দীপু মাহমুদ
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৪ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ৩০ মে ২০২৪ ১২:৩৩ পিএম
দাদা বসে আছেন বাড়ির বারান্দায়। তিনি মুগ্ধ চোখে উঠোনের দিকে তাকিয়ে আছেন। উঠোনের মাঝখানে আমগাছ। গাছের নিচে পাখিরা টুকটুক করে খাবার খুঁটে খাচ্ছে। দাদা উঠোনে দুই জায়গায় পাখির জন্য খাবার রেখে দেন। এক জায়গার খাবার খায় শালিক, বুলবুলি, চড়ুই, দোয়েল আর সাতভাই ছাতারে পাখি। মাঝেমধ্যে কতগুলো অচেনা পাখিও আসে। তারাও উঠোন থেকে খাবার খুঁটে খায়। তাদের সঙ্গে খাওয়ার জন্য গাছ থেকে নেমে আসে কাঠবিড়ালি। আরেক জায়গায় রাখা খাবার খায় ঘুঘু আর কবুতর। তবে উঠোনে সবার জন্য এক জায়গায় পানি দেওয়া আছে। তারা সেখান থেকে পানি খায়।
বারান্দায় চেয়ার পেতে দাদার পাশে বসে আছেন দাদি। তাদের দুজনের দুপাশে মিঠাই আর অরিয়ো বসেছে। তারা দুই বোন-ভাই। মিঠাই ছোটো আর অরিয়ো বড়ো। দুজনই ইশকুলে পড়ে।
চমকে লাফিয়ে উঠেছেন দাদা। ঘটনা কী হয়েছে? আমগাছের বাসায় আছে শালিকের বাসা। সেখান থেকে শালিকের ছানা পড়ে গেছে উঠোনে। মিঠাই আর অরিয়ো ছুটে উঠোনে চলে গেল। উঠোন থেকে মিঠাই আলতোভাবে শালিকের ছানাকে হাতে তুলে নিল।
দাদা বললেন, কী হয়েছে?
মিঠাই বলল, পাখির ছানার চোখ ফুটেছে। সে তাকিয়ে আমাদের দেখছে।
দাদি বললেন, লেগেছে কোথাও?
অরিয়ো বলল, বুকে ব্যথা পেয়েছে। ডানা একটা ভেঙে গেছে।
শালিক ছানার মা আমগাছের নিচের ডালে বসে ডাকছে। সে তার ছানাকে দেখতে চাইছে। মিঠাই হাত ওপরে তুলে ছানাকে দেখাল।
অরিয়ো বলল, মিঠাই দেখো ছানাটার ডানা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
মিঠাই বলল, তার চিকিৎসা দরকার। চলো আমরা পাখির ছানার চিকিৎসা করি।
মিঠাই আর অরিয়ো পাখির ছানাকে ঘরে নিয়ে এলো। ঘর খুঁজে অরিয়ো জুতোর ফাঁকা বক্স পেয়েছে। সেটা নিয়ে এসেছে। আর নিয়ে এসেছে কিছু খড়। খড় দিয়ে দুই ভাইবোন জুতোর বক্সে পাখির ছানার থাকার ব্যবস্থা করল।
মিঠাই বলল, তার খিদে পেয়েছে।
অরিয়ো দাদির কাছ থেকে খুদ নিয়ে এলো। ভাত নিয়ে এলো। পানি নিয়ে এলো। ভাঙা ডানায় লাগানোর জন্য স্যাভলন আর ব্যান্ডেজ নিয়ে এলো। সবকিছু জোগাড় হলে দুই ভাইবোন বসে পাখির ছানার ভাঙা ডানায় স্যাভলন লাগিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিলো।
মিঠাই বলল, আমি তার দুই ঠোঁট খুলে দিচ্ছি। তুমি খাবার দাও।
অরিয়ো পাখির ছানার হা করা মুখে অল্প-অল্প খুদ দিতে থাকল। মিঠাই আর অরিয়ো দেখেছে মা পাখি কীভাবে ছানাদের খাবার খাওয়ায়। তারা সেভাবে পাখির ছানাকে খাবার খাওয়াল।
দুদিন পর সুস্থ হয়ে গেল পাখির ছানা। সে ডানা ঝাপটে ওড়ার চেষ্টা করল। তবে বেশিদূর উড়তে পারল না। মিঠাই বলল, তাকে মায়ের কাছে দিয়ে আসতে হবে।
অরিয়ো বলল, আমগাছে কে উঠবে? পাখির বাসা তো আমগাছে!
মিঠাই বলল, কুটিচাচাকে বলি।
কুটিচাচা সকালে আমগাছে উঠে পাখির ছানা বাসায় দিয়ে এলো। ছানাকে বাসায় ফিরে পেয়ে মা পাখি আর বাবা পাখি অনেক খুশি হলো। তারা আনন্দে গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়াতে থাকল।
সেদিন বিকেলে দাদা, দাদি, মিঠাই আর অরিয়ো উঠোনে পাখিদের খাওয়া দেখছে। আজ নতুন একজোড়া পাখি এসেছে। মিঠাই বলল, দাদা এই পাখির নাম কী?
দাদা বললেন, মুনিয়া।
আচমকা মিঠাই ছুটে উঠোনে চলে গেছে। সে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। কালো বিড়াল ছুটে এসে মিঠাইয়ের পাশে থমকে দাঁড়িয়েছে। বিড়ালের রঙ কুচকুচে কালো। কুটিচাচা তার নাম রেখেছে কালু। পাখির বাসা থেকে ছানা পড়ে গেছে আজও। বেড়ার পাশে কালু ওঁৎ পেতে ছিল। পাখিরা যখন খেতে উঠোনে নামে তখন কালু তাদের ধরার জন্য বেড়ার পাশে ওঁৎ পেতে থাকে। আজ গাছের ওপর বাসা থেকে ছানা উঠোনে পড়তেই কালু ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মিঠাই দেখেছে। সে বারান্দা থেকে কালুর আগে ছুটে গেছে উঠোনে। হাঁটু গেড়ে উঠোনে বসে বুক দিয়ে আড়াল করে ফেলেছে পাখির ছানাকে।
দাদা নেমে এসেছেন উঠোনে। দাদাকে দেখে কালু ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেছে।
মিঠাই বলল, পাখির ছানা আমাদের কাছে আরও দুটো দিন থাক। সে যখন উড়তে শিখবে তখন বাসায় দিয়ে আসব।
মিঠাই আর অরিয়ো কয়েক দিন হলো পাখির যত্ন করে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে পাখি আজই উড়ে গাছে চলে যেতে পারবে।