আতিকা মিম
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৪ ১১:১৫ এএম
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে ‘মন কী বলে’ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। প্রবা ফটো
আজ কেমন আছেন? শরীর ভালো? আর মন? দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মনের খবর কখনও নেওয়া হয়েছে? শারীরিক সুস্থতা-অসুস্থতা, প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলা হলেও আমরা প্রায়ই ভুলে যাই মানসিক স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে। মন খারাপও যে একটি অসুখের নাম, তা কজনই বা জানে!
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মশালার আয়োজন করল লাল সবুজ সোসাইটি। এবারের আয়োজন ছিল দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সঙ্গে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের কী খবর, তা জানতেই লাল সবুজ সোসাইটি আয়োজন করে ‘Listen to your heartÑমন কী বলে’ কর্মশালার।
সম্প্রতি ঢাকার মিরপুরের ঋদ্ধি প্রকাশন গ্যালারিতে আয়োজিত হয় এ কর্মশালা। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ৩০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং সিটি হসপিটালের সাইকোথেরাপিস্ট ও ট্রেনার মুহসিনা মাহমুদা বুশরা। আয়োজনে লাল সবুজের সহযোগিতায় ছিল ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস) ও ইয়ুথ ফর পলিসি।

কর্মশালায় ছিল বিভিন্ন আয়োজন। প্রথমেই চা পর্বের পরে ট্রেনার সবাইকে বলেন চোখ বন্ধ করে বুকে হাত দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের প্রতিবন্ধকতার কথা অনুধাবন করতে। এরপর ট্রেনার প্রত্যেকের কাছে কিছু জিনিস দিয়ে ওই সব জিনিস তাদের জীবনে কীভাবে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে আলোচনা করেন। একপর্যায়ে সবার হাতে একটি চাবির রিং দিয়ে তা চেপে ধরে মনের যত কষ্ট আছে তা নিয়ে চিন্তা করতে বলেন। এ সময় ভেঙে পড়েন অনেকেই। ট্রেনার বুশরা সবার কাছে গিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং তাদের সান্ত্বনা ও পরামর্শ দেন।
দুপুরে বিরতির পর আবার কর্মশালা শুরু হয় এবং আলোচনা চলে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। শেখানো বিভিন্ন মস্তিষ্কের ব্যায়াম, মন সুস্থ রাখার উপায়। কর্মশালায় ছিল বিনোদনের ব্যবস্থা, সঙ্গে গানের আয়োজনও। স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকেও শোনা হয় তাদের মতামত। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিকাল ৫টায় কর্মশালা শেষ হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র মো. সাইফুদ্দীন রাফি জানান, বর্তমানে মানুষের বস্তুগত জীবনে নানা হতাশা, উত্থান-পতনের মধ্যেও কীভাবে ভালো থাকা যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করেছে। এ ধরণের আয়োজন ভবিষ্যতে আরো করা হোক।
আরেক অংশগ্রহণকারী কাজল খান বলেন, দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর আমাকে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হতে হয়েছে। প্রতিনিয়ত করতে হয় ভালো থাকার অভিনয়। ভেতরের আমিটা ভালো নেই অনেক দিন। এ সেশন অনেক বছর পর আমার ভেতরের আমাকে ছুঁয়ে দেখিয়েছে।
ভিপসের কামরুল ইসলাম খান হৃদয় বলেন, তার সমস্যা ছিল তিনি নিজের মনোবল ধরে রাখতে পারতেন না। তিনি মনে করেন এ সেশন আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছে। তাকে তার সামর্থ্য, নিজের সম্পর্কে আরও বেশি জানতে শিখিয়েছে।
ভিপসের জোহরা আক্তার বলেন, সেশনটি তাকে শিখিয়েছে নিজেকে খুঁজতে, নিজের গণ্ডি সম্পর্কে জানতে, ভালো-খারাপ সবকিছু মেনে নিয়ে বেঁচে থাকতে, হতাশাগ্রস্ত হলে নিজেকে সময় দেওয়া শিখতে।
আয়োজনে অংশগ্রহণকারী ভিপসের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরিফ হোসেন বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে অনেক রকমের আয়োজন থাকলেও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এমন আয়োজন সত্যিই ব্যতিক্রমধর্মী। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা শিখেছেন কীভাবে মনের যত্ন নিতে হবে।