চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২২ ২০:৩৮ পিএম
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২২ ১৬:২৫ পিএম
সিত্রাংয়ে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
আর এক থেকে দেড় মাস পরেই ফসল ঘরে তুলবে কৃষক। তবে তার আগেই ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট অতিবৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্নের সেই ফসল। বেড়িবাঁধ ভেঙে চট্টগ্রামে বাঁশখালী উপজেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে লোনা পানি প্রবেশ করেছে। এ ছাড়া অতিবৃষ্টিতে জেলায় ১ হাজার ৪৮২ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীসহ আক্রান্ত হয়েছে ১৫টি উপজেলার ৩৬৬ হেক্টর জমির সবজি।
বুধবার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ১ হাজার ৪৮২ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ থেকে ২৫০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে শেখেরখীল এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ফসলি জমিতে সমুদ্রের লোনা পানি ঢুকে যায়। এতে ওই এলাকায় প্রায় দেড়শ থেকে ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লোনা পানিতে সব ধানগাছ লাল হয়ে গেছে।’
অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলার ৩৬৬ হেক্টর সবজিক্ষেত আক্রান্ত হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ হয়েছে সেটি আমরা আরও কয়েক দিন পরে বলতে পারব।’
দুই দিন আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়
সিত্রাং। এর প্রভাবে আগের দিন রাত থেকে রাজধানী ঢাকাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের ১৫টি জেলায়
প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে অতিবৃষ্টি এসব জেলার ফসলের জমি নষ্ট হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সিত্রাংয়ের প্রভাবে সারা দেশে অন্তত ছয় হাজার জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এর মধ্যে শুধু চট্টগ্রামেই প্রায় ১ হাজার ৮৪৮ হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে।
কৃষকেরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ঝোড়ো বাতাসের কারণে জমিতে থাকা ধানগাছ হেলে মাটিতে পড়ে গেছে। এরপর অতিবৃষ্টিতে গাছগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। সবজিক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় সব সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, প্রাথমিকভাবে তারা ফসল আক্রান্তের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। যে পরিমাণ জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি তার অর্ধেকের বেশি হবে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার চট্টগ্রাম নগরীর পাশাপাশি জেলার ১৫টি উপজেলায় ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৮ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিত্রাংয়ের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ে ১ হাজার ৪৮২ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। ওই উপজেলার ৮০০ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া অন্যান্য উপজেলার মধ্যে মিরসরাই উপজেলায় ৬০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১৫০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৫০ হেক্টর, হাটহাজারীতে ৬০ হেক্টর, রাউজানে ৪৫ হেক্টর, রাঙ্গুনিয়ায় ৪৫ হেক্টর, বোয়ালখালীতে ৩৮ হেক্টর, পটিয়ায় ২০ হেক্টর, কর্ণফুলীতে ৭০ হেক্টর, আনোয়ারায় ৬০ হেক্টর, লোহাগাড়ায় ৪৯ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ১০ হেক্টর ও সন্দ্বীপে ২০ হেক্টর জমির আমন ধান আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানায় পাঁচ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামে ৩৬৪ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর তিনটি থানায় ১১ হেক্টর জমির সবজি আক্রান্ত হয়েছে। বাকি ১৫টি উপজেলায় ৩৫৩ হেক্টর জমির সবজি অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশি আক্রান্ত হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ওই উপজেলার ১৫০ হেক্টর জমির সবজি আক্রান্ত হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য উপজেলার মধ্যে মিরসরাই উপজেলায় ছয় হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৭০ হেক্টর, হাটহাজারীতে পাঁচ হেক্টর, রাউজানে সাত হেক্টর, রাঙ্গুনিয়ায় ১২ হেক্টর, বোয়ালখালীতে ২৫ হেক্টর, পটিয়ায় নয় হেক্টর, কর্ণফুলীতে আট হেক্টর, আনোয়ারায় ২৫ হেক্টর, লোহাগাড়ায় ৭৪ হেক্টর, সাতকানিয়ায় পাঁচ হেক্টর ও সন্দ্বীপে পাঁচ হেক্টর জমির সবজি আক্রান্ত হয়েছে।
প্রবা/এমআর/এমজে