× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কার্টুন কমিকস

ঘড়ির জীবন

ঘড়ির জীবন নিয়ে কার্টুন কমিকস লিখেছে ও এঁকেছে সারিকা নুর আরশি। আরশি ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৪ ১৪:০৬ পিএম

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৪ ১৫:১১ পিএম

ঘড়ির জীবন নিয়ে কার্টুন কমিকস লিখেছে ও এঁকেছে সারিকা নুর আরশি। আরশি ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী

ঘড়ির জীবন নিয়ে কার্টুন কমিকস লিখেছে ও এঁকেছে সারিকা নুর আরশি। আরশি ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী

ছোট্ট পিটার এক সন্ধ্যায় পুতুল খেলছিল। মা পাশ থেকে বলল, স্কুলের বাড়ির কাজ শেষ করো। পিটার বলল, মা এখন খেলব। কিন্তু এখন পড়ার সময়। তাতে কী? সব কাজ সময়মতো করা উচিত। কিন্তু না করলে কী হবে?

আঠারো শতকের কথা। পিটার থাকত নেদারল্যান্ডসে, মা-বাবা ও দাদুর সঙ্গে। সে ছিল খুব দুষ্টু এবং কোনো কাজ সময়মতো করত না। তাই দেখে তার দাদু বলল, পিটার এসো তোমাকে একটা গল্প শোনাই। কী গল্প? সময়ের গল্প।সময়ের গল্প! হ্যাঁ। বলো তো আমাদের সময় কে বলে দেয়? ঘড়ি। ঠিক বলেছ। কিন্তু আজ থেকে প্রায় দুইশ বছর আগে ঘড়ি ছিল না। তখন মানুষ সময় বুঝত না। তারা সূর্যের আলো দেখে সময় নির্ণয় করত। তাহলে কি তারা সময় জানতে পারত না? না। তাদের সময় জানার কোনো উপায় ছিল না। শুধু সূর্যের অবস্থান দেখেই তাদের সময় নির্ণয় করতে হতো। কিন্তু স্রোতের মতোইসময় চলমান। সময় চলে গেলে তা আরফিরে পাওয়া যায় না।

প্রথমে ঘড়ি কে তৈরি করেছে? কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে পিটার। ‘প্রথম ঘড়ি তৈরির ইতিহাস ঠিক কেউই জানে না। মানুষ সময় জানার জন্য প্রথম সূর্যঘড়ি বানায়। সূর্যঘড়ির সমস্যা ছিল, এটি কেবল দিনের সময় বলা যেত, সূর্য না উঠলে তা-ও বলা যেত না।’ দিনের বেলা না হয় সূর্যের আলো দেখে সময় পাওয়া গেল, কিন্তু রাতের বেলা কীভাবে সময় পাওয়া যাবে ভাবিয়ে তুলল মানুষকে। চোখ গেল রাতের আকাশে। এমন এক নক্ষত্রের সন্ধান করতে লাগল যা সব সময় এক দিক থেকে অন্যদিকে যাবে। দেখতে খুব উজ্জ্বল আর একটু লম্বা। এটা আকাশের উত্তর দিকে ওঠে আর ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা মেরুকে কেন্দ্র করে ঘড়ির কাঁটার মতো ঘুরতে থাকে, যা দিয়ে অনায়াসে সময় নির্ধারণ করা যায়। এর নাম ‘ক্যাসিওপিয়া’।

