শনিবারের হাসি
আবদুর রব শরীফ
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৪ ১৫:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বউ সেদিন বলল, এই যে লেখালেখি করো! তাতে কী লাভ হয়?
বললাম, আসলে লাভ হয় কিন্তু তা বলা যাবে না। সে বলল, সত্যি যদি লাভ হতো তাহলে অফিস থেকে আসার সময় পকেটে করে দুটো চকলেট তো অন্তত আনতে পারতে।
সেদিন মহান বৃহস্পতিবারে বলল, লেখালেখি করে কোনো লাভ হয়েছে তুমি দেখাতে পারলে মাঝরাতে এক কাপ চা বানিয়ে দেব।
বললাম, সব লাভ দেখা যায় না। কিছু লাভ অনুভব করতে হয়।
যদিও আমার স্যালারি কত, বিয়ের দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত করে সে বের করতে পারেনি। লেখালেখি করে আসলে কী লাভ হয় তা-ও আশা করি খুঁজে বের করতে পারবে বলে মনে হয় না।
বউকে যখনই বলি আজ অমুক জায়গায় আমার একটা লেখা প্রকাশ করা হয়েছে, সে তখনই বলে, এত লিখে কী লাভ হয়! সারা দিন দেখি তথ্য খুঁজে বেড়াও।
সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে আমিও ভাবি আসলে কী লাভ হয়। নেশা তো লাভ বোঝে না, কেবলই ফিল্ কাউন্ট করে। এটা বলে অন্তত তাকে বুঝ দিলাম মাইরি; কিন্তু লাভ কী হয় তা বলা যাবে না।
তারও কী লাভ হয় তা না শুনলে ভাত হজম হবে না। মেয়েদের পাত্তা পাওয়ার মূল টোটকা তার মনে কৌতূহল সৃষ্টি করে রাখা। শেষ পর্যন্ত একদম অপারগ হয়ে তাকে লাভ দেখাতে মেসেঞ্জার ওপেন করলাম। সেখানে একজন পাঠিকা মেসেজ করেছেন, ‘ভাইয়া আপনি অনেক ভালো লেখেন। আই লাভ ইউ।’ অবশেষে বউ লাভের খোঁজ পেয়ে আপাতত অফ গেল।
এখন আমি নিজেই অবাক হলাম একটা অপরিচিত নারীর আই লাভ ইউ লেখা দেখে বউ মাইন্ড করল না কেন? উল্টো তাকে প্রশ্ন করলামÑতুমি মনে হয় লেখালেখির লাভ ভালো করে দেখোনি?
সে বলল, ‘সত্যি বলতে, লেখালেখি করে যদি কোনো লাভ থাকত মেয়েটা অন্তত তোমাকে ভাইয়া ডাকত না।’