বাকৃবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৭:০১ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩ ১৮:১১ পিএম
বাউ মিষ্টি আলু-৫ এর চারা ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। প্রবা ফটো
পুষ্টিগুণ বিবেচনায় ভাতের বিকল্প হিসেবে মিষ্টি আলু খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। পুষ্টির মধ্য ভিন্নতা আনতে হবে। সেটি যদি অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন আলু হয় তাহলে আরও ভালো।’
রবিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের খামারে ‘বাউ মিষ্টি’ আলুর চারা বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বাকৃবি উদ্ভাবিত বাউ মিষ্টি আলু-৫ এর চারা ময়মনসিংহ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অন্তত দেড়শ কৃষক এই চারা পেয়েছেন।
উপাচার্য বলেন, পুষ্টি বিবেচনায় মিষ্টি আলুতে শর্করার পরিমাণ ভাতের তুলনায় কম, প্রোটিনের পরিমাণ বেশি। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ফাইবার দরকার। যেটি ফল ও সবজির মধ্যে রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আলুর মধ্যে ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে যেখানে প্রতি ১০০ গ্রাম ভাতে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। একই পরিমাণ আলুতে ক্যালসিয়াম থাকে ৩৮ মিলিগ্রাম। অন্যদিকে ভাতে থাকে মাত্র ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।
বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম আরিফ হাসান খান রবিনের নেতৃত্বে একদল গবেষক বাউ মিষ্টিআলু-৫ জাতটি উদ্ভাবন করেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. আরিফ হাসান বলেন, বাউ মিষ্টি আলু-৫ উচ্চ ফলনশীল। এ জাতটি উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টর প্রতি ৩০ টনের বেশি ফলন দিতে সক্ষম। যেখানে সাধারণ আলু হেক্টর প্রতি ফলন দেয় ১০ দশমিক ২৫ টন। বাউ মিষ্টি আলু-৫ এর প্রতিটি গাছে ১ থেকে দেড় কেজি মিষ্টি আলু পাওয়া যায় । এ জাতটি থেকে ৯০ দিনেও মিষ্টি আলু তোলা সম্ভব। তবে ১০০ থেকে ১১০ দিন বয়সে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যায়। বাউ মিষ্টি আলু-৫ সারা বছর চাষযোগ্য। তবে রবি মৌসুমে এর ফলন সবচেয়ে বেশি।
অনুষ্ঠানে কৌলিতত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. জি এইচ. এম. সাগরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহফুজা বেগম, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) গবেষণা পরিচালক ড. মো আবদুল মালেক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ির অতিরিক্ত পরিচালক ড. সুশান্ত কুমার প্রামাণিক ও ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টারের (সিআইপি) কান্ট্রি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ড. দেবাশীষ চন্দ। বাউ মিষ্টি আলুর প্রধান গবেষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. এ.বিএম আরিফ হাসান খান রবিন।