তারপর আবিষ্কার হয় পানিঘড়ি। একটি বড় পাত্র থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় একটি ছোট পাত্রে পানি পড়ার মাধ্যমেই এগিয়ে চলে সময়ের কাঁটা। এরপর এলআ ‘বালুঘড়ি’। রাতের বেলা মানুষ ঘড়ির বিকল্প হিসেবে আবিষ্কার করে ফেলল ‘মোমঘড়ি’। যন্ত্রঘড়ি কে আবিষ্কার করেন, আজও তা অজানা। তবে অনেকে মনে করেন আর্কিমিডিসের হাতে প্রথম যন্ত্রঘড়ি জীবন পায়।
আমার দাদু প্রথমে পেন্ডুলাম ঘড়ি তৈরি করে। ওই যে দেয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়িটা দেখিয়ে বললেন, এটাই। তার দাদুর নাম ক্রিস্টিয়ান হুইজেন্স। ‘তাই? তুমি তাকে ঘড়ি তৈরি করতে দেখেছো?’ জিজ্ঞেস করে পিটার। ‘হ্যাঁ, সে প্রথম আবিষ্কার করেছিল পেন্ডুলাম ঘড়ি। পেন্ডুলাম ঘড়ি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট সময়রক্ষক। আমার দাদু অনেক বছর ধরে চেষ্টা করে এ পেন্ডুলাম ঘড়ি বানায়।’

‘তারপর?’ ‘ঘড়ি আবিষ্কারের পর থেকে মানুষ সময়ের মূল্য বুঝতে শিখল। তারা সময়মতো কাজ করা শিখল। ‘আসলেই কি সময়ের মূল্য অনেক?’ বলল পিটার। ‘হ্যাঁ, সময় একবার চলে গেলে আর ফেরত পাওয়া যায় না। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করা উচিত।’ পিটার বলে, ‘বুঝছি দাদু। এখন থেকে আমি সময়মতোই কাজ করব। ’বর্তমানে আমরা যে ঘড়ি ব্যবহার করি। তা কিন্তু এক দিনে আবিষ্কৃত হয়নি। প্রথমে ঘণ্টার কাঁটা বানানো হয়েছিল, এরপর মিনিটের কাটা এভাবে একটু একটু করে ঘড়ি আবিষ্কার করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ের সবকিছুই প্রতিটি সেকেন্ড হিসাব করে চলছে। যেমন বিমান, রেলগাড়ি, বিদ্যুৎ, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ, আফিস-আদালতসহ সবকিছুই।

আদিম যুগের মানুষকে শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সব সময় সতর্ক থাকতে হতো। তাই রাতে ছিল পালাক্রমে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা। আর কার পরে কে পাহারা দেবে তা ঠিক করার জন্যই আদিম যুগের মানুষ রাতকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে নিয়েছিল। রাতের এ একেকটি অংশকে বলা হতো ‘ওয়াচ’। খ্রিস্টীয় তেরো শতকে প্রথম সমান সময়ের ঘণ্টার হিসাব চালু করা হয়, প্রথম দিনকে সমান ১২ ঘণ্টায় ভাগ করে নেয়। ফলে দিনরাত মিলে মোট ২৪ ঘণ্টার প্রচলন হয়।ঠিক কে ঘড়ি আবিষ্কার করেছিলেন, তা জানা না গেলেও এটি জানা যায় যে, আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ বছর আগে মিসর ও ব্যাবিলনে এর উৎপত্তি। মজার কথা, এটি আজও টিকে আছে। তবে এতে নেই কোনো টিকটিক শব্দ। আর এ ঘড়ি নামটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘ক্লক্কা’ থেকে, যা আজকের ক্লক বা ঘড়ি।

তারপর আসে হাতঘড়ি। আবিষ্কৃত হয় কাটাবিহীন ডিজিটাল ঘড়ি। হাতঘড়ির আধুনিক রূপ হচ্ছে স্মার্টওয়াচ। একটি স্মার্টফোন দিয়ে যা করা যায়, তার প্রায় সবই এখন করা যাচ্ছে স্মার্টওয়াচ দিয়ে। সেই প্রাচীনকাল থেকে মানুষের সময় নির্ণয়ের প্রয়োজন মেটাচ্ছে ঘড়ি। সময় আর প্রযুক্তির পরিবর্তনে বদলে গেছে ঘড়ি। হয়েছে আরও আধুনিক। তবে শুধু নিত্যনতুন ঘড়ি ব্যবহার করলেই হবে না, ঘড়িতে সময় নির্ণয়ের পাশাপাশি আমাদের হতে হবে সময়সচেতন। তবেই ঘড়ি তার প্রকৃত কাজে লাগবে। ঘড়ির উদ্দেশ্য হবে সফল।


শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা