মধ্যাঞ্চলীয় ব্যুরো
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:০৫ এএম
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১২:৩৪ পিএম
কৃষক সমাবেশে উপস্থিত কৃষক। প্রবা ফটো
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি বা পতিত না রাখার শপথ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার হাজারো কৃষক।
বুধবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পৌরসভার হ্যালিপ্যাড মাঠে বিশাল কৃষক সমাবেশে কয়েক হাজার কৃষককে এ শপথবাক্য পাঠ করান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।
শপথে সবাই প্রতিজ্ঞা করেন—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি বা পতিত রাখবেন না করিমগঞ্জের কৃষক। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্যশস্য উৎপাদন করে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ও সুখীসমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা ভূমিকা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার বসুর সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুস সাত্তার, জেলা কৃষক লীগ সভাপতি আহমেদ উল্লাহ, করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুল আলম সিদ্দিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নতুন করে সারা বিশ্বকে খাদ্য সংকটে ফেলেছে। সেই সংকট যেন আমাদের স্পর্শ করতে না পারে সেজন্যই প্রধানমন্ত্রী প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদ করার পরামর্শ দিয়েছেন। যেন নিজেদের খাদ্য আমরা নিজেরাই উৎপাদন করতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, করিমগঞ্জ শস্যভাণ্ডার। এখানে ধান, সবজি, মাছ উৎপাদন হয় যা এখানকার চাহিদা পূরণ করে অন্যত্র সরবরাহ করা হয়। অনাবাদি বা পতিত জমিতে শস্য উৎপাদনের মাধ্যমে এখানকার কৃষক অর্থনীতিতে আরও ভূমিকা রাখতে পারে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সুখী-সমৃদ্ধ ও ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অনবদ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন তারই একটি নির্দেশনা এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে আপনি, আমি সবাই বিশেষত আমাদের কৃষক ভাইয়েরা চেষ্টা করে যাব। আমি চাই এই করিমগঞ্জ উপজেলা থেকে ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যেই কৃষিতে বিপ্লব ঘটুক। এ কর্মসূচি সার্থক হবে যদি আমরা কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে পারি।’
তিনি এ কর্মসূচি সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সমাবেশে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহীনুল আলম।
শেষে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন কৃষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। আর ৭০ শতাংশ ভর্তুকিতে তিনজন কৃষককে তিনটি হারভেস্টার প্রদান করা হয়।
সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার কৃষক ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও জনপ্রতিনিধি অংশ নেন।