চয়ন বিকাশ ভদ্র
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৪:১১ পিএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪ ১৫:১১ পিএম
অলংকরণ : জয়ংন্ত সরকার
নীল পাহাড়ের বনের ধারে ছিল সুন্দর সবুজ এক গ্রাম। সে গ্রামে মা-বাবার সঙ্গে থাকত ছোট্ট এক ছেলে, নাম ছোটন। প্রকৃতি-পরিবেশ নিয়ে খুবই কৌতূহল ছিল তার। প্রতিদিন সে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত, কিন্তু তার মনে সব সময় একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেত-আকাশে মেঘগুলো কোথা থেকে আসে?
একদিন ছোটন তার বাবার সঙ্গে সমুদ্রের তীরে বেড়াতে গেল। সেখানে বসে বসে ঢেউয়ের শব্দ শুনছিল আর নীল আকাশের দিকে তাকাচ্ছিল। হঠাৎ তার চোখে পড়ে আকাশে বড় বড় মেঘেরা ভেসে বেড়াচ্ছে।
ছোটন তার বাবাকে জিজ্ঞাসা করল, ‘বাবা, এ মেঘগুলো কোথা থেকে আসে?’
তার বাবা হাসি দিয়ে বললেন, ‘দ্যাখো ছোটন, মেঘগুলো সমুদ্রের পানি থেকেই আসে। সূর্য যখন সমুদ্রের পানি গরম করে, তখন সে পানি বাষ্প হয়ে আকাশে ওঠে এবং মেঘ তৈরি হয়।’
ছোটন অবাক হয়ে বলল, ‘তাই! তাহলে মেঘগুলোও সমুদ্রের বন্ধু!’
তার বাবা মাথা নাড়লেন, ‘হ্যাঁ, মেঘ আর সমুদ্র একে অন্যের বন্ধু। তারা একে অন্যকে সাহায্য করে। মেঘগুলো যখন ভারী হয়ে যায়, তখন তারা বৃষ্টি হয়ে আবার সমুদ্রের কাছে ফিরে আসে। এভাবেই তাদের বন্ধুত্ব চলতে থাকে।’
ছোটন মুগ্ধ হয়ে শুনছিল। তখনই একটি মেঘ তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেসে বলল, ‘ছোটন, তুমি জানো কি আমরা শুধু সমুদ্রের বন্ধু নই, আমরা তোমাদেরও বন্ধু। আমরা যখন বৃষ্টি হয়ে মাটিতে পড়ি তখন মাটি নরম হয়। মাটি থেকে মূলরোম দিয়ে পুষ্টি নিয়ে গাছপালা বড় হয়। আর নদীনালা পানিতে ভরে যায়। নদীতে চলে নৌকা, লঞ্চ আর এর পানি দিয়ে হয় চাষাবাদ।’
ছোটন খুশিতে চিৎকার করে বলল, ‘মেঘ, তুমি সত্যিই আমাদের বন্ধু।’
সেদিন থেকে ছোটন প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে মেঘের সঙ্গে কথা বলত। সে জানত, মেঘেরা তার বন্ধু, যারা সমুদ্রের কাছ থেকে পানি নিয়ে তৈরি হয় আর বৃষ্টি হয়ে এসে পৃথিবীকে সবুজ ও সুন্দর রাখে।
ছোটনের মনে আকাশ, মেঘ ও সমুদ্র নিয়ে এক অদ্ভুত ভালোবাসা জন্ম নিল।