মনজুর হোসাইন চৌধুরী
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪ ১৪:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রক্তের গ্রুপ মানুষের খুব জরুরি তথ্য। আকস্মিক বিপদে যেমন একই গ্রুপের মানুষকে রক্ত দিতে হতে পারে, তেমনই মা-বাবার পজিটিভ-নেগেটিভ গ্রুপের কারণে সন্তানের জীবনও হতে পারে সংকটাপন্ন। তা ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু গ্রুপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু রোগের ঝুঁকিও থাকে বেশি। বিপদে, দুর্ঘটনায় কিংবা জরুরি প্রয়োজনে নিজের রক্তের গ্রুপ জানা থাকলে অনেক বিপদ থেকেই রক্ষা পাওয়া যায়। রক্তের গ্রুপ কেন জেনে রাখবেন-
নিজের প্রয়োজনে
ধরে নেওয়া যাক, দুর্ঘটনায় কারও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন। এদিকে তার রক্তের গ্রুপ জানা নেই। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির কাছের মানুষ কিন্তু চাইলেও চট করে রক্তদাতার খোঁজ করতে পারবেন না। হাসপাতালে নেওয়ার পর জীবন বাঁচানোর অন্যান্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গ্রুপ পরীক্ষার জন্য তার রক্ত নেওয়া হবে। তবে সেই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে পেরিয়ে যাবে মূল্যবান বেশ খানিকটা সময়। তাই নিজের রক্তের গ্রুপ জেনে নিন এবং কাছের মানুষকে তা জানিয়ে রাখুন।
মানবিক কারণে
কাছের কিংবা নিতান্তই অপরিচিত কোনো মানুষের জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন হয় রোজই। মানবিক কারণেই এগিয়ে যেতে চান আপনি। কিন্তু নিজের রক্তের গ্রুপ জানেন না। মুমূর্ষু ব্যক্তির স্বজনদের সহায়তায় ব্লাডব্যাংক পর্যন্ত পৌঁছালেনও। পরীক্ষা করে জানা গেল রক্তের গ্রুপ মিলছে না। আসলে কোনো ব্যক্তি রক্তদাতা হিসেবে কোথাও রক্ত দিতে গেলে অনেক কিছুই পরীক্ষা করে দেখতে হয়। তার মধ্যে প্রথম ধাপ হলো, রক্তের গ্রুপ মেলে কি না দেখা। ভুল গ্রুপের রক্তদাতা নিয়ে গেলে সেখানেও কিন্তু অকারণ কালক্ষেপণ হয়।
আপনি যখন মা কিংবা বাবা হচ্ছেন
স্ত্রীর রক্ত যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয় আর স্বামীর পজিটিভ, সে ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে গর্ভের সন্তানের ওপর। এ ক্ষেত্রে সন্তান যদি নেগেটিভ গ্রুপের হয়, তাহলে অবশ্য ভয় নেই, কিন্তু সন্তান পজিটিভ গ্রুপের হলেই বিপদ। সন্তানের রক্ত পজিটিভ গ্রুপের হলে পজিটিভ রক্তের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যায় মায়ের শরীরে। পরবর্তীবার সন্তান ধারণ করলেও যদি সন্তানের রক্ত পজিটিভ গ্রুপের হয়, তখন ওই অ্যান্টিবডি পরবর্তী সন্তানের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এমনকি এই সন্তান মারাও যেতে পারে। এমন সমস্যা এড়াতে নেগেটিভ গ্রুপের মায়ের পজিটিভ গ্রুপের সন্তান জন্মের পর মাকে এমন ইনজেকশন দেওয়ার সুযোগ আছে, যাতে পরবর্তী সময় সন্তানকে বিপদ থেকে নিরাপদ রাখা যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এ সুফল পেতে হলেও কিন্তু রক্তের গ্রুপ জানা থাকতেই হবে।