× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সেচ সংকটে কাশাদহ প্রকল্পের কৃষকরা

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:০৮ পিএম

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম

সেচ সংকটে কাশাদহ প্রকল্পের কৃষকরা

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের যমুনা নদীতে চর পড়ায় সংকটে পড়েছেন আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্পের কৃষকরা। ইরি-বোরোর ভরা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সেচ সমস্যার সমাধান না করলে এবার চরমভাবে ব্যাহত হবে চাষাবাদ। সেচ প্রকল্পের পক্ষ থেকে দ্রুত চর কেটে ক্যানাল (খাল) তৈরি করে পানি সরবরাহের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। 

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, শিবালয়ের আরিচা খালপাড় এলাকায় যমুনা নদীর তীরে কাশাদহ সেচ প্রকল্পের পানির হাউসের সামনে নদীতে বিশাল আকারের চর জেগেছে। এতে সেচ প্রকল্পের পানির হাউস এলাকা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে সরে গেছে নদী। এখন হাউসের আশপাশে কোথাও পানি নেই। শুধু ধু-ধু বালুচর। চর কেটে ক্যানাল বের না করলে কোনোক্রমেই এ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর পানি দিয়ে এ বছর বোরো আবাদ করা সম্ভব নয় বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ সাল থেকে আরিচা কাশাদহ সেচ প্রকল্প চালু হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে যমুনা পাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে শিবালয় উপজেলার ১৪-১৫ গ্রামের কৃষিজমি সেচের ব্যবস্থা করা হয়। প্রকল্পের মাধ্যমে ২ হাজার কৃষক প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা জমিতে স্বল্প খরচে সেচ দিয়ে আসছেন। এতে একদিকে নদীর আয়রনমুক্ত পানি দেওয়ায় জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে, অপরদিকে সেচ খরচও অনেক সাশ্রয় হচ্ছে। 

পানির অপচয় রোধ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকল্পে সেচ প্রকল্পটি ২০০৪ সালে শিবালয় ক্ষুদ্র পানি ব্যবস্থপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সরকারিভাবে কয়েক দফায় প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে খালটি পুনঃখননসহ নির্মাণ করা হয় পাকা ড্রেন ও পানির হাউস। এবার নদীতে চর পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে পানির উৎস। সেচের অভাবে বোরো চাষ করতে না পারলে চরম খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের কৃষকরা।

ছোট আনুলিয়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘এই যমুনা নদীর পানি দিয়ে বোরো চাষ করতাম। কিন্তু এ বছর চর পড়ার কারণে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই চর কেটে পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে সেচ দিতে পারব না। আমাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

বড় আনুলিয়া গ্রামের কৃষক মকছেদ আলী বলেন, ‘৪০ বছর ধরে যমুনা নদীর পাড়ে পাম্প বসিয়ে সরাসরি নদীর পানি দিয়ে ইরি-বোরো চাষ করে আসছি। এতে জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে এবং সেচ খরচও অনেক কম হচ্ছে। এ বছর পানির হাউসের সামনে যে চর পড়েছে তা কেটে ক্যানাল না করলে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে বন্ধ হয়ে যাবে বোরো চাষ। আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব, এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।’

কাশাদহ সেচ প্রকল্পের সভাপতি মশিউর রহমান আওয়াল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এই সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পাম্পের সাহায্যে সরাসরি যমুনা নদী থেকে পানি তুলে বোরো ধানের আবাদ করে আসছি। এ বছর বিআইডব্লিউটিএ উজানে নদী খনন করে ড্রেজিংকৃত মাটি ফেলার কারণে পানির হাউসের সামনে যমুনা নদীতে বিশাল চর জেগেছে। এতে পানি তোলার পাম্প হাউস এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরে গেছে মূল নদী। এমতাবস্থায় চর না কাটলে এবার কোনোক্রমেই জমিতে সেচ দেওয়া যাবে না। এতে এলাকায় খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গো-খাদ্যেরও চরম সংকট দেখা দেবে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিকট আবেদন করা হয়েছে।’ 

জানতে চাইলে শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার বলেন, ‘সেচ সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং পরিষদের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা