়ে নিল। আভাসের বাবা-মা ফিরে এসে দেখেন আভাস বিড়ালটির সেবা-যত্ন করছে। বাবার বিড়ালে অ্যালার্জি। তিনি বললেন, এটাকে এক্ষুনি বিদায় করতে হবে।
আভাস বললÑ বাবা, এ বিড়াল অনাথ। ওকে আমরা কিছুদিনের জন্য এখানে রেখে দিই। ওতো খুব ছোট। বড় হলে ওকে তাড়িয়ে দেব।
বাবা আভাসের কথায় সায় দিয়ে বলল, তাই বরং করো। আমি কদিন অ্যালার্জি থেকে মুক্ত হওয়ার ওষুধটা খাব। তোমার মাকে বলো, ওর জন্য একটা শোবার ঘর করতে।
মা ওর জন্য একটা তুলোর বিছানা বানিয়ে দিলেন। একটা লাইটপোস্টও বানিয়ে দিলেন। বিড়ালটা তুলোর বিছানায় শোয়।
এভাবে মাসখানেক কেটে গেল। আভাস ওর একটা নাম রেখেছে। নামটা হলোÑ পুষি! পুষি বড় হতে লাগল।
এক দিন বাবা বললেন, পুষিটা তো বেশ বড় হয়েছে। অতএব ওকে এখন তাড়াতে হচ্ছে। আভাসের চোখ ছলছল করে উঠল। সেদিনই বিকালে যারা বিড়ালটা পোষেন, তারা এসে উপস্থিত হলো আভাসদের বাসায়। টিংটিং বেল চাপলেন তারা। বাবা খুললেন। দেখলেন অচেনা ভাড়াটিয়াদের। কাউকে খুঁজছেন বোধহয়। বাবা নতুন ভাড়াটিয়াদের বললেন, আপনারা কি কাউকে খুঁজছেন?
ভাড়াটিয়ারা বললেন, আমরা আমাদের পুষিকে খুঁজছি। ও একটা কালো বিড়ালছানা। তবে এত দিনে ও বোধহয় একটু বড়ই হয়ে গেছে। বাবা পুষির কথা কিছু বললেন না। শুধু জানতে চাইলেন, আপনারা তিনতলায় থাকেন? তারা বললেন, না, আমরা পাশের বাসায় থাকি। আপনারা কি আমাদের পুষিটাকে দেখেছেন? ঠিক সেই সময় পুষিকে কোলে নিয়ে আভাস সেখানে আসে।
অষ্টম শ্রেণি, কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, নাটোর