প্রচ্ছদ
সুবর্ণা মেহ্জাবীন স্বর্ণা
প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৪ ১৯:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৪ ২০:১১ পিএম
মডেল : তাসনিয়া ও রিয়া পোশাক ও ছবি : রঙ বাংলাদেশ
বাইরের রোদ দেখে বোঝার উপায় নেই ক্যালেন্ডারের পাতায় এখন চলছে আষাঢ় মাস। শান্তির বৃষ্টির দেখা তো মিলছেই না, উল্টো তীব্র গরমে অস্থির জনজীবন। এ সময়ে তাই পোশাক হওয়া চাই আরামদায়ক, পাতলা ও ঢিলেঢালা। পোশাকের সঙ্গে ফ্যাশনও যোগ হচ্ছে কাট, ছাপা কিংবা নকশায়।
এখন আবহাওয়ার মতিগতি বোঝা বড় দায়। তীব্র গরমে এই ঘামছেন, ভিজে যাচ্ছে পোশাক। আবার হুটহাট বৃষ্টিতেও ভিজে যেতে হচ্ছে। এ সময় কোন কাপড়ের পোশাক বেশি উপযোগী তা নিয়ে চিন্তায় থাকেন অনেকে। বিশেষ করে রোজ যাদের বাইরে যেতে হয়, সে ক্যাম্পাস হোক বা অফিসÑপোশাক নির্বাচনের আগে কমবেশি সবার মনেই থাকে আরামের ব্যাপারটা। তার ওপর যে গরম পড়ছে তাতে পোশাক যদি আরামের না হয় তাহলে সারা দিন স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যেন দায়।

এ সময় পোশাকের ধরনের পাশাপাশি কাপড়ের দিকেও নজর রাখতে হবে। কড়া রোদে সুতির কাপড় বেশি আরামের। সুতির টপস, শার্ট, টি-শার্ট, কুর্তি ধরনের পোশাকের চাহিদা সব সময়ই বেশি। তবে অফিস বা ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে লিনেন কাপড় বেশি আরামদায়ক। এ ধরনের কাপড় হালকা হওয়ায় পরতেও ভালো লাগে। উৎসব-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে লিনেন কাপড়ের পোশাক বেশ মানানসই।
তবে গরমে ঘাম ও হঠাৎ বৃষ্টিতে সুতি কাপড়ের পোশাক ভিজে গেলে তা শুকাতে সময় বেশি লাগে। সুতি কাপড়ের পোশাক ঘামে বা পানিতে বেশি ভিজলে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ারও ভয় থাকে। তাই সুতির বদলে শিফনকেই আদর্শ মনে করছেন অনেক ডিজাইনার। কে ক্রাফটের স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘এখন যে আবহাওয়ার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা, তাতে সুতির বদলে শিফনই বেশি টেকসই। শিফনে যেমন সুতির মতোই আরাম আবার ঘামে বা বৃষ্টিতে বেশি ভিজলেও কাপড়ের খুব বেশি ক্ষতি হয় না। সুতি ঘামে বা বৃষ্টিতে ভিজে গেলে শুকাতে সময় বেশি লাগে, শরীরের সঙ্গে লেপটে থাকে। শিফনের পোশাকে এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই। বরং খুব সহজেই শিফনের পোশাক থেকে ঘাম ও পানি শুকিয়ে যায়। আবার শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপসহ সবকিছুতেই অভিজাত ভাব ফুটিয়ে তোলা যায় শিফনে।’
তরুণীদের কাছেও শিফনের পোশাক খুব আকর্ষণীয়। শিফনের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে নিজেদের জমকালোভাবে ফুটিয়ে তুলছেন তরুণীরা। তাদের কাছে শিফন আরামের, আবার অভিজাতও।

এ ছাড়া জর্জেট, লিনেন, সিল্ক, হাফসিল্ক, শিফন, সেমি শিফন, মসলিন, সেমি কটনের মতো নানা ধরনের কাপড় তৈরি হচ্ছে এখন। এ সুবিধাই কাজে লাগাচ্ছে ফ্যাশন হাউসগুলো। আবহাওয়ার ধরন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে আরামদায়ক পোশাক তৈরি করছে তারা। গুমোট গরম আর হুটহাট বৃষ্টির এ সময়কে মাথায় রেখে পোশাকের ম্যাটেরিয়ালে উন্নত প্রযুক্তির এসব কাপড় বেছে নিচ্ছেন ডিজাইনাররা। হালকা রঙ, পাতলা কাপড় ও আরামদায়ক কাটে এ সময়কার পোশাক এনেছে ফ্যাশন হাউসগুলো।
ফ্যাশন হাউস অঞ্জন’সের স্বত্বাধিকারী শাহিন আহমেদ বলেন, ‘এ আবহাওয়ার জন্য পোশাকে পাতলা কাপড়কেই বেছে নিই আমরা। পোশাক শুধু ফ্যাশনেবল হলেই চলে না। নতুন নতুন ফ্যাশনের সঙ্গে আরামের দিকটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। এবারও তরুণীদের জন্য জর্জেট, শিফন, সিল্ক, লিনেন ও মসলিনের মতো আরামদায়ক কাপড়ে পোশাক তৈরি করেছি।’

তবে পাতলা কাপড় হলেই যে পোশাকটি আরামদায়ক হবে তেমনটি অনেক সময় না-ও হতে পারে। অনেক সময় পোশাকের কাটছাঁটের ওপরও আরামের বিষয়টি নির্ভর করে। এজন্য দক্ষ ডিজাইনারদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সিজনাল পোশাক তৈরি করে এখনকার ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো।
জর্জেট বেশি পাতলা বলে অনেকের কাছেই অস্বস্তিবোধ হয়। তবে এর জন্য সুতি কাপড়ের আলাদা শেমিজ পাওয়া যায় ফ্যাশন হাউসের শোরুমে। চাইলে শিফন, সিল্ক, জর্জেট ও লিনেন কাপড়ের পোশাক বানিয়েও নিতে পারেন। বিভিন্ন রকম নকশাও ফুটিয়ে তুলতে পারেন মেশিন এমব্রয়ডারির সাহায্যে।

তবে যে ধরনের কাপড়ের পোশাকই বেছে নিন না কেন, রঙের কথা ভুলে গেলে চলবে না। গরমে সাদা রঙের পোশাক সবচেয়ে আরামদায়ক। তবে ফ্যাশনসচেতন মানুষের জন্য পোশাকের ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গে মানানসই রঙ বেছে নেন। তা ছাড়া সাদা কিংবা যেকোনো ধরনের হালকা রঙের পোশাক পরলেই গরমে কিছুটা হলেও আরাম পাবেন। সাদার পাশাপাশি হালকা গোলাপি, হালকা বেগুনি, হালকা নীল, বাদামি, আকাশি, হালকা হলুদ, ধূসরসহ যেকোনো রঙের পোশাক প্রাধান্য দিতে পারেন।

পাতলা কাপড়ের সঙ্গে সঙ্গে কাটছাঁটে থাকছে নতুনত্বের ছাপ। গরমের এই সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরলে আরাম পাবেন। অনেকে ফিটিং পোশাক পরতে বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু তাপপ্রবাহ চলাকালে খুব চাপা পোশাক না পরাই ভালো। টাইট পোশাক পরলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকঠাক হয় না। ত্বকে র্যাশও হতে পারে। তাই আরামদায়ক পোশাক পরাই ভালো। এ সময় হালকা ডিজাইনের পোশাক পরাই উত্তম। এখন রোদের তাপ এত বেশি যে, ফুল স্লিভ পোশাক পরাই ভালো। হাফ স্লিভ পরলে, হাত ঢাকা থাকে সে ব্যবস্থা করে বেরোতে হবে।