× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে দেড় লাখ কৃষকের ক্ষতি ৩৪৭ কোটি টাকা

শাখাওয়াত হোসাইন

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২২ ২০:০৭ পিএম

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২ ০০:২৬ এএম

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের। লালমনিরহাট থেকে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমন ধানের। লালমনিরহাট থেকে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩১ জেলার ১ লাখ ৫২ হাজার ২৩৪ জন কৃষক। তাদের ৩৪৭ কোটি ১৬ লাখ টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। ৩১ জেলার কৃষি অফিস এই তথ্য পাঠিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে। 

তবে গত সোমবার (২৪ অক্টোবর) বয়ে যাওয়া সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় কৃষিতে ক্ষতি কম হয়েছে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সিত্রাংয়ে আক্রান্ত ৩১ জেলায় ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯৬৪ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এই জমির মধ্যে ৮০ হাজার ৭৭৭ হেক্টর আমন ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিত্রাংয়ের সময় প্রবল বৃষ্টিতে কোনো কোনো জমি তলিয়ে গিয়েছিল। আবার কোনো কোনো জমির ধান পড়ে গেছিল। এ ছাড়া ওই সময় দেশের কোনো কোনো এলাকায় ধানের ফুল ছিল। প্রবল বৃষ্টি আর বাতাসে ফুল নষ্ট হয়েছে। অসময়ে ফুল পড়ে গেলে উৎপাদন কম হয়। 

এর বাইরে আক্রান্ত ৩১টি জেলায় ৮০ হাজার ৮০৭ হেক্টর জমিতে ছিল শীতকালীন ও অন্যান্য সবজি। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৯ হাজার ৩৩৬ হেক্টর সবজি ক্ষেতে প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টির কারণে পানি উঠে অনেক এলাকায় সবজি নষ্ট হয়েছে। আবার দুই-তিন দিন জমিতে পানি জমে থাকায় সবজি পঁচে গেছে কোনো কোনো এলাকায়। এ ছাড়া সবজির বীজতলা নষ্ট হয়েছে ৩১ জেলায়।  

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) বাদল চন্দ্র বিশ্বাস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিত্রাংয়ে ৩১ জেলা আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি উপকূলীয় এবং ১২টি উপকূলের বাইরের জেলা রয়েছে। মূলত বেশি প্রভাব পড়েছে ধান, সবজি ও সবজির বীজতলায়। তবে জমির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ক্ষতি অনেকটা কম হয়েছে।’ 

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে রবিবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয় উপকূলীয় জেলাগুলোতে। এই বৃষ্টির দাপট ছিল সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত। সঙ্গে ছিল বাতাসের তীব্রতা। এ ছাড়া এ সময় অমবশ্যা থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচুতে প্রবাহিত হয় জোয়ারের পানি। জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় ১৯ জেলার বিভিন্ন এলাকার লোকালয়ে পানি ঢুকে। ফলে ক্ষতি হয় ধান ও শীতকালীন সবজির। সিত্রাংয়ে আক্রান্ত ১৯ উপকূলীয় জেলা ছাড়াও আরো ১২টি জেলায় রূপা আমনের ক্ষতি হয়েছে। ১২ জেলার মধ্যে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, দিনাজপুর, নাটোর, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, কুমিল্লা, কুষ্টিয়া, মাগুরা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রয়েছে। তবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ধান ও সবজির বাইরে মৎস্য চাষীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৩০০ বিঘা জমিতে প্রবেশ করেছে লোনা পানি। এর প্রভাব পরবর্তী আরো তিন বছর মাটিতে থাকবে বলে জানান কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে সিত্রাংয়ের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করলেও তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোন ধরণের প্রণোদনা ঘোষণা করেনি সরকার। তবে সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেনজির আলম। 

তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে ক্ষতি অনেকটা কমেছে। তারপরও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কৃষকদের সহযোগিতা করার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় সব সময়। সিত্রাংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তবে এখনো কোন প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়নি।’

প্রবা/এইচকে

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা