× ই-পেপার প্রচ্ছদ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি ফিচার চট্টগ্রাম ভিডিও সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কালির চরের পরিযায়ী কাদাখোঁচা

ড. আ ন ম আমিনুর রহমান

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৪ ১০:৪৮ এএম

কালির চরের পরিযায়ী কাদাখোঁচা

চার বছর আগের কথা। ৩ জানুয়ারি সকালে শীতের জলচর পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য মুন্সীগঞ্জের লোয়ার পদ্মায় রওনা দিয়েছি। ভোর থেকেই আকাশের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। নৌকা কালির চরে আসার পর হালকা বৃষ্টির ছিটা গায়ে লাগল। কিন্তু হঠাৎ চরের কাছে অগভীর জলায় কটি চখাচখির (Ruddy Shelduck) দেখা পেয়ে নৌকা থামালাম। ওদের কাছাকাছি আসতেই চরে প্রচুর জলময়ূর (Pheasant-tailed Jacana) ও জলপিপিকে (Bronze-winged Jacana) ব্যস্তভাবে খাবার খেতে দেখলাম। সঙ্গে কিছু কইতরি চ্যাগা (Pacific Golden Plover) ও জোয়ালাও (Ruff) আছে। এমন সময় কচুরিপানার ফাঁকে লম্বা চঞ্চুর দুটো পাখি দেখে এক মুহূর্ত দেরি না করে ক্লিক করা শুরু করলাম। কিন্তু ৩ থেকে ৪টি ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই অতি সতর্ক পাখি দুটো উড়াল দিল আর আমাকে ওদের ডানার মধ্য পালকের প্রান্তের সাদা দাগগুলো দেখিয়ে দিল। কাজেই পাখি দুটোকে শনাক্ত করতে কোনো সমস্যাই হলো না। 

ডানার মধ্য পালকের প্রান্তের সাদা দাগওয়ালা লম্বা চঞ্চুর পাখিগুলো এ দেশের শীতের পরিযায়ী পাখি কাদাখোঁচা। চ্যাগা বা মেটে চ্যাগা নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Common Snipe বা Fantail Snipe। স্কোলোপ্যাসিডি গোত্রের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Gallinago gallinago (গ্যালিনাগো গ্যালিনাগো)। ওরা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের আবাসিক পাখি। শীতে মধ্য আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিযায়ন করে। 

কাদাখোঁচা লম্বা চঞ্চু এবং খাটো ঘাড় ও পায়ের জলচর পাখি। চঞ্চুর আকার মাথার প্রায় দ্বিগুণ। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দৈর্ঘ্য ২৩ থেকে ২৮ সেন্টিমিটার, প্রসারিত ডানা ৩৯ থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার ও ওজন ৭৮ থেকে ১৩০ গ্রাম। দেহের ওপরের অংশ বাদামি ও পায়ুসহ নিচের অংশ সাদাটে। পুরো দেহের পালকের ওপর অসংখ্য গাঢ় ছিটছোপ ও দাগ রয়েছে। মাথা গাঢ় রঙের। বিশ্রামরত অবস্থায় লেজ ডানার বাইরে বেরিয়ে থাকে। ওড়ার সময় ডানার মধ্য পালকের প্রান্তে সুস্পষ্ট সাদা দাগ ও পালক ঢাকনিতে সাদা দাগ দেখা যায়। চোখ কালচে বাদামি। লম্বা ও সরু কালচে চঞ্চুর গোড়া ফ্যাকাশে। পা, পায়ের পাতা ও আঙুল হলুদাভ সবুজ। স্ত্রী-পুরুষের পালকের রঙে পার্থক্য নেই। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির কাঁধ-ঢাকনি ও ডানা-ঢাকনির ডোরা অতি সূক্ষ্ম। চ্যাগার সঙ্গে কাদাখোঁচার মূল পার্থক্য হলো কাদাখোঁচার চোখের ওপরের ভ্রুরেখা চিকন ও ফ্যাকাশে, লেজ লম্বা, ডানা চোখা এবং লেজের পালক ম্যাচের কাঠির মতো সুবিন্যস্ত নয়। 

কাদাখোঁচা শীতে পুরো দেশব্যাপী উপযুক্ত জলাভূমিতে বিচরণ করে। সচরাচর একাকী, জোড়ায় বা ছোট ছুটা দলে দেখা যায়। ভোরবেলা, সন্ধ্যায় ও পূর্ণিমা রাতে বেশি সক্রিয় থাকে। জলজ আগাছা ও ঝোপে আত্মগোপন করে থাকে। নরম কাদায় লম্বা চঞ্চুটি ঢুকিয়ে কেঁচো, কীটপতঙ্গের শুককীট, কাঁকড়া, চিংড়ি, অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী, জলজ বীজ ইত্যাদি খুঁজে খায়। নাকি সুরে ‘স্কায়াপ…’ শব্দে ডাকে।

ওদের প্রজনন এলাকা নরওয়ে থেকে পুরো ইউরোপ হয়ে দূরপ্রাচ্য, এমনকি আরও দূরের মধ্য মঙ্গোলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। জুন থেকে জুলাই প্রজননকাল। এ সময় প্রজনন এলাকার জলাভূমির কাছে মাটিতে ঘাস বা তৃণজাতীয় গাছের ভেতর ঘাস ও কাঠিকুটি বিছিয়ে বেশ গোপনে বাসা বানায়। তাই বাসা সহজে চোখে পড়ে না। ডিম পাড়ে ২ থেকে ৫টি, রঙ গাঢ় বাদামি ছিটছোপসহ জলপাই। ডিমে তা দেওয়ার মূল দায়িত্ব স্ত্রীই পালন করে। ডিম ফোটে ১৭ থেকে ২০ দিনে। তবে ছানাদের লালনপালনের দায়িত্ব স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সমানভাবে ভাগ করে নেয়। ছানারা ১০ থেকে ২০ দিনে উড়তে শিখে। তবে স্বাবলম্বী হতে আরও ১০ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। প্রজননক্ষম হয় প্রায় এক বছর বয়সে। আয়ুষ্কাল প্রায় পাঁচ বছর। 

  • লেখক : পাখি, বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ
শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০১৭১২০৩৩৭১৫ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা