সুবর্ণা মেহ্জাবীন স্বর্ণা
প্রকাশ : ২৯ মে ২০২৪ ১৫:৫৫ পিএম
আপডেট : ০১ জুন ২০২৪ ১১:১৫ এএম
মডেল : সামান্থা ও পিয়েতা; পোশাক : দেশাল; মেকআপ : বিন্দিয়া; ছবি : ফারহান ফয়সাল
গরমে ঢিলেঢালা এবং আরামদায়ক পোশাক পরতে চায় সবাই। তবে শুধু আরাম হলেই চলবে না, স্টাইল ও ফ্যাশনটাও হওয়া চাই। সেদিক বিবেচনায় এ গরমে কাফতান তো বেছে নেওয়া যেতেই পারে। যা আরামের সঙ্গে দেবে ফ্যাশনেবল লুক।

আরামদায়ক পোশাক
হিসেবে কাফতান অনেকের পছন্দ। ইতিহাস বলে, কাফতান আভিজাত্যের প্রতীক। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার
সময়ে আবির্ভাব হয় এ পোশাকটির। নকশায় আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে অটোমান সাম্রাজ্যের
সুলতানদের গায়েও। সময়ের সঙ্গে বদলেছে কাপড়ের নকশা। পাশ্চাত্যেও গেছে এ পোশাক রুশ সাম্রাজ্যের
শেষ সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাসের স্ত্রী আলেকজান্দ্রা ফিওদরভনার কল্যাণে। আমরা যে পোশাকটিকে
কাফতান বলে জানি, নানা স্থানে, নানা ধাঁচে, নানা কাটে ও পরিচয়ে রয়েছে তার অস্তিত্ব।
ফ্যাশনেবল আর স্বস্তিদায়ক পোশাক হিসেবে ঘরের বাইরে কাফতান বেশ জনপ্রিয়। তবে এ পোশাক পরা যায় ঘরেও। আরামদায়ক কাপড়ের ঢিলেঢালা পোশাকটি এ দেশের আবহাওয়ায় ঘরে-বাইরে সমানভাবেই ব্যবহারোপযোগী।

দেশালের কর্ণধার ইসরাত জাহান বলেন, ‘কাফতান এমন একটি পোশাক, যা যেকোনো বয়সি নারীই পরতে আরাম বোধ করেন; সঙ্গে দেখতেও সুন্দর লাগে। তা ছাড়া চাইলেই মনের মতো করে ঘরেও তৈরি করে নেওয়া যায়।

এ সময়ে আবহাওয়ায় কাফতানের মতো পোশাক বেশ স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। একটু ঢিলেঢালা লম্বা পোশাক কাফতান। তবে এখন আমাদের আবহাওয়া উপযোগী কাটছাঁটে তৈরি হচ্ছে পোশাক। নকশা ও কাপড় নিয়েও চলছে নানা নিরীক্ষা। এত দিন পা থেকে হাঁটু পর্যন্ত দেখা যেত কাফতানের দৈর্ঘ্য। তবে এখন তরুণীদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে কোমর পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের কাফতান। কোমর পর্যন্ত এসব কাফতানে দেখা মিলছে নতুনত্ব।

এ ধরনের কাফতানে
নিচের দিকে ঝালর বা কুঁচির নকশা থাকলে ভালো দেখায়। এ ছাড়া যেকোনো খাটো পোশাকেই সামনে
নিচু, পেছনে উঁচুÑএ কাটও বেশ মানিয়ে যায়। বোটনেক বা গোল গলাÑদুটিই মানিয়ে যাবে এ পোশাকের
সঙ্গে। কাফতানে এখন যোগ হচ্ছে বেলুন ছাঁটের হাতার ব্যবহার। চাইলে হাতায় রাখতে পারেন
নানা রকম ফ্রিল। প্রজাপতি হাতার ব্যবহারও বেশ দেখা যায়।
ছোট দৈর্ঘ্যের এসব কাফতানের সঙ্গে সালোয়ারটাও মানানসই হওয়া জরুরি। এ ধরনের কাফতানের সঙ্গে একটু ঢোলা সালোয়ার পরতে পারেন। সালোয়ারের জন্য বেছে নিতে পারেন সাটিন কাপড়। কাপড়ের ভিন্নতার পাশাপাশি কাফতানের কাটছাঁটের এ বৈচিত্র্য পুরো পোশাকটিতেই এক ধরনের স্টাইলিশ আবহ নিয়ে আসে। চাইলে কাফতানের কোমরে ফিতা ব্যবহার করতে পারেন। এতে পুরো পোশাকটিতে আসবে ভিন্নমাত্রা।

ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোয়
নানা ধরনের কাফতান দেখা মেলে। যার মধ্যে অন্যতম হলো টাই-ডাই। প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি
বিশুদ্ধ কাপড়ে প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে আরামদায়ক কাফতান এনেছে দেশাল। রঙের উপকরণ হলো
গাঁদা ফুল, ইন্ডিগো, হরীতকী, গর্জন, মাদার, ডালিমের খোসা প্রভৃতি। পোশাক তৈরির বিভিন্ন
ধাপে কাপড় ধোয়ার ফলে ক্রেতার হাতে পৌঁছে আরামদায়ক, নরম কাপড়। রাসায়নিক না থাকায় ত্বকে
বিরূপ প্রভাব ফেলে না তাদের কাপড়। সুতি, লিনেন, খাদি বা সিল্ক কাপড়ে হতে পারে কাফতান।
বেছে নিতে পারেন পছন্দমতো। উষ্ণ আবহাওয়ায় হালকা রঙের কাফতান চোখকে আরাম দেবে, শরীরও
থাকবে স্বস্তিতে। হালকা বাঙ্গি, হালকা হলুদ, হালকা নীল, গাঢ় নীল, জলপাই, ধূসর প্রভৃতি
রঙ বেছে নিতে পারেন। লম্বা, মাঝারি (হাঁটুর নিচ অবধি) আর খাটো (টপ কাফতান) আকারের কাফতান
রয়েছে। খাটো কাফতান সাধারণত উঠতি বয়সিরা পছন্দ করে। নানা মোটিফের নকশিকাঁথার কাজ করা
কাফতানও বেছে নিতে পারেন।

আজকাল অনলাইন
বিজনেস পেজগুলোয় খুব সহজেই কিনতে পাওয়া যাচ্ছে নানানরকম ফ্যশনেবল কাফতান। এ ছাড়া খুব
কম খরচেই আপনি কাফতান পেয়ে যেতে পারেন নিউমার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার
পার্কসহ বিভিন্ন মার্কেটে। শুধু উৎসবেই নয়, অফিসেও নিয়মিত পরতে পারেন কাফতান; যা এ
গরমে কর্মক্ষেত্রে আপনাকে সারা দিন রাখবে স্বস্তিতে